নামজারি করতে কতদিন সময় লাগে
সুপ্রিয় পাঠক বৃন্দ নামজারি করতে কতদিন সময় লাগে এ বিষয়ে আজকের আর্টিকেল লেখা শুরু করলাম। আজকের আর্টিকেলে আরো লেখা হবে অনলাইনে নামজারি করতে কি কি লাগে। নামজারি করার নিয়ম ২০২৪। পৈত্রিক সম্পত্তি নামজারি করার নিয়ম। নামজারি বাতিল করার নিয়ম।
খাস জমি নামজারি করার নিয়ম। এগুলো বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যা আপনাদের জানা দরকার। এগুলো বিষয় জানতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।
ভূমিকা
প্রিয় পাঠক বৃন্দ আজকের আর্টিকেল নামজারি করতে কতদিন সময় লাগে। সাধারণত পৈত্রিকভাবে জমির অংশ সবায় পেয়ে থাকে। এছাড়াও ক্রয় দলিলের মাধ্যমে জমির মালিক হওয়া যায়। জমির নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী প্রতিবছর খাজনা পরিষধ করতে হয়।এছাড়াও জমির বন্ধকের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে লোন গ্রহণ করা যায়।
আর ও পড়ুনঃ কন্ঠস্বর সুন্দর করার ১৫টি ঘরোয়া উপায়
জমি বন্ধক রেখে লোন গ্রহণ করা অথবা জমি ক্রয় বিক্রয়ের জন্য অবশ্যই নামজারি লাগবে। নামজারির মাধ্যমে জমির নিজস্বভাবে খাজনা সহ জমি সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ করা অত্যাধিক সহজ হয়। যার কারণে কিছু নিয়ম পালন করে নিজের নামে সকল জমি নাম জারি করা প্রয়োজন।
অনলাইনে নামজারি করতে কি কি লাগে
আজকের আর্টিকেল নামজারি করতে কতদিন সময় লাগে। জমি ক্রয় বিক্রয় খাজনা পরিষদ ব্যাংক লোন রেকর্ড সংশোধন এবং নতুন রেকর্ডিং এর নাম বসাতে জমি নামজারি করা প্রয়োজন।
নাম জারি করার মাধ্যমে জমির প্রথম বারে বিক্রয় করার পরে দ্বিতীয় পক্ষের কাছে আবার বিক্রয় করা যায় না। অনলাইনে নামজারি করতে কি কি কাগজ লাগে তা আলোচনা করা হলো।
মূল দলিলঃ জমির মূল দলিল প্রয়োজন হয় এবং জমি কিভাবে ক্রয় করা হয়েছে এবং সাব রেজিস্টার কর্তৃক জমি ক্রয় করা হয়েছে কিনা।
বায়া দলিলঃ জমি যার কাছ থেকে ক্রয় করা হয়েছে ক্রয় করা ব্যক্তি যদি পূর্বেে উক্ত জমি অন্য কোন ব্যক্তির থেকে ক্রয় করেন তাহলে সেই দলিলটি বায়া দলিল। বায়া দলিলের প্রয়োজন হয়।
খতিয়ানঃ আর এস, বিএস খতিয়ানের সার্টিফাইড কফির ফটোকপি লাগবে। এছাড়াও উক্ত খতিয়ান গুলোর মূল কপি দেখাতে হবে।
খারিজ খতিয়ানঃ ক্রয় করা জমির ক্ষেত্রে খারিজ খতিয়ানের প্রয়োজন হয়। যার থেকে জমি ক্রয় করা হয়েছে তার উক্ত জমি খারিজ করা থাকলে উক্ত খারিজ খতিয়ান লাগবে।
ডি সি আরঃ খারিজ খতিয়ানের সঙ্গে ডি সি আর প্রয়োজন হয়। সহকারী কমিশনার ভূমি স্বাক্ষরিত ডিসিআর এর ফটোকপি সংযুক্ত করতে হবে।
খাজনা পরিষদের রশিদ বা দাখিলাঃ যে জমি নামজারি করা হবে উক্ত জমির খাজনার রশিদ প্রয়োজন। খাজনার রশিদের ফটোকপি সংযুক্ত করতে হবে।
ওয়ারিশান সার্টিফিকেটঃ জমি যদি ওয়ারিশের মাধ্যমে পাওয়া যাই তাহলে উক্ত ওয়ারিশের ওয়ারিশান সার্টিফিকেট লাগবে।
জাতীয় পরিচয় পত্রঃ জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি প্রয়োজন। অনলাইনে ভূমি নামজারির জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের জাতীয় পরিচয় পত্র লাগবে।
ছবিঃ নামজারি আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজ ছবি প্রয়োজন। নামজারি আবেদনের ছবি ব্যবহার না করলে সরকারি কমিশনার ভূমি উক্ত নামজারী বাতিল করার এখতিয়ার রাখেন।
মোবাইল নাম্বারঃ নামজারীর আবেদনকারীর মোবাইল নাম্বার অত্যন্ত প্রয়োজন। মোবাইল নাম্বারের মাধ্যমে আবেদনকারীর কাছে পাসওয়ার্ড যাবে যেটা আবেদনের জন্য প্রয়োজন।
ছাড়াও অনলাইনে নামজারির আবেদনের ক্ষেত্রে নামজারীর অবস্থান জানতে এবং নামধারী পরিপূর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে সকল তথ্য মোবাইলে মাধ্যমে আদান-প্রদান হবে। এগুলো কাগজপত্রের মাধ্যমে অনলাইনে নামদানির আবেদন করা যায়।
নামজারি করতে কতদিন সময় লাগে
নামজারি করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে অনলাইনে আবেদন করