স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধির ১৫টি উপায়

সুপ্রিয় পাঠক বৃন্দ স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধির ১৫টি উপায় বিষয়ে আজকের আর্টিকেল লিখতে বসলাম। আরো লেখা হবে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম। স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির খাবার। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিশক্তি লোপ পেতে থাকে। স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়ার কারণে আমাদের বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হয়।
বয়স বৃদ্ধি পাওয়ার পরেও কিছু নিয়ম ও খাবার খাওয়ার মাধ্যমে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করা যায়। স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির নিয়ম গুলো জানতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।

ভূমিকা

আজকের আর্টিকেল স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধির ১৫টি উপায়। মস্তিষ্ক আমাদের দেহের অঙ্গ গুলির মধ্যে অন্যতম অঙ্গ। মস্তিষ্ক থেকে সমস্ত শরীর পরিচালিত হয়। যার কারণে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করার প্রয়োজন। মস্তিষ্কের অঙ্গানু গুলো প্রায় ৭৫ ভাগ পানি দ্বারা গঠিত। এছাড়াও দেহের খাদ্য গ্রহণের ২০ ভাগ পুষ্টি মস্তিষ্ক গঠনে ভূমিকা রাখে।
মস্তিষ্কের অন্যতম উপাদান মগজ। মগজের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধির কারণেই স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি হয়। যেহেতু মস্তিষ্ক গঠনে পর্যাপ্ত পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন হয়। মস্তিষ্ক গঠনের জন্য কিছু নিয়ম ও পুষ্টি উপাদান সম্পর্কে আজকের আর্টিকেল লেখা হয়েছে। স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির সম্পর্কে জানতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।

স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম

আমরা যা বারবার করি মস্তিষ্ক সেগুলো স্মৃতি হিসেবে ধারণ করে। নতুন কোন কাজ করার ক্ষেত্রে মস্তিষ্ক সেই কাজ করার সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকে। যার কারণে মস্তিষ্ক স্মৃতিশক্তি ধারণ করতে যেয়ে মস্তিষ্কের কিছু ক্ষয় হয়।

মস্তিষ্কের এই ক্ষয় খাবার ও নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম পালনের মাধ্যমে পূরণ হয়। আজকের আর্টিকেল স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধির ১৫টি উপায়। স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির ব্যায়ামগুলো আলোচনা করা হলো।

মস্তিষ্ক সবসময় সজাগ রাখাঃ নতুন অভিজ্ঞতা শারীরিক অনুভূতি কোন কিছু শোনা অথবা দেখা মুখের স্বাদ নেওয়া গন্ধ নেওয়া এবং কোন কিছু স্পর্শ করা মানসিক অনুভূতি মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশগুলির মধ্যে সংযোগ সৃষ্টি করে। নার্ভ কোষ মস্তিষ্কের পুষ্টি উৎপাদন করে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির সাথে সাহায্য করে।

বাম হাত দিয়ে দাঁত ব্রাশ করাঃ সাধারণত ব্রাশ অথবা যে কোন কাজ ডান হাত দিয়ে করি। ডান দিক দিয়ে ব্রাশ করার ফলে মস্তিষ্কের ডান অংশ বেশি অনুভূতিশীল হয়। এভাবে বাম হাতে ব্রাশ করলে মস্তিষ্কের বাম দিকে বেশি অনুভূতিশীল হবে।

কোন লোক ডান হাতে ব্রাশ করেন তাদের বাম হাত দিয়ে ব্রাশ করা প্রয়োজন। যেগুলো লোক বাম হাতে ব্রাশ করেন তাদের ডান হাত দিয়ে ব্রাশ করা প্রয়োজন। দুই দিক দিয়ে ব্রাশ করার ফলে মস্তিষ্কের দুই দিকে সমান অনুভূতিশীল হয়।

