হেপাটাইটিস বি ভাইরাস প্রতিরোধের ১০টি ঘরোয়া উপায়

সুপ্রিয় পাঠকগণ হেপাটাইটিস বি ভাইরাস প্রতিরোধের ১০টি ঘরোয়া উপায় বিষয়ে আজকের আর্টিকেল লেখা শুরু করলাম। ছাড়াও আরো লেখা হবে হেপাটাইটিস বি ভাইরাস হওয়ার কারণ। হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের লক্ষণ।হেপাটাইটিস বি টেষ্ট ও ভ্যাক্সিন খরচ বাংলাদেশ। হেপাটাইটিস বি নীরব ঘাতক ভাইরাসজনিত রোগ।
হেপাটাইটিস বি ভাইরাস শরীরের সংক্রমনের ৩০ থেকে ১৮০ দিন পরে লক্ষণ প্রকাশ পায়। এই ভাইরাস আক্রান্তের ফলে লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। এই জন্য এই রোগ প্রতিরোধ করা প্রয়োজন। এই রোগ ব্যাপারে জানতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।

ভূমিকা

আজকের আর্টিকেল হেপাটাইটিস বি ভাইরাস প্রতিরোধের ১০টি ঘরোয়া উপায়। হেপাটাইটিস বি এক নীরব ঘাতক সংক্রামক রোগ। বিশ্বের প্রায় দুই বিলিয়ন মানুষ এ রোগে সংক্রামিত হয়। ৩০০ মিলিয়ন মানুষ দীর্ঘস্থায়ী হেপাটাইটিস বি সংক্রমণ নিয়ে জীবন অতিবাহিত করে।
এছাড়াও প্রায় এক মিলিয়ন মানুষ হেপাটাইটিস বি আক্রান্তে মারা যায়। হেপাটাইটিস বি আক্রান্তের মাধ্যমে লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যান্সার হতে পারে। যার কারণে এই নীরব ঘাতক ভাইরাস থেকে আমাদেরকে বাঁচতে হবে। হেপাটাইটিস বি সংক্রমনের হাত থেকে বাঁচতে টিকা গ্রহণ করা যেতে পারে।

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস প্রতিরোধের ১০টি ঘরোয়া উপায়

দেশে প্রতিবছর হেপাটাইটিস বি ও হেপাটাইটিস সি ভাইরাসজনিত লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যান্সারের কারণে প্রায় বিশ হাজার মানুষ মৃত্যুমুখে পতিত হয়। অনেকেই হেপাটাইটিস এ ও হেপাটাইটিস ই ভাইরাসেও আক্রান্ত হন। একটু সচেতন হলে এই নীরব ঘাতক ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা পেতে পারি।

শেখ রাসেল গ্যাষ্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক, পরিপাকতন্ত্র ও লিভার রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডাক্তার ফারুক আহমেদ এর মতে আমরা বিভিন্নভাবে এ ভাইরাস প্রতিরোধ করতে পারি। হেপাটাইটিস বি ভাইরাস প্রতিরোধের ১০টি ঘরোয়া উপায় আলোচনা করা হলো।

ব্লেড ও ইনজেকশনের সুচ জীবানু মুক্ত করাঃ সাধারণত আমাদের ব্যবহিত ব্লেড, রেজার ইত্যাদি ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকতে হবে। ব্লেড ও রেজার ব্যবহারের সময় জীবাণুমুক্ত করতে হবে। এছাড়াও ইনজেকশন ব্যবহারের সময় বারবার নতুন সিরিঞ্জ ব্যবহার করতে হবে।

জীবানুমুক্ত রক্ত গ্রহণঃ রোগীকে রক্ত দেওয়ার সময় বিশুদ্ধ রক্ত দেওয়া প্রয়োজন।রোগীকে রক্ত গ্রহণের সময় রক্তে হেপাটাইটিস বি জীবাণু রয়েছে কিনা পরীক্ষা করা দরকার। পরীক্ষার মাধ্যমে জীবাণুমুক্ত রক্ত গ্রহণ করতে হবে।

বাচ্চা গ্রহণের সময় মাতার রক্ত পরীক্ষাঃ গর্ভবতী মাতার হেপাটাইটিস বি ভাইরাস থাকলে শিশুর হেপাটাইটিস বি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যার কারণে গর্ভধারণের আগে মায়ের হেপাটাইটিস বি আছে কিনা পরীক্ষা করে নেওয়া প্রয়োজন। হেপাটাইটিস বি থাকলে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে ভালো করার পরে বাচ্চা নেওয়া প্রয়োজন।

ভ্যাক্সিন ব্যবহারঃ যাদের শরীরে হেপাটাইটিস বি জীবাণু নাই তাদের সুস্থ অবস্থায় হেপাটাইটিস বি ভ্যাক্সিন গ্রহণ করা প্রয়োজন। হেপাটাইটিস বি এর ভ্যাক্সিন গ্রহণের ফলে হেপাটাইটিস বি জীবাণু সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে না।

বাচ্চাদের টিকা দেওয়াঃ বাচ্চাদের হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এইজন্য বাচ্চাদেরকে হেপাটাইটিস বি এর ভ্যাক্সিন দেওয়া প্রয়োজন। সরকার দেশে ৯৮ থেকে ৯৯ ভাগ শিশুদের হেপাটাইটিস বি ভ্যাক্সিন দেওয়ার নির্দেশনা দিচ্ছে।

খাদ্য গ্রহণে সতর্কতাঃ হেপাটাইটিস এ ভাইরাস ও হেপাটাইটিস ই ভাইরাস খাদ্য বাহিত জীবাণু থেকে হয়। এগুলো ভাইরাস হতে রক্ষা পেতে খাদ্য খাওয়ার প্রতি বিশেষভাবে যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।

ফাস্টফুড জাতীয় খাবার বাদঃ খাবার ক্ষেত্রে আমাদেরকে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেতে হবে। ফাস্টফুড, জাঙ্ক ফুড, স্ট্রিট ফুড, ইত্যাদি খাবার পরিহার করা প্রয়োজন। খাবার খাওয়ার মাধ্যমে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

বিশুদ্ধ পানি পানঃ বিশুদ্ধ পানি পান করা প্রয়োজন। পানির মাধ্যমে হেপাটাইটিস বি এর জীবাণু স্থানান্তর হতে পারে। যার কারনে বিশুদ্ধ পানি পান করা প্রয়োজন। বিশুদ্ধ পানি পাওয়া না গেলে পানি ফুটিয়ে পান করা যেতে পারে।

খারাপ অভ্যাস বাদ দিতে হবেঃ সব সময় মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে। অনিরাপদ যৌন মিলন এড়িয়ে চলতে হবে। এগুলো খারাপ অভ্যাস থেকে হেপাটাইটিস বি জীবাণু সংক্রমণ হতে পারে। সর্বোপরি ইসলামী অনুশাসন মেনে চলতে হবে।

আক্রান্ত হলেদ্রুত চিকিৎসা প্রদানঃ পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরে হেপাটাইটিস বি জীবাণু থাকলে দ্রুত চিকিৎসার মাধ্যমে শরীরের মুক্ত করতে হবে। এইজন্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন

সাধারণত নিয়ম তান্ত্রিক চলাফেরা স্বাস্থ্যকর খাবার ও বিশ্রামের মাধ্যমে এই ভাইরাস দূর করা যায়। চিকিৎসার মাধ্যমে হেপাটাইটিস বি ভাইরাস মুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভ্যাক্সিন গ্রহণ করা প্রয়োজন।

হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের কারন

আজকের আর্টিকেল হেপাটাইটিস বি ভাইরাস প্রতিরোধের ১০টি ঘরোয়া উপায়। হেপাটাইটিস বি ভাইরাস বিভিন্নভাবে আক্রান্ত হতে পারে। বিশেষ করে রক্ত, লালা, বীর্য, ইত্যাদির মাধ্যমে বেশি ছড়ায়। হেপাটাইটিস বি ভাইরাস আক্রান্তের কারণ সমূহ।
*সাধারণত ইনজেকশনের মাধ্যমে হেপাটাইটিস বি ভাইরাস একজন থেকে আরেকজনের ছড়ায়। হেপাটাইটিস বি আক্রান্ত ব্যক্তিকে ইঞ্জেকশন ব্যবহার করার পরে উক্ত ইনজেকশন সুস্থ ব্যক্তিকে প্রয়োগ করলে হেপাটাইটিস বি জীবাণু পার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
*গর্ভবতী মাতায় হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত হলে গর্ভস্থ শিশু হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়।
*সাধারণত খাবারের মাধ্যমে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
*দুষিত পানি পানের মাধ্যমে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
*হেপাটাইটিস বি আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে যৌন মিলনের মাধ্যমে হেপাটাইটিস বি সংক্রমিত হয়।
*জন্মের পরে বাচ্চাদের হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের টিকা না দিলে হেপাটাইটিস বি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
*রোগীকে রক্ত দেওয়ার সময় হেপাটাইটিস বি আক্রান্ত রক্ত গ্রহণের ফলে হেপাটাইটিস বি সংক্রমণ হতে পারে।

হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের লক্ষন

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস আক্রান্তের ফলে শরীরের বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। উপসর্গ দেখা দেওয়ার মাধ্যমে আমরা হেপাটাইটিস বি এর প্রাথমিক আক্রান্তের বিষয় জানি। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে হেপাটাইটিস বি সংক্রামনের ব্যাপারে জানা যায়। হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের লক্ষণ সমূহ।

*চোখ হলুদ হয়ে যায় সঙ্গে মুখমন্ডল হলুদের মত মনে হয়।
*প্রস্রাবের রং হলুদ হয়। প্রশ্রাব করার সময় কষ্ট অনুভূত হয়।
*পেটে ব্যথা হয় এবং সেই সাথে পর্যাপ্ত জ্বর হয়। জরের ফলে কোন কিছু খাওয়া ভালো লাগেনা।
*ক্ষুদা মন্দা ও বমি বমি ভাব হয়। এমন কি মাঝে মাঝে বমন হতে পারে।
*মাংসপেশী ও হাড়ের জয়েন্টে ব্যথা অনুভব হয়। এছাড়াও ব্যথার পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে।
*আক্রান্ত ব্যক্তি সব সময় অস্বস্তি বোধ করে। আক্রান্ত ব্যক্তি মানসিক চাপের মধ্যে থাকে।
*শরীরের ত্বকের উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়ে যায়। চামড়া খস খসে প্রকৃতির হয়।

হেপাটাইটিস বি টেষ্ট ও ভ্যাক্সিন খরচ বাংলাদেশ

আজকের আর্টিকেল হেপাটাইটিস বি ভাইরাস প্রতিরোধের ১০টি ঘরোয়া উপায়। হেপাটাইটিস বি ভাইরাস শনাক্তকরণের জন্য HBsAg পরীক্ষা করা হয়। এই পরীক্ষা এর খরচ ১০০ টাকা। পরীক্ষা করা হলে ডাক্তার হেপাটাইটিস বি সংক্রমণের ব্যাপারে যাবতীয় তথ্য জানতে পারেন। সেই অনুযায়ী হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত হলে সঠিক চিকিৎসা করা প্রয়োজন।
হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত না হলে ভ্যাক্সিন দেওয়ার মাধ্যমে হেপাটাইটিস বি ভাইরাস প্রতিরোধ করা যায়। বাংলাদেশ হেপাটাইটিস বি এর ভ্যাক্সিন পাওয়া যায়। বাংলাদেশের তিনটি কোম্পানি এই ভ্যাকসির সরবরাহ করে। কোম্পানি গুলো হল Synovia Pharma PLC. Incepta Pharmaceuticals, Popular Pharmaceuticals.

বাজারে ভ্যাকসিন টি Euvax-B, Hepa-B, Hepavax-B বয়স্ক ও শিশু উভয়ের জন্য বাজারজাত করা হয়েছে। এই ভ্যাকসিনগুলো বাজারে ৪০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। এই ভ্যাকসিনগুলো তিনটি অথবা চারটি ডোজ এ ব্যবহার করা যায়। ভ্যাক্সিন দেওয়ার নিয়ম হলো প্রথম ডোজ ভ্যাক্সিন দেওয়ার এক মাস পরে দ্বিতীয় ডোজ ভ্যাক্সিন দিতে হবে।

দ্বিতীয় ডোজ ভ্যাক্সিন দেওয়ার ৬ মাস পরে তৃতীয় ডোজ ভ্যাক্সিন দিতে হবে। তৃতীয় ডোজ ভ্যাক্সিন দেওয়ার পরে এক বছর পরে চতুর্থ ডোজ ভ্যাক্সিন দিতে হবে। নিয়মিত ভ্যাক্সিন ব্যবহারের ফলে হেপাটাইটিস বি ভাইরাস থেকে ৯০ ভাগ থেকে ৯৫ ভাগ সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।

এই ভ্যাক্সিন গুলো মাংসপেশিতে দিতে হয়। যার কারণে নার্সের মাধ্যমেও দিতে পারেন। এছাড়াও পল্লী চিকিৎসকের মাধ্যমেও টিকা দিতে পারেন। লোক সংখ্যা বেশি হলে ইনসেপ্টা কোম্পানি নিয়মতান্ত্রিকভাবে এসে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করে থাকে।

হেপাটাইটিস বি এর চিকিৎসা খরচ বাংলাদেশ

আজকের আর্টিকেল হেপাটাইটিস বি ভাইরাস প্রতিরোধের ১০টি ঘরোয়া উপায়। আমাদের দেশের অধিকাংশ লোক জানেন না তিনি হেপাটাইটিস বি, বা সি, ভাইরাসে আক্রান্ত কিনা। যার কারণে হেপাটাইটিস বি,ও সি, ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা করা সম্ভব হয় না।

অপরপক্ষে হেপাটাইটিস বি, ও সি, আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা খরচ অনেক বেশি যার কারণে ভুক্তভোগীরা সবাই চিকিৎসার আওতায় আসতে পারছেন না। এছাড়াও এই রোগটি নির্মূল করার জন্য টিকাদান যে কর্মসূচি রয়েছে সেটাও পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক গনেরা বলেন হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীরা সঠিক সময়েই চিকিৎসা সেবার আওতায় আসতেছেন না। যার কারনে ক্রনিক হেপাটাইটিস, লিভার সিরোসিস, লিভার ক্যান্সার, ও লিভার ফেইলর এর মত বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

চিকিৎসা ব্যবস্থা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ার জন্য আক্রান্ত রোগীরা পুরোপুরি চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন না। অনেক সময় দেখা যাচ্ছে একই পরিবারের দুই থেকে তিনজন অথবা সবাই হেপাটাইটিস বি ও সি আক্রান্ত হয়েছেন। যার কারণে উক্ত পরিবারের চিকিৎসা ভার বহন করা অত্যন্ত দুরুহ হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ হেপাটোলজি সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডাক্তার শাহিনুর আলম বলেন সারা বিশ্বের ৯০ ভাগ মানুষই জানে না তিনি হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হয়েছেন কিনা।

যেহেতু হেপাটাইটিস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় অনেক বেশি যার কারণে এই ব্যয় নির্বাহের জন্য সমাজের বিত্তবান লোকদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। ন্যাশনাল লিভার ফাউন্ডেশন অফ বাংলাদেশ এর মহাসচিব ও বারডেম জেনারেল হাসপাতাল এর চিফ লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন অধ্যাপক ডাক্তার মোহাম্মদ আলী সমাজের বিদ্যমানদের কে এগিয়ে আসার পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন যেহেতু হেপাটাইটিস আক্রান্তদের চিকিৎসা খরচ অনেক বেশি এজন্য সমাজের বৃত্তবানরা এগিয়ে আসলে ন্যাশনাল লিভার ফাউন্ডেশন এর মাধ্যমে গরিবের রোগীদের কে বিনা খরচে চিকিৎসা দান করা সম্ভব হবে। ২০১৯ সালের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে মোট হেপাটাইটিস বি. ও সি. রুগীদের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি।

