শুক্রাণু তৈরি হতে কতদিন সময় লাগে
প্রিয় পাঠক বন্ধুগণ শুক্রাণু তৈরি হতে কতদিন সময় লাগে বিষয়ে আজকের আর্টিকেল লেখা শুরু করলাম। পুরুষের শুক্রানুর মান ও সংখ্যা ভালো থাকলে প্রজননের কোন সমস্যা হয় না।
শুক্রাণুর মান ও সংখ্যা ভালো রাখতে সর্বদা সচেতন থাকতে হবে। শুক্রানু বৃদ্ধির ব্যাপারে জানতে আজকের আর্টিকেলের সঙ্গে থাকুন।
ভূমিকা
আজকের আর্টিকেল শুক্রাণু তৈরি হতে কতদিন সময় লাগে। পুরুষের শুক্রাশয়ে শুক্রাণু উৎপাদন হয়। শুক্রাণু উৎপাদনের প্রক্রিয়াকে বলা হয় স্পার্মাটোজেনেসিস। পুরুষের অন্ডকোষে মিয়োসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় নতুন নতুন শুক্রাণু উৎপাদন হয়। শুক্রাণু উৎপাদন হতে মোটামুটি ৬৪ থেকে ৭০ দিন সময় লাগে।
আর ও পড়ুনঃ কোমর ব্যথার ঘরোয়া চিকিৎসা ব্যায়াম
এছাড়া শুক্রানু উৎপাদন চলমান প্রক্রিয়া। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ শুক্রানু অণ্ডকোষে তৈরি হয়। পুরুষের শরীরে প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০ মিলিয়ন শুক্রানু তৈরি হয়। এভাবে প্রতিদিন শুক্রানু উৎপন্ন হয়। এই শুক্রাণু গুলো প্রজনন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। প্রজনন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে স্বাস্থ্যসম্পন্ন শুক্রাণুর প্রয়োজন হয়। শুক্রাণু সম্পর্কে জানতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।
এক ফোটা বীর্যে কত ফোটা রক্ত থাকে
আজকের আর্টিকেল শুক্রাণু তৈরি হতে কতদিন সময় লাগে। আমরা জানি বীর্য তৈরি হতে রক্ত লাগে। সাধারণত ৬০ থেকে ৮০ ফোটা রক্তে এক ফোটা বীর্য তৈরি হয়। প্রকৃতপক্ষে বীর্য তৈরি হতে রক্তের প্রয়োজন হয় না। এই ধারণাটি আমাদের মধ্যে রয়েছে যা ভুল। আবার অনেকে মনে করেন ব্রিজের মধ্যে প্রচুর প্রোটিন ও বিভিন্ন ধরনের ধাতু রয়েছে।
এ কথাটাও অনেকটাই ভুল। তড়িৎ প্রতিটি পুরুষ মানুষের দুইটি করে অণ্ডকোষ রয়েছে। এই অন্ডকোষের ভিতরে প্যাচানো নলের মত ক্ষুদ্রান্ত রয়েছে যাকে বলা হয় সেমিনিফেরাস টিওবল। এখানে মূলত বীর্য উৎপন্ন হয়। এক কথায় বলা যেতে পারে দুটি অন্ডকোষ বীর্য উৎপাদনের কারখানা। দুটি অন্ডকোষে প্রতি মাসে প্রায় ১০ কোটি শুক্রাণু তৈরি হয়।
বীর্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় সেখানে মূলত ফ্রুক্টোজ, জিংক, পটাশিয়াম, ভিটামিন বি১২ এবং আরো বিভিন্ন পদার্থ রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে বীর্যের মূল উপাদান হলো 23 জোড়া ক্রোমোজোম। রক্ত কোষ সহ মানবদের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া ক্রোমোজোম থাকে। এই ২৩ জোড়া ক্রোমোজোম মানব তৈরীর অস্তিত্ব ঠিক রাখে।
প্রকৃতপক্ষে ৬০ থেকে ৮০ ফোটা রক্তে বীর্য তৈরি হয় এটা যদি ঠিক থাকতো তাহলে শরীরের রক্তের ঘাটতি দেখা যেত। সব সময় বীর্যকে পুরুষের প্রধান শক্তি মনে করা হয়। বর্তমান আমাদের জীবনধারার কারণে আস্তে আস্তে পুরুষের বীর্যের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।
এগুলো থেকে উত্তোলনের জন্য ফ্রুক্টোজ, জিংক, পটাশিয়াম, ও ভিটামিন বি ১২ জাতীয় খাবার সহ জীবনমান উন্নত করতে হবে। তাহলেই পূর্বের বীর্যের পরিমাণ ঠিক থাকবে।
শুক্রাণু তৈরি হতে কতদিন সময় লাগে
সুপ্রিয় পাঠক বৃন্দ আসুন জেনে নিই শুক্রাণু তৈরি হতে কতদিন সময় লাগে। পুরুষ প্রজনন ক্ষেত্রে ক্ষমতার প্রধান বাহক হল শুক্রাণ। শুক্রাণুর পরিমাণ ও মান বজায় রাখতে শরীরের স্বাস্থ্য ও হরমোনের ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন। শরীরের শুক্রানু তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়াকে স্পার্মাটোজনেসিস বলা হয়।
আর ও পড়ুনঃ শারীরিক গঠন দেখে মেয়ে চেনার উপায়
স্পার্মাটো জেনেসিস প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সাধারণত ৬৪ থেকে ৭২ দিন সময় লাগতে পারে। তবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার জন্য টেস্টিস হরমোন এবং সঠিক তাপমাত্রার ভূমিকা অন্যতম। সাধারণত অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের মাধ্যমে শুক্রাণু উৎপাদনের সমস্যা হতে পারে। ফার্মাটো জেনেছিস প্রক্রিয়াটি মূলত টেস্টিসে ঘটে।
কার্মাটো জেনেসিস প্রক্রিয়াটি স্বাস্থ্যকর এবং কার্যকর শুক্রাণু উৎপাদনের মাধ্যম। এই জটিল প্রক্রিয়াটি শারীরিক স্বাস্থ্য জীবনযাত্রার মান ও খাদ্য অভ্যাসের উপর নির্ভর করে। এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে প্রায় ৬৪ থেকে ৭২ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। শুক্রাণু উৎপাদন প্রক্রিয়া ক্রমবর্ধমান। সব সময় এই প্রক্রিয়াটি চলতে থাকে থেমে যায় না।
শুক্রাণু উৎপাদন প্রক্রিয়া প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি সহ শারীরিক সকল কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে। প্রথম ধাপে মাদ্রাসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে শুক্রাণুবিবাহিত হয়ে নতুন কোষ তৈরি করে। দ্বিতীয় ধাপে মিয়োসিস পদ্ধতিতে ক্রোমোজোমের হাঁস ঘটে দিনে অর্ধেক হয়ে যায় এবং প্রজননের নতুন জিনগত বৈচিত্র নিশ্চিত করে।
তৃতীয় ধাপে শুক্রানুগুলো পরিপক্কতা অর্জন করে চলাচলের সক্ষমতা অর্জন করে। এই তিন প্রক্রিয়ায় একটি পরিপূর্ণ শুক্রাণু তৈরি হয়ে প্রজনন কাজে অংশগ্রহণ করে। সাধারণত শুক্রাণু তৈরীর এই প্রক্রিয়ার ধাপগুলো সম্পন্ন হয়ে পরিপূর্ণ শুক্রাণুতে প্রণীত হতে 64 থেকে 72 দিন পর্যন্ত সময় লাগে। এত সময় লাগার পরেও প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ শুক্রানু তৈরি হয়।
শুক্রাণু তৈরি হওয়া ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। সুস্থ সবল পুরুষদের শরীরে প্রতিদিন 50 থেকে 100 মিলিয়ন শুক্রানু তৈরি হয়। তবে এই শুক্রাণু তৈরির প্রক্রিয়াটির কর্মক্ষমতা সঠিক খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক কার্যকলাপ, মানসিক স্বাস্থ্য, এর উপর নির্ভর করে।
দ্রুত শুক্রাণু বৃদ্ধি পাবে এই ৮টি খাবার খেলে
আজকের আর্টিকেল শুক্রাণু তৈরি হতে কতদিন সময় লাগে। বর্তমানে পুরুষদের অন্যতম গোপন সমস্যা হল যৌন সমস্যা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী শতকরা 20 ভাগ পুরুষ শুক্রাণুর সমস্যায় ভোগেন। সাধারণত বিভিন্ন কাজের চাপ মানসিক চাপ অশ্বাস্থ্যকর জীবনধারণ ও ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে পুরুষদের এই সমস্যা আস্তে আস্তে মারাত্মক আকার ধারণ করতেছে।
তবে স্বাস্থ্যকর পরিবেশের জীবন যাপন ও স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার মাধ্যমে এগুলো সমস্যা থেকে উত্তরণ করা সম্ভব। দ্রুত শুক্রানু বৃদ্ধির আটটি খাবারের ব্যাপারে আলোচনা করা হলো।
কুমড়ো বিজয় খাওয়ার মাধ্যমেঃ কুমড়ো বিজে পর্যাপ্ত পরিমাণ এন্টিঅক্সিডেন্ট ও বিভিন্ন খাদ্য উপাদান রয়েছে যা টেস্টোস্টেরন হরমোন বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। এছাড়া কুমড়ো ব্রিজে পর্যাপ্ত পরিমাণ বি12 ক্যালসিয়াম ম্যাগনেসিয়াম ড্রিঙ্ক পটাশিয়াম ইত্যাদি উপাদান বিদ্যমান যা শুক্রানুর বৃদ্ধিতে সরাসরি ভূমিকা রাখে।
পুরুষের শুক্রানু বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত কাঁচা কুমড়ো বীজ খাওয়া যেতে পারে। এছাড়াও কুমড়া বিজ ভেজে খাওয়া যেতে পারে।
ডাল খাওয়ার মাধ্যমেঃ ডালে পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রোটিন ও ফলিক এসিড বিদ্যমান। ডাল খাওয়ার মাধ্যমে টেস্টোস্টেরন হরমোন বৃদ্ধি পায়। এছাড়া ডালে পর্যাপ্ত পরিমাণ জিংক রয়েছে। পুরুষের শুক্রানু বৃদ্ধিতে নিয়মিত ডাল খাওয়া যেতে পারে।
ঝিনুক খাওয়ার মাধ্যমেঃ শত বছর পূর্ব থেকে পুরুষের যৌন সমস্যা বৃদ্ধি ও শুক্রাণু বৃদ্ধির জন্য ঝিনুক খাওয়া হয়ে আসতেছে। ঝিনুক খাওয়ার মাধ্যমে সেক্সের ইচ্ছা শক্তি বৃদ্ধি হয় এবং জনসক্তি বৃদ্ধি হয়। ঝিনুকে পর্যাপ্ত জিঙ্ক রয়েছে যা টেস্টোস্টেরেন ও হরমোন বৃদ্ধি করে। পুরুষের শুক্রানু বৃদ্ধিতে জিংক সরাসরি ভূমিকা রাখে। এজন্য নিয়মিত ঝিনুক খাওয়ার মাধ্যমে শুক্রাণু বৃদ্ধি হয়।
আনার খাওয়ার মাধ্যমেঃ পুরুষের শুক্রানু বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত আনার খাওয়া যেতে পারে। আনারে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন সি, ও জিংক, রয়েছে। নিয়মিত আনার খাওয়ার মাধ্যমে শরীরের টেস্টোস্টোরেন হরমোন বৃদ্ধি পায়। যার কারণে শুক্রাণুর কাজ ও সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
কালো চকলেট খাওয়ার মাধ্যমেঃ কালো চকলেট খাওয়ার মাধ্যমে পুরুষের শুক্রানুর সংখ্যা ও মান বৃদ্ধি পায়। এমাইনো অ্যাসিড এল আরজিন সমৃদ্ধ কালো চকলেট। গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত কালো চকলেট খাওয়ার মাধ্যমে শুকনো শুক্রানুর মাত্রা ও পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
কালো চকেটে পর্যাপ্ত পরিমান আন্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে যা শরীরের ফ্রি রেডিকেল এর সঙ্গে লড়াই করে শরীরকে সুস্থ রাখে। প্রতিদিন একটি করে চকলেট খেলে শুক্রানুর মান ও সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
রসুন খাওয়ার মাধ্যমেঃ নিয়মিত রসুন খাওয়ার মাধ্যমে পুরুষের শুক্রানুর সংখ্যা ও মান বৃদ্ধি পায়। রসুনের পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট জিংক ও পটাশিয়াম রয়েছে। নিয়মিত রসুন খাওয়ার ফলে কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেম এর স্বাস্থ্য ভালো রাখে। প্রতিদিন ঘুমানোর সময় দুই তিন কো আর রসুন মধুর সঙ্গে মিশ্রিত করে খেলে শুক্রান মান ও সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
দুধ ও মধু খাওয়ার মাধ্যমেঃ দুধ ও মধু খাওয়ার মাধ্যমে শুক্রানুর সংখ্যা ও মান বৃদ্ধি পায়। এক্ষেত্রে প্রতিদিন ঘুমানোর আগে এক গ্লাস দুধে দুই চামচ মধু মিশিয়ে নিয়মিত খাওয়া যেতে পারে। নিয়মিত দুধের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে শুক্রানুর সংখ্যা ও মান বৃদ্ধি পায়।
টমেটো খাওয়ার মাধ্যমেঃ টমেটোর মধ্যে রয়েছে লাইকোপেন। এছাড়া টমেটোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি রয়েছে। নিয়মিত টমেটো খাওয়ার মাধ্যমে পুরুষের শুক্রাণুর মান ও সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
শুক্রাণুতে বৃদ্ধি করার ঘরোয়া উপায়
আজকের আর্টিকেল শুক্রাণু তৈরি হতে কতদিন সময় লাগে। বর্তমানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার মাধ্যমে পুরুষের শুক্রানুর সংখ্যা আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে। কানুর মান ও সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন নিয়ম ও খাদ্যের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। শুক্রানু বৃদ্ধি করার ঘরোয়া উপায় গুলো আলোচনা করা হলো।
আর ও পড়ুনঃ পা ফোলা কমানোর ঘরোয়া উপায়
স্বাস্থ্যকর খাদ্য তালিকায় রাখতে হবেঃ খাবারের তালিকায় স্যাচুরেটৈড ফ্যাটিঅ্যাসিড, প্রোটিন ও বিভিন্ন খনিজ পদার্থ জাতীয় খাবার রাখা প্রয়োজন। এছাড়া সুষম খাদ্য, এন্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন খনিজ জাতীয় খাদ্য খাবারের তালিকায় রাখতে হবে। এগুলো খাবার খাবারের তালিকা রাখলে শুক্রাণুর মান ও সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
এক্ষেত্রে বেরি, পালং শাক, ব্রকলি, আখরোট, কুমড়ার বীজ, ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে। চরবিহীন প্রোটিন যেমন সেমন মাছ মুরগির মাংস এবং সামগ্রিক মাছ খাওয়ার মাধ্যমে শুক্রানো মান ও সংখ্যা বৃদ্ধি হয়।
পরিপূরক খাদ্য গ্রহণ করতে হবেঃ জেন ভিটামিন এবং কো এনজাইম জাতীয় পরিপূরক খাদ্য খাওয়ার মাধ্যমে সংখ্যা ও মানব বৃদ্ধি করা যায় যেগুলো পুরুষদের শুক্রানুর মান ও সংখ্যা কম তাদের এগুলো পুষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়া প্রয়োজন।
নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবেঃ শারীরিক স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখতে স্বাস্থ্যকর ওজন রাখতে হবে। ওজন বৃদ্ধি হলে টেস্টোস্টোরেন হরমোন কমে যায়। শারীরিক ওজন এবং ফিটনেস ধরে রাখতে নিয়মিত বিভিন্ন প্রকার ব্যায়াম করতে হবে। ব্যায়াম করার মাধ্যমে শারীরিক ফিটনেস ভালো থাকে এবং মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে। নিয়মিত ব্যায়াম করার মাধ্যমে শুক্রাণু মান সংখ্যা বৃদ্ধি হয়।
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে হবেঃ মানসিক অস্বস্তির মধ্যে থাকলে অক্সিডেটিভ ষ্ট্রেস সৃষ্টি হয় যা শুক্রানু বৃদ্ধির জন্য বড় বাধা। বিভিন্ন কৌশল এর মাধ্যমে ধ্যান, যোগশাস্ত্র, বা গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস, এর মাধ্যমে মানসিক চাপ কমানো যায়। মানসিক চাপ কমলে শরীরের টেস্টোস্টেরন হরমোন বৃদ্ধি পায় এবং শুক্রানুর মান ও সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
ক্ষতিকর পদার্থ এড়িয়ে চলতে হবেঃ সাধারণত ধূমপান ও অ্যালকোহল পানের কারণে শুক্রাণু বৃদ্ধিতে বাধা প্রাপ্ত হয়। এইজন্য সর্বদা ধূমপান ও অ্যালকোহল পান থেকে বিরত থাকতে হবে। এছাড়াও গাঁজা ফেনসিডিল হিরোইন ইত্যাদি এড়িয়ে চলতে হবে। এগুলো ক্ষতিকর পদার্থ এড়িয়ে চললে শুক্রাণুর সংখ্যা ও মান বৃদ্ধি পাবে।
পর্যাপ্ত ঘুমানোঃ শরীরের স্বাস্থ্য ও মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজন। এক্ষেত্রে পাঁচ থেকে সাত ঘন্টা পর্যন্ত ঘুমানো যেতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুমের কারণে শরীরের টেস্টোস্টেরন হরমোন পায়। এছাড়া পর্যাপ্ত ঘুমের কারণে শরীরের বিপাকক্রিয়া বৃদ্ধি পায় এবং শুক্রানুর মান ও সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
অতিরিক্ত তাপ থেকে দূরে থাকুনঃ অতিরিক্ত তাপের কারণে অন্ডকোষের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় যার কারণে শুক্রাণুর উৎপাদন এর উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যার কারণে অত্যাধিক তাপমাত্রা হলে ওদের বাহির না হয়ে ছায়ায় থাকতে হবে। অতিরিক্ত তাপমাত্রা থেকে বেঁচে থাকতে পারলে শুক্রানো মান ও সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
ঢিলে ঢালা পোশাক পরিধান করাঃ সর্বদা ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করলে অন্ডকোষ চাপ লাগে না। এছাড়া পোশাক পরলে শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি হয় না। পোশাক পরিধানের মাধ্যমে সহজ হয় এবং মানসিকভাবে সুস্থ থাকা যায়। জন্য শুক্রাণুর মান ও সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য ঢেলে ঢেলা পোশাক বেছে নিতে হবে।
স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখাঃ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ যেমন বিভিন্ন কীটনাশক বা প্লাস্টিক পোড়ানো অথবা বিষাক্ত পদার্থ এলাকায় বসবাস করার মাধ্যমে শুক্রানুর মান ও সংখ্যা কমতে থাকে। যার কারণে বসবাসের ক্ষেত্রেও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং বায়ুমন্ডলের দূষণ কমানোর জায়গায় বসবাসের চেষ্টা করতে হবে। স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাসের মাধ্যমে শুক্রানো মানব সংখ্যা বৃদ্ধি করা সম্ভব।
সমস্যা হলে তাড়াতাড়ি চিকিৎসা করাঃ বিভিন্ন ধরনের অসুস্থতা যেমন শুক্র নালীর শিরায় টিউমার, অথবা অণ্ডকোষের বিভিন্ন জায়গায় টিউমার, বিভিন্ন রকম সংক্রমণ, ও হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে শুক্রাণুর সংখ্যা ও মান কমতে থাকে।
যার কারণে এগুলো অসুস্থতা থাকলে খুব তাড়াতাড়ি চিকিৎসা করতে হবে। এগুলো রোগের চিকিৎসার মাধ্যমে শুকানোর মান ও সংখ্যা বৃদ্ধি করা সম্ভব।
পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবেঃ শারীরিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। পর্যাপ্ত পানি পান করার মাধ্যমে শরীর হাইড্রেট থাকে এবং শারীরিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে। পানি পান করার মাধ্যমে শুক্রাণুর সংখ্যা ও মান বৃদ্ধি করা যায়।
লেখকের মন্তব্য
সুপ্রিয় পাঠক বৃন্দ শুক্রাণু তৈরি হতে কতদিন সময় লাগে বিষয়ের উপর লেখা শেষ করলাম। মানুষের শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক সুস্থতা ভালো থাকলে শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। একজন পুরুষের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুক্রাণুর মান ও সংখ্যা এর ভারসাম্য ঠিক থাকে। প্রজননের প্রধান বাহন হলো শুক্রানু।
শুক্রাণুর মান ভালো থাকার জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া প্রয়োজন। অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার মাধ্যমে শুক্রানুর মান ও সংখ্যা কমে যায়। শুক্রানু বৃদ্ধির বিষয়ে আজকের আর্টিকেলে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আশা করি আপনাদের ভাল লাগবে। কোনকিছু জানার থাকলে কমেন্টে জানাবেন। ভাল লাগলে বন্ধুদের মাঝে লাইক, কমেন্ট, ও শেয়ার, করবেন।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url