চোখ বন্ধ করে গোসল করাঃ গোসল করার সময় আমাদের হাত দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ বিন্যাস করে পর্যবেক্ষণ করি। তবে এগুলো অঙ্গবিন্যাস আমরা দেখতে পাই না। ঠিক অনুরূপভাবে চোখ বন্ধ করে আমাদের গোসল করা প্রয়োজন। যাতে নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি হয়।

নিয়মিত কার্যক্রম পরিবর্তন করাঃ আমরা নিয়মিতভাবে যেগুলো কাজ করি মস্তিষ্ক সেই কাজগুলো নির্দেশনা দেয়। আমরা নিয়মতান্ত্রিক যে কাজ করি সে কাজের পরিবর্তন আনা দরকার। যার কারনে নিয়মিত কাজের বিপরীতে নতুন কিছু কাজ করার ফলে মস্তিষ্ক সেই অভিজ্ঞতা প্রদান করে।

পরিচিত বস্তুগুলো উল্টে রাখুনঃ আমরা যখন কোন কিছু দেখি তখন মস্তিষ্ক দেখা অংশে কম সাড়া দেয়। যার কারনে এগুলো বস্তু উল্টিয়ে রাখলে মস্তিষ্কের নতুন অভিজ্ঞতা প্রদানে সাড়া দেয়।

ডাইনিং টেবিলের শেয়ার পরিবর্তন করাঃ প্রত্যেকটা পরিবারের জন্য খাবারের চেয়ার আলাদা আলাদা থাকে। যে চেয়ারে বসে খাবার খাওয়া যায়। তবে চেয়ার গুলো পরস্পর পরিবর্তন করে রাখলে মস্তিষ্কের নতুন অনুভূতি জাগ্রত হয়।

গাড়ি চালানোর সময় জানালা খুলে দিনঃ গাড়ি চালানোর কারণে সবসময় মস্তিষ্ক একই রকম গন্ধ পাই। এক্ষেত্রে গাড়ি চালানোর সময় জানালা ছেড়ে দিলে বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন রকম গন্ধ ও শব্দগুলো মস্তিষ্ক গ্রহণ করতে পারে। যার কারণে মস্তিষ্কের বিকাশ ভালো হয়।

দলবদ্ধ হয়ে ছবি আকুনঃ ছবি আকার মাধ্যমে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ জাগ্রত হয়। যার কারণে সবাই দলবদ্ধ ভাবে ছবি আঁকার কারণে মস্তিষ্কের নতুন নতুন চিন্তা আসে। আর এই নতুন নতুন চিন্তা আসার কারণে মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তি পুনর্জীবিত হয়।

ভিন্নভাবে পড়াঃ আমরা সাধারণত নিরবে পড়ি। চুপি চুপি পড়তে গিয়ে হঠাৎ করে জোরে পড়া প্রয়োজন। বসে বসে পড়তে হবে। মাঝে মাঝে দাঁড়িয়ে পড়া যেতে পারে। বিভিন্ন ভঙ্গিতে পড়ার কারণে মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তি নতুন প্রাণ পায়।

নিজে নিজে কথা বলাঃ নিজে নিজে কথা বলা অনেক সময় পাগলামি মনে হলেও নিজে নিজে কথা বলার মাধ্যমে মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তি বেশ উন্নত হয়।

ছক কেটে অনুশীলন করাঃ বিভিন্নভাবে ছক করে উক্ত ছকে বিভিন্ন সংখ্যা বসানোর মাধ্যমে মগজের অনেক উপকার হয়। নতুন নতুন ছক করে সংখ্যা বসানোর মাধ্যমে শুধু মগজের গতি বৃদ্ধি হয় তা নয় বরং স্মৃতিশক্তিকে ঝালিয়ে তুলে।

খাবার ও শরীরচর্চাঃ খাবার ও শরীরচর্চার মাধ্যমে মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি হয়। নিয়মিত খাবারের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদিন কমপক্ষে ১৫ মিনিট শরীর চর্চা করুন। এই শরীর চর্চার কারণে মস্তিষ্কের নতুন নতুন স্মৃতিশক্তির উদ্ভব হয়।

গণিত চর্চাঃ মস্তিষ্কের ব্যায়ামের জন্য নিয়মিত গণিত চর্চা করুন। চর্চার মাধ্যমে মস্তিষ্কের নতুন নতুন স্মৃতিশক্তির উদ্ভব হবে। গণিত চর্চার মাধ্যমে নতুন নতুন বুদ্ধির প্রয়োজন। গণিত চর্চার মাধ্যমে মস্তিষ্কের পরিপূর্ণ ব্যায়াম হয়

স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধির ১৫টি উপায়

স্মৃতিশক্তি বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কমে যায়। এছাড়াও দীর্ঘদিন স্মৃতিশক্তি ব্যবহারের কারণে আস্তে আস্তে ক্ষয় হয়। তবে এই ক্ষয় পূরণ করা সম্ভব। কিছু নিয়ম ও ব্যায়াম এর মাধ্যমে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতে পারি। স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধির ১৫টি উপায়।
ব্যায়ামঃ শরীরচর্চার মাধ্যমে মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তির উন্নতি ঘটে। ব্যায়ামের মাধ্যমে মস্তিষ্কের দুটি কোষের নিউরনের মধ্যে স্নায়বিক বৈদ্যুতিক স্পন্দন আদান-প্রদান বেড়ে যায়। যার কারণে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।

এছাড়াও ব্যায়াম এর মাধ্যমে শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বাহির হয়ে যায় এবং শরীর নতুন অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে। যার কারণে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি হয় এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি হয়।

চলতি পথে মুখস্ত করাঃ গবেষণায় প্রমাণিত চলতি পথে মুখস্থ করার কারণে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি হয়। বিশেষ করে অভিনেতারা নতুন নতুন ভাষা শিখে নিজেরাই বিভিন্ন অভিনয় করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। হাঁটতে হাঁটতে নতুন কিছু মুখস্ত করা বা অধ্যায়ন করার কারণে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি হয়।

স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়াঃ স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার মাধ্যমে যে পরিমাণ শর্করা ও শক্তি উৎপন্ন হয় তার ২০ভাগ সরাসরি মস্তিষ্কে যায়। শরীরে সঠিক খাবার না খেলে শক্তি ও গ্লুকোজ এর ভারসাম্য না থাকলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যায় এবং সবকিছু দেখতে কুয়াশার মতো মনে হয়। যার কারণে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া প্রয়োজন

বিরতি গ্রহণ করুনঃ সব সময় আমাদের কিছু চাপ থাকা প্রয়োজন যা আমাদের জরুরি অবস্থায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাতে সহায়তা করে। এক ধরনের চাপের কারনে কর্টিসল নামে হরমোন নিঃসরণ করে, যা সাময়িকভাবে আমাদেরকে উজ্জীবিত করে এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

সবসময়ই মস্তিষ্কের উপর চাপ না দিয়ে মাঝে মাঝে বিশ্রাম নিয়ে ঘুরে ফিরে বেড়ানো প্রয়োজন। এক্ষেত্রে বাগানে ঘুরতে পারেন অথবা পানিতে খেলা করতে পারেন অর্থাৎ যেটি মনে চায় সেটি করবেন। এই বিশ্রামের কারণে স্মৃতিশক্তির ঘাটতি গুলো পূরণ হয়।

নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করুনঃ মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির জন্য নতুন নতুন কিছু শেখার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করুন। এই ক্ষেত্রে ক্লাসের সময় কিছু বাড়িয়ে নতুন নতুন শিক্ষা প্রদান। নতুন নতুন সাময়ীকি দেখে নতুন নতুন শিক্ষা গ্রহণ। এগুলো কাজ করার মাধ্যমে মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি হয়।

গান শুনুনঃ সংগীত মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকর। পাঠ্যবই অধ্যায়ন অথবা বিভিন্ন কিছু নিয়ে চিন্তা করার মাঝখানে কিছু বিরতি দিয়ে সংগীত শুনুন। সংগীত সোনার মাধ্যমে মানসিক দিক অনেক প্রফুল্ল হবে। সঙ্গীত সোনার মাধ্যমে মানসিক বোধশক্তি ও স্মৃতিশক্তি অত্যন্ত শক্তিশালী হয়। এজন্য গান শুনুন অথবা নিজে গান করুন।

বই পড়া ও ঘুমঃ নিয়মিত বই পড়ুন। দিনের বেলায় বই পড়লে মস্তিষ্কের নার্ভ গুলোর মধ্যে এক ধরনের সংযোগ স্থাপিত হয়। এছাড়াও নিয়মিত বই পড়ার মাধ্যমে নতুন নতুন শিক্ষা লাভ করা যায় ও মস্তিষ্কের শক্তি বৃদ্ধি হয়। এছাড়াও বই পড়ার সঙ্গে সঙ্গে পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজন। এ কারণে মস্তিষ্কের নার্ভ গুলো অনেক শক্তিশালী হয়। নিয়মিত ঘুমানোর ফলে স্মৃতিশক্তি অনেক গুণ বৃদ্ধি পায়।

ভালোভাবে জেগে উঠুনঃ মস্তিষ্ক ঠান্ডা ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করার জন্য যেমন ঘুম প্রয়োজন। তেমনি ঘুম থেকে আস্তে আস্তে জেগে ওঠা প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে ঘুম থেকে উঠার জন্য এলারাম ব্যবহার করতে পারেন।

আস্তে আস্তে ঘুম ভেঙ্গে শরীর ঝরঝরে অবস্থায় উঠতে পারলে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি হয়। হঠাৎ করে ঘুম থেকে জাগানো হলে ব্রেনের উপরে আঘাত পড়ে। এইজন্য নিয়মিত ঘুমের পরে আস্তে আস্তে স্বাস্থ্যকর অবস্থায় ঘুম থেকে জেগে ওঠা প্রয়োজন।

মেমরি এইড ব্যবহারঃ ক্যালেন্ডার বিভিন্ন তালিকা ও পরিকল্পনা গ্রহণের মেমোরি স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির জন্য কাজ করে। প্রত্যহ কোন কিছু ভুলে যাওয়া বিষয়গুলো এগুলো ডিভাইসের মাধ্যমে মনে রাখার সম্ভব হয়। স্মার্টফোন কম্পিউটার এর মাধ্যমে আমরা অনেক ভুলে যাওয়া বিষয়গুলো স্মরণ রাখতে পারি। এইজন্য মেমোরি এর ব্যবহারের মাধ্যমেও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করা যায়।

সামাজিকভাবে সক্রিয় থাকাঃ বন্ধু পরিবার ও প্রতিবেশীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করাতেও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়। অপরের সঙ্গে মনের ভাব আদান-প্রদান এবং বিভিন্ন গবেষণা নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধি হয়। পরস্পরের মাধ্যমে জ্ঞানের বিষয়গুলো আলোচনা করার মাধ্যমে নতুন নতুন কিছু জ্ঞান অর্জন করা যায়। জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে ও স্মৃতিশক্তি অনেকটাই বৃদ্ধি হয়।

শরীর হাইড্রেট রাখুনঃ মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য শরীর সবসময় হাইড্রেট থাকা প্রয়োজন। মস্তিষ্কের প্রায় ৭৫ ভাগ পানি দ্বারা গঠিত। শরীরে পানি ঘাটতি থাকলে মস্তিষ্ক পানি ঘাটতির পরিমাণ বেড়ে যায়। যার কারণে প্রতিদিন তিন থেকে চার লিটার পানি পান করা প্রয়োজন। পানি পানের মাধ্যমে শরীর হাইড্রেট থাকে এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

মস্তিষ্কে অতিরিক্ত চাপ না ফেলাঃ মস্তিষ্কের একটি নিজস্ব গ্রহণ ক্ষমতা রয়েছে। মস্তিষ্কে এর চাইতে বেশি চাপ প্রয়োগ করলে স্মৃতিশক্তি ক্ষয় হয়। ছাত্র-ছাত্রীদেরকে লক্ষ্য করা যায় পরীক্ষার আগে অতিরিক্ত রাত জেগে দিন রাত পড়াশোনা করছে।

এইভাবে ব্যস্ত সময় পড়াশোনা মাঝখানে কিছু মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দেওয়া প্রয়োজন। মাঝে মাঝে মস্তিষ্ককে বিরতি দেওয়ার মাধ্যমে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি হয়।

নিজের ভাষায় অনুবাদ করুনঃ অনেক সময়ই তথ্যগুলো যেভাবে উপস্থাপন করা হয় সেগুলো মনে নাও থাকতে পারে। আর এই কারণে সব তথ্যগুলো উপস্থাপনের ক্ষেত্রে নিজের মত করে উপস্থাপন করা প্রয়োজন। নিজের মাধ্যমে সব কিছু উপস্থাপন করার মাধ্যমে সেগুলো দীর্ঘদিন ধরে মনে থাকে।

ইন্টারনেট কম ব্যবহারঃ আমরা অনেক সময় বিভিন্ন দরকারি প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্য ইন্টারনেট খুঁজতে থাকি। অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহারের কারণে আমাদের মস্তিষ্ক অলস হয়ে পড়ে থাকে। যার কারণে কোন প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য নিজেই চেষ্টা করুন।

বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তক অধ্যায়নের মাধ্যমে সেগুলো প্রশ্নের উত্তর গ্রহণ করুন। এভাবে নিজেরাই সেগুলো প্রশ্নের উত্তর খোঁজার কারণে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি হবে এবং ভুলে যাওয়ার প্রবণতা কমে যাবে।

ভিজ্যুয়ালাইজ করুনঃ অনেকেই ফোন অথবা ল্যাপটপে রিমাইন্ডার দিয়ে থাকেন। রিমাইন্ডার দিয়ে রাখার কারণে কোন কিছু ভাল ভাবে মনে রাখা যায়। আমরা দুধ ডিম অথবা বাজার করার সময় রিমাইন্ডার দিয়ে থাকি। যার কারণে এগুলো ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা কমে।

যার কারণে কোন কিছু কাজ করার জন্য আগে পরিকল্পনা গ্রহণ করুন এবং পরিকল্পনা মোতাবেক কাজ করলে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি হয়।

স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধির খাবার

আজকের আর্টিকেল স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধির ১৫টি উপায়। স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া প্রয়োজন। স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার মাধ্যমে শর্করা ও শক্তি উৎপন্ন হয় তার ২০ ভাগ মস্তিষ্ক গঠনের কাজে লাগে। স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির জন্য যেগুলো খাবার প্রয়োজন সেই খাবারগুলো আলোচনা করা হলো।
কাঠবাদামঃ কাঠবাদাম আয়ুর্বেদিক উপাদান যা খাওয়ার মাধ্যমে স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের গঠন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। কাঠ বাদামে প্রচুর পরিমাণ এন্টিঅক্সিডেন্ট ওমেগা৩ ফ্যাটি এসিড রয়েছে। কাঠবাদাম খেতে যা করতে হবে।

সন্ধ্যায় পাঁচ থেকে দশটি কাঠ বাদাম ভিজিয়ে রাখতে হবে। সকালে কাঠবাদাম খোসা ছাড়িয়ে গুঁড়ো করে নিতে হবে। এক গ্লাস দুধের মধ্যে কাঠ বাদামের গুঁড়ো মিশ্রিত করে ফুটিয়ে খেয়ে নিতে হবে।

