মাথা ব্যথা কমানোর ১০টি ঔষধের নাম
সুপ্রিয় পাঠক বন্ধুগণ মাথা ব্যথা কমানোর ১০টি ঔষধের নাম বিষয়ে আজকের আর্টিকেল লেখা শুরু করলাম। এছাড়া আরো লেখা হবে অসহ্য মাইগ্রেনের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায় বিষয়ে।
মাইগ্রেনের বিভিন্ন রকম ব্যাথা সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করা হবে। এগুলো ব্যাপারে জানতে আজকের আর্টিকেলের সঙ্গে থাকুন।
ভূমিকা
আজকের আর্টিকেল মাথা ব্যথা কমানোর ১০টি ঔষধের নাম । মাইগ্রেন অর্থ হলো মাথার একদিকে ব্যথা। তবে মাইগ্রেনের ব্যথা মাথার দুই পাশে হতে পারে। যাদের মাইগ্রেনের সমস্যা রয়েছে তাদের কাছে শব্দ, আলো,গন্ধ, বাতাসের চাপ, খাবারের বিভিন্নতা, যেমন চকলেট, আঙ্গুর, পনির, ইত্যাদি প্রভাবের কারণ মাথা ব্যাথা হতে পারে।
আর ও পড়ুনঃ ওজন কমাতে পাট শাকের ১৫টি উপকারিতা
মাইগ্রেনের কারণে মাথাব্যথা সহ আরো কিছু স্নায়ুবিক লক্ষণ দেখা দেয়। মাইগ্রেন এক ধরনের নিউরো ভাসকুলার ডিজিস বলে ধারণা করা হয়। মাইগ্রেনের সমস্যা প্রথমে মস্তিষ্কে সৃষ্টি হয় এবং আস্তে আস্তে রক্তনালীতে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক গবেষকগণ ধারণা করেন মাইগ্রেনের ব্যথা নিউরাল বিষয়গুলোর উপর প্রভাব ফেলে।
মাথা ব্যথা কমানোর ১০টি ঔষধের নাম
মাথা ব্যথা সমস্যা প্রায় সবারই কমবেশি হয়। মাথা ব্যথা হলে শারীরিকভাবে অত্যন্ত অস্বস্তিকর অবস্থা তৈরি হয়। এছাড়া মাথাব্যথার কারণে চলাফেরা অত্যন্ত কষ্টকর হয়। আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো মাথা।
শারীরিক চলাফেরা সহ সকল দিক নির্দেশনা মাথা থেকেই পরিচালিত হয়। যার কারণে মাথাব্যথা হলে ওষুধ খাওয়ার মাধ্যমে তাড়াতাড়ি মাথাব্যথা দূর করা প্রয়োজন। মাথা ব্যথা কমানোর ১০টি ঔষধের নাম আলোচনা করা হলো।
প্যারাসিটামলঃ মাথাব্যথা দূর করার জন্য অত্যন্ত সহজলভ্য ঔষধ হচ্ছে প্যারাসিটামল। আমাদের বাংলাদেশের বাজারে নাপা, ফাস্ট, এইচ, ইত্যাদি নামে পাওয়া যায়। সাধারণত হালকা মাথাব্যথা হলে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খাওয়ার মাধ্যমে মাথা ব্যথা নিরাময় হয়।
প্যারাসিটামল খাওয়ার ফলে শরীরের প্রোস্টাগ্লান্ডিনের উৎপাদন কমিয়ে দিয়ে মাথাব্যথা কমাতে সহায়তা করে। সাধারণত প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ৫০০ থেকে ১০০০ মিলিগ্রাম প্রতি ৪ থেকে ৬ ঘন্টা পর পর খাওয়া যেতে পারে। প্যারাসিটামল এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দীর্ঘদিন প্যারাসিটামল খেলে লিভার ও কিডনির ক্ষতি হয়।
আইবুপ্রোফেনঃ আইবুপ্রোফেন ননস্টেরয়েড এন্টি ইনফ্লামেটরি ওষুধ। মৃদু ও মাঝারি ধরনের মাথাব্যথা নিরাময় করতে আইবুপ্রোফেন খাওয়া যেতে পারে। এই ওষুধ শরীর ও মাথা ব্যথা, ও প্রদাহ কমিয়ে শরীর ভালো রাখে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন ২০০ থেকে ৪০০ মিলিগ্রাম ৪ থেকে ৬ ঘন্টা পর পর খাওয়া যেতে পারে।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবে অতিরিক্ত আইবুপ্রোফেন গ্রহণ করলে পাকস্থলী, আলসার, ও কিডনির সমস্যা হতে পারে।