বাংলাদেশের জনসংখ্যার ৫.৫ ভাগ হেপাটাইটিস বি ও ০.৬ ভাগ হেপাটাইটিস সি ভাইরাসে আক্রান্ত। এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি কৃত রোগীদের মধ্যে মৃত্যুর সর্বোচ্চ তিন নাম্বার পর্যায়ে লিভার রোগীরা রয়েছেন। অধ্যাপক মোঃ শাহিনুর ইসলাম বলেন হেপাটাইটিস একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত পাঁচটি ভাইরাস সমন্বয়ে হেপাটাইটিস রোগ হয়।

হেপাটাইটিস রোগ সাধারণত যে পাঁচটি ভাইরাসের কারণে হয় সেগুলো হল এ, বি, সি, ডি, ই, ‌তবে বাংলাদেশ হেপাটাইটিস ডি,ভাইরাস আক্রান্ত রোগী নাই। এছাড়া হেপাটাইটিস এ, ও ই, দীর্ঘমেয়াদী কোন রোগ নয়। মূলত মারাত্মক রোগ হল হেপাটাইটিস বি. ও হেপাটাইটি সি,।

ডাঃ অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী বলেন বর্তমান হেপাটাইটিস সি, আক্রান্তদের জন্য খাওয়ার ওষুধ আবিষ্কার হয়েছে। প্রতিটি ট্যাবলেটের দাম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকার মত। একজন হেপাটাইটিস সি আক্রান্ত রোগীদের কমপক্ষে তিন থেকে পাঁচ মাস ওষুধ খেতে হবে। হেপাটাইটিস সি আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে তিন মাস ওষুধ খাওয়ালে খরচ প্রায় ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা হবে।

এক থেকে অতিরিক্ত দুই মাস ওষুধ খাওয়াতে হয় তাহলে আরও অনেক বেশি খরচ হবে। এইজন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক গনেরা বলেন খরচের টাকা সংগ্রহ না করতে পেরে অনেকেই চিকিৎসা ব্যবস্থার বাইরে থেকে আস্তে আস্তে মৃত্যুবরণ করতেছেন।

হেপাটাইটিস বি, ও সি, আক্রান্ত রোগীদের থেকে রক্তের মাধ্যমে স্ত্রী, সন্তান, বা প্রতিবেশীদেরকে আক্রান্ত করতে পারে। যার কারণে হেপাটাইটিস বি, ও হেপাটিপি সি, রোগীদের খুব সাবধানে চলাফেরা করা প্রয়োজন।

লেখক এর মন্তব্য

সুপ্রিয় পাঠক বৃন্দ হেপাটাইটিস বি ভাইরাস প্রতিরোধের ১০টি ঘরোয়া উপায় বিষয়ে আজকের আর্টিকেল লেখা হয়েছে। আরো লেখা হয়েছে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের কারণ। হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের লক্ষণ। হেপাটাইটিস বি-টেস্ট ও ভ্যাকসিন খরচ বাংলাদেশ। আজকের আর্টিকেলে হেপাটাইটিস বি সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য আলোকপাত করা হয়েছে।

এছাড়াও হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধ ব্যাপারে যাবতীয় তথ্য আলোকপাত করা হয়েছে। আজকের বিষয় সম্পর্কে জানতে আজকের আর্টিকেল ভিজিট করুন। আশা করি ভালো লাগবে এবং উপকৃত হবেন। ভালো লাগলে বন্ধুদের মাঝে লাইক কমেন্ট ও শেয়ার করবেন।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url