মধু ও দারুচিনিঃ মধু ও দারুচিনি স্নায়ুকে শিথিল করে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে। গবেষণায় বলা হয় দারুচিনি ও মধু এর ঘ্রান শুকলেও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি হয়। এক চামচ কাঁচা মধুর সঙ্গে এক চিমটি দারুচিনি মিশিয়ে খেয়ে নিন।

চর্বিযুক্ত মাছঃ চর্বিযুক্ত মাছে ওমেগা৩ ফ্যাটি এসিড রয়েছে। ওমেগা৩ ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্ক গঠনে ভূমিকা রাখে। এছাড়াও ওমেগা৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার মাধ্যমে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি হয়।

ব্রকলিঃ ব্রকলি এন্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন কে সমৃদ্ধ খাবার। এই খাবার খাওয়ার মাধ্যমে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

কুমড়ার বীজঃ কুমড়ার বীজে ম্যাগনেসিয়াম আয়রন জিংক ও কপার এর মত পুষ্টি উপাদান রয়েছে। নিয়মিতো কুমড়ার বীজ খাওয়ার মাধ্যমে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি হয়।

ডার্ক চকলেটঃ ডার্ক চকলেটে ফ্লাবনয়েড ক্যাফেইন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিদ্যমান। ডার্ক চকলেট খাওয়ার মাধ্যমে মস্তিষ্কের কার্যকরতা বৃদ্ধি পায় এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।

ডিম খাওয়াঃ ডিম একটি জনপ্রিয় খাবার। ইহা কোলিন সমৃদ্ধ খাবার। ডিম খাওয়ার মাধ্যমে মেজাজ ও স্মৃতিশক্তি নিয়ন্ত্রণ করে। নিয়মিত ডিম খাওয়ার মাধ্যমে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি।

নিয়মিত কমলা খাওয়াঃ কমলা ভিটামিন সি সম সমৃদ্ধ খাবার। ভিটামিন সি শরীরের বিভিন্ন প্রদাহ কমায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ কমলা খাওয়ার মাধ্যমে মস্তিষ্কের প্রদাহ দূর করে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে।

ব্লুবেরি খানঃ ব্লুবেরি জাতীয় ফল খাওয়ার মাধ্যমে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি হয়। এছাড়াও ব্লুবেরি জাতীয় ফলে পর্যাপ্ত ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এ ফল খাওয়ার মাধ্যমে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি হয়।

নিয়মিত ওটস খাওয়াঃ ওটসে পর্যাপ্ত ফইবার সমৃদ্ধ খাবার। ওটস খাওয়ার মাধ্যমে পেটের বিভিন্ন সমস্যা দূর হয় এবং শরীরে উপকারী ব্যাকটেরিয়া পরিমাণে বৃদ্ধি পায়। ওটস খাওয়ার মাধ্যমে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।

লেখকের মন্তব্যঃ

সুপ্রিয় পাঠক বৃন্দ স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধির ১৫টি উপায় বিষয়ে আজকের আর্টিকেল লেখা হয়েছে। আরো লেখা হয়েছে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম। স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির খাবার। আমাদের শিক্ষা ও অর্থনীতি উন্নয়নের জন্য স্মৃতিশক্তি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। স্মৃতিশক্তি ভালো না থাকলে আমরা তাকে পাগল বলি। 

যার কারণে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করার জন্য আমাদেরকে বিভিন্ন নিয়ম ও খাবার খাওয়া প্রয়োজন। স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য গুগল সহ বিভিন্ন সাময়িকি ও গ্রন্থ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে লেখা হয়েছে। এগুলো বিষয় জানতে এই আর্টিকেল ভিজিট করুন। আশা করি ভালো লাগলবে এবং উপকৃত হবেন। ভাল লাগলে বন্ধুদের মাঝে লাইক কমেন্ট ও শেয়ার করবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url