ন্যাপ্রোক্সেনঃ অত্যন্ত বেশি ব্যথা, দীর্ঘমেয়াদি মাথা ব্যাথা, মাইগ্রেন সমস্যা, নিরাময় করতে ন্যাপ্রোক্সেন খাওয়া যেতে পারে। এটি ব্যবহারের ফলে মাথা ব্যথা ও বিভিন্ন ধরনের প্রদাহ কমিয়ে শরীর প্রফুল্ল রাখে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২৫০ থেকে ৫০০ মিলিগ্রাম ৮ থেকে ১২ ঘন্টা পর পর খাওয়া যেতে পারে।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবে অতিরিক্ত পরিমাণ ন্যাপ্রোক্সেন খাওয়ার ফলে পাকস্থলীর সমস্যা, রক্তপাত, ও কিডনির সমস্যা, হতে পারে।
এসিটামিনোফেনঃ প্যারাসিটামল এর একটি নাম হল এসিটামিনোফেন যা মৃদু ও মাঝারি মাথাব্যথার জন্য অত্যন্ত কার্যকর। সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫০০ থেকে ১০০০ মিলিগ্রাম প্রতি চার থেকে ছয় ঘন্টা পর পর খাওয়া যাবে। তবে কোনক্রমেই ২৪ ঘন্টায় ৪০০ মিলিগ্রামের বেশি খাওয়া যাবে না। অত্যন্ত বেশি পরিমাণ এসিটামিনোফেন ব্যবহারের ফলে লিভারের ক্ষতি হতে পারে।
অ্যাসপিরিনঃ মৃদু ও মাঝারি মাথা ব্যথার জন্য অ্যাসপিরিন অত্যন্ত কার্যকর। আমাদের দেশে ডিসপ্রিন নামের পাওয়া যায়। ডিসপ্রিন খাওয়ার ফলে মাথাব্যথা, শরীরের প্রদাহ, কমিয়ে দিয়ে রক্তের প্লেটলেটের ক্রিয়া বন্ধ করে। সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৩২৫ থেকে ৬৫০ মিলিগ্রাম ৪ থেকে ৬ ঘন্টা পরপর খাওয়া যেতে পারে।
অতিরিক্ত পরিমাণ অ্যাসপিরিন গ্রহণের ফলে পাকস্থলীর সমস্যা, রক্তপাত, ও কিডনির সমস্যা, হতে পারে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদী অ্যাসপিরিন গ্রহণ করলে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে।
সুমাট্রিপটানঃ মাইগ্রেনের সমস্যা দূর করতে সুমাট্রিপটান ওষুধ অত্যন্ত কার্যকর। ইহা শেরাটানিন হরমোনের সঙ্গে কাজ করে মাইগ্রেনের ব্যথা তাড়াতাড়ি কমিয়ে দেয়। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২৫ থেকে ১০০ মিলিগ্রাম ২৪ ঘন্টায় একবার গ্রহণ করা যেতে পারে।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবে বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা, উদ্বেগ, পেশি দূর্বলতা, ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে। এই জন্য সুমাট্রিপটান গ্রহণের সময় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরী।
রিজাট্রিপটানঃ ইহা ট্রিপটান জাতীয় ওষুধ রিজাট্রিপটান মাইগ্রেন জনিত ব্যথার জন্য অত্যন্ত কার্যকর। ইহার সেরাটনিন হরমোনের সঙ্গে কাজ করে মাইগ্রেনের ব্যথা দ্রুত কমিয়ে আনে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫ থেকে ১০ মিলিগ্রাম প্রতি ২ ঘন্টা পর পর খাওয়া যেতে পারে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে ৩০ মিলিগ্রাম এর বেশি খাওয়া যাবে না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে রিজাট্রিপটান গ্রহণের ফলে মাথা ঘোরা, ক্লান্তি, মুখের শুষ্কতা, ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে। যার কারণে রিজাট্রিপটান ব্যবহারের সময় ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এগ্ৰোটামিনঃ ক্লাস্টার হেডেক ও মাইগ্রেনের কারণে মাথা ব্যথা সমস্যায় এগ্ৰোটামিন অত্যন্ত কার্যকর। এগ্রটামিন খাওয়ার ফলে রক্তনালীর সংকোচন করে ব্যথা কমায়। সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ১ থেকে ২ মিলিগ্রাম প্রতি ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘন্টায় গ্রহণ করা যেতে পারে।
২৪ ঘন্টার মধ্যে কোনক্রমেই ৬ মিলিগ্রামের বেশি গ্রহণ করা যাবে না। পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবে এগ্ৰোটামিন গ্রহণের ফলে মাথা ঘোরা, পাকস্থলীর সমস্যা, বমি বমি ভাব, ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে।
ডিক্লোফেনাকঃ সব ধরনের মাথা ব্যথার জন্য ডিক্লোফেনাক ব্যবহার করা হয়। ইহার সেবনের ফলে প্রদাহ কমিয়ে মাথা ব্যথা দূর করে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫০ থেকে ১০০ মিলিগ্রাম প্রতি ৮ থেকে ১২ ঘন্টায় গ্রহণ করা যেতে পারে। পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবে ডিক্লোফেনাক গ্রহণের ফলে পাকস্থলী সমস্যা, কিডনির সমস্যা, রক্তচাপ বৃদ্ধি, ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে।
কেটোরোলাকঃ তীব্র মাথা ব্যথার জন্য কেটোরোলাক অত্যন্ত কার্যকারী। ইহা প্রদাহ কমিয়ে দ্রুত মাথা ব্যথা থেকে মুক্তি দেয় এবং শরীর প্রফুল্ল রাখে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ১০ থেকে ৩০ মিলিগ্রাম প্রতি ৬ ঘন্টায় নেওয়া যেতে পারে। কেটোরোলাক সর্বোচ্চ ৫ দিন এর বেশি গ্রহণ করা উচিত নয়।
অসহ্য মাইগ্রেনের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়
আজকের আর্টিকেল মাথা ব্যথা কমানোর ১০টি ঔষধের নাম। আমাদের অধিকাংশ লোকেরই মাইগ্রেনের সমস্যা দেখা দেয়। মাইগ্রেনের সমস্যার কারণে মাথার এক পাশে অথবা দুই পাশে ব্যথা হতে পারে। এই মাথা ব্যথাগুলো সহ্য করা অত্যন্ত কষ্টকর হয়। যার কারণে মাইগ্রেনের ব্যথা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নিয়মিত চিকিৎসা করার প্রয়োজন।
আর ও পড়ুনঃ মিষ্টি আলু খাওয়ার ১৫টি উপকারিতা
এছাড়াও বিভিন্ন ঘরোয়া উপায়ে মাইগ্রেনের ব্যাথা দূর করা যায়। মাইগ্রেনের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায় আলোচনা করা হলো। শরীর হাইড্রেড রাখাঃ মাইগ্রেনের ব্যথা দূর করতে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি খেতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি খাওয়ার ফলে দেহাইড্রেট থাকে এবং শরীরের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি হয়। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি খাওয়ার ফলে মাইগ্রেনের ব্যথা দ্রুত নিরাময় হয়।
আদা চা খাওয়াঃ আদা অত্যন্ত উপকারী মসলা জাতীয় দ্রব্য। আদাতে এন্টিইনফ্লামেটরি ও এন্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এত আদা চা খাওয়ার মাধ্যমে মাইগ্রেনের ব্যথা কমে। যার কারণে বিশেষজ্ঞ বোনেরা বলেছেন মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হতেই এক কাপ আগাছা খেলে আস্তে আস্তে মাইগ্রেনের ব্যথা কমে যাবে। এছাড়া নিয়মিত কাঁচা আদা খাওয়া যেতে পারে।
অশ্বগন্ধা ব্যবহারঃ ভারতীয় আয়ব্বেদ শাস্ত্রের মতে অশ্বগন্ধার সাহায্যে মাইগ্রেনের ব্যথা কমানো যায়। মাইগ্রেনের সমস্যা নিরাময় করতে এই ভেষজ অশ্বগন্ধা অত্যন্ত কার্যকরী। মাইগ্রেনের ব্যথা দূর করতে অশ্বগন্ধা পানিতে ফুটিয়ে নিতে হবে। এরপর উক্ত পানিতে দুধ মিশিয়ে খেতে হবে। এভাবে নিয়মিত কয়েকদিন খেলে মাইগ্রেনের সমস্যা দূর হয়ে যাবে।
লবঙ্গের পাউডার খাওয়াঃ লবঙ্গ অত্যন্ত উপকারী মসলা যাতে অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। নিয়মিত লবঙ্গ খাওয়ার মাধ্যমে মাইগ্রেনের ব্যথা দূর করা যায়। এক্ষেত্রে মাইগ্রেনের ব্যথা দূর করতে লবঙ্গ চিবিয়ে খাওয়া যায় অথবা লবঙ্গের পাউডার দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে।
ল্যাবেন্ডার তেল ব্যবহারঃ মাইগ্রেনের সমস্যা দ্রুত নিরাময় করতে ল্যাবেন্ডার তেল অত্যন্ত কার্যকর। ল্যাভেন্ডার তেল এর ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুত মাইগ্রেন জনিত মাথা ব্যথা নিরাময় করে। এক্ষেত্রে নিয়ম হলো মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হলে নাক দিয়ে এই তেল ১৫ থেকে ২০ মিনিট শুকে নিতে পারেন। ল্যাবেন্ডার তেল নাক দিয়ে সুকে নিলে দ্রুত মাইগ্রেনের ব্যথা নিরাময় হবে।
কোল্ড কম্প্রেস করাঃ মাইগ্রেনের ব্যথা হলে কপাল ও ঘাড়ে কোল্ড কম্প্রেস করা যেতে পারে। ঘাড় ও কপালে কোল্ড কম্প্রেস করলে দ্রুত মাইগ্রেনের ব্যথা নিরাময় হয়। ঘাড় ও কপালে কোল্ড কম্প্রেস করলে ঘাড় ও কপাল অসাড় হয়ে যায় ও মাইগ্রেনের ব্যথা নিরাময় হয়।
হট কমপ্রেসঃ হট কোল্ড কমপ্রেস এর মত হট কমপ্লিট ব্যবহার করার মাধ্যমে মাইগ্রেনের ব্যথা দূর করা যায়। মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হলে কপাল ও ঘাড়ে হট কমপ্লেন ব্যবহার করলে ঘাড় ও মাথার পেশিগুলো শিথিল হয় এবং রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি হয়। যার কারণে মাইগ্রেনের ব্যথা দূর হয়।
ম্যাগনেসিয়াম জাতীয় খাবার খাওয়াঃ ম্যাগনেসিয়াম জাতীয় খাবার খাওয়ার মাধ্যমে মাইগ্রেনের ব্যথা দ্রুত নিরাময় করা যায়। ম্যাগনেসিয়াম জাতীয় শাকসবজি যেমন পালং শাক কলমি শাক সবুজ শাক ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে। এছাড়াও বিষ খাবারের মধ্যে কার্যবাদাম চিনাবাদাম কাঠবাদাম মিষ্টি কুমড়ার বিচি সূর্যমুখীর বিচি ইত্যাদিতে পর্যাপ্ত ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে।
ডালের মধ্যে সয়াবিন ছোলা ও বিভিন্ন প্রকার ডালে পর্যাপ্ত ম্যাগনেসিয়াম পাওয়া যায়। এগুলো ম্যাগনেসিয়াম জাতীয় খাবার খাওয়ার মাধ্যমে মাইগ্রেনের সমস্যা দ্রুত নিরাময় করা যায়।
পর্যাপ্ত ঘুমানোঃ মাইগ্রেন জনিত মাথা ব্যথা নিরাময় করতে পর্যাপ্ত ঘুমানো প্রয়োজন। প্রতিদিন একজন সুস্থ মানুষের ৫ থেকে ৬ ঘন্টা ঘুমানো প্রয়োজন। পর্যাপ্ত ঘুমানোর ফলে মস্তিষ্কে শেরাটনিন হরমোন বৃদ্ধি হয় এবং মাইগ্রেনের সমস্যা দূর হয়। এছাড়া সারাদিন বিভিন্ন রকম কাজ করার পরে রাতে পর্যাপ্ত ঘুমালে সকালে শরীর ভালো থাকে এবং মাইগ্রেনের সমস্যা দূর হয়।
শরীরকে চাপ মুক্ত রাখাঃ শরীরকে সর্বদা মানসিক চাপমুক্ত রাখা প্রয়োজন। মানসিক চাপ বৃদ্ধির কারণে মাইগ্রেন সমস্যা বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়া মানসিক চাপ বৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন রকম সমস্যা হতে পারে। যার কারণে মাইগ্রেনজনিত মাথা ব্যথা নিরাময় করতে সব সময় মানসিক চাপমুক্ত অবস্থায় থাকতে হবে।
মাথার পেছনে ব্যথার কারণ কি
আজকের আর্টিকেল মাথা ব্যথা কমানোর ১০টি ঔষধের নাম। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে অনেকেরই মাথার পিছনে অনেক ব্যাথা করে। এই ব্যাপারে চিকিৎসক জানান সাধারণত রক্ত সাপের তারতম্যের কারণে শরীর অত্যন্ত দুর্বল হয় ও মাথার পিছনে পর্যাপ্ত ব্যথা হয়। আর এই ব্যথার পরিমাণ তীব্র হলে বসে না থেকে খুব তাড়াতাড়ি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
নিউরো বিশেষজ্ঞ গণেরা মাছ মাথার পিছনে ব্যথা হওয়ার কিছু কারণ বর্ণনা করেছেন। আসুন দেখা যাক মাথার পেছনে ব্যাথা হওয়ার কারণ গুলো।
অতিরিক্ত টেনশন করাঃ অতিরিক্ত টেনশন করার জন্য শারীরিক বিভিন্ন রকম সমস্যা হয়। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে এই জন্য অতিরিক্ত টেনশন না করা ভালো। অতিরিক্ত টেনশন করার জন্য মাথার পিছনে পর্যাপ্ত ব্যথা হয়।
অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগাঃ অতিরিক্ত ক্ষুধা নিয়ে ঘোরাফেরা করা ভালো না। অতিরিক্ত খোদা নিয়ে চলাফেরা করেন যা অনেক ক্ষতির কারণ হতে পারে। অতিরিক্ত ক্ষুধার কারণে রক্তচাপ কমে যায় যার কারণে মাথার পিছনে ব্যথা হয়। এছাড়া অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগায় খাওয়ার পরে পেট ব্যথা সহ বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হয়। এছাড়াও অতিরিক্ত ক্ষুধার কারনে মাথার পিছনে পরিচর্য ব্যথা হয়।
শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়াঃ মাথার পেছনে ব্যাথা হওয়ার আরেকটি অন্যতম কারণ হলো অত্যাধিক শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়া। হঠাৎ করে অসুস্থতা অথবা ভিটামিন জাতীয় খাবারের অভাবের কারণে শরীর দুর্বল হয়ে যেতে পারে এবং সেই সঙ্গে মাথার পিছনে পর্যাপ্ত ব্যাথা হতে পারে। এইজন্য পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার মাধ্যমে শরীর সতেজ রাখতে হবে।
উচ্চ রক্তচাপঃ বর্তমান উচ্চ রক্তচাপ রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। হঠাৎ করে রক্তচাপ বৃদ্ধি পেলে মাথার পেছনে পর্যাপ্ত ব্যথা হয়। এইজন্য সর্বদা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করতে হবে। সাধারণত স্বাস্থ্যকর খাবার এবং অতিরিক্ত খাবার নিয়ন্ত্রণ করলেই উচ্চ রক্তচাপ হতে রক্ষা পাওয়া যায়।
রক্তচাপ কম হলেঃ অনেক সময় হঠাৎ করে রক্তচাপ কমে যায়। রক্তচাপ কমে গেলে শরীর অত্যন্ত দুর্বল হয় এবং সেই সঙ্গে মাথার পিছনে পর্যাপ্ত ব্যথা হয়। যার কারণে ভিটামিন জাতীয় খাবার খাওয়ার মাধ্যমে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ দেখা প্রয়োজন।
মানসিক চাপঃ মানসিক চাপ বৃদ্ধি পেলে শরীরের বিভিন্ন রকম সমস্যা তৈরি হয়। যার কারণে বিভিন্ন কষ্ট সত্বেও হাসিখুশি অবস্থায় থাকার প্রয়োজন। মানসিক চাপ বৃদ্ধি পেলে মাথার পিছনে তীব্র ব্যথা হয়।
শারীরিক বিভিন্ন রকম সমস্যাঃ শারীরিক বিভিন্ন রকম সমস্যার কারণে মাথার পিছনে অনেক ব্যথা হয়। যার কারণে শারীরিক সমস্যাগুলো দ্রুত চিকিৎসা করে সারিয়ে তুলতে হবে। সবসময় শারীরিক সুস্থ ও মন প্রফুল্ল অবস্থায় থাকতে হবে।
ঘুম কম হওয়াঃ ঘুম কম হওয়ার কারণে শারীরিক বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হয়। এছাড়া ঘুম কম হওয়ার ফলে শরীরে সেরাটনিন হরমোনের ভারসাম্য থাকেনা যার কারণে মাথার পেছনে পর্যাপ্ত ব্যথা হয়। এই জন্য সর্বদা পর্যাপ্ত ঘুমানো প্রয়োজন। প্রতিদিন গড়ে ৬ থেকে ৭ ঘন্টা ঘুমানো প্রয়োজন। পর্যাপ্ত ঘুমানোর কারণে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য ঠিক থাকে।
ধূমপানঃ ধূমপান করার কারণে শরীরে বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হয়। এছাড়া ধূমপান করার ফলে রাতে ঘুম কম হয় এবং টেনশন বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ধূমপান করার ফলে মাথার পিছনে পর্যাপ্ত ব্যথা হয়। যার কারণে ধূমপান থেকে দূরে থাকা প্রয়োজন।
লেখকের মন্তব্য
সুপ্রিয় পাঠক বৃন্দ মাথা ব্যথা কমানোর ১০টি ঔষধের নাম বিষয়ে আজকের আর্টিকেল লেখা শেষ করলাম। আজকের আর্টিকেলে মাইগ্রেনের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা থেকে বাঁচার বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়া কি কারণে মাথার পিছনে পর্যাপ্ত ব্যথা হয় সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
আজকের আর্টিকেল অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। যার কারণে আজকের আর্টিকেল সবার জন্য জানা অত্যন্ত প্রয়োজন। আশা করি আজকের আর্টিকেল আপনাদের ভালো লাগবে এবং উপকৃত হবেন। কোন কিছু জানার থাকলে কমেন্ট বক্সে জানাবেন। ভালো লাগলে বন্ধুদের মাঝে লাইক কমেন্ট ও শেয়ার করবেন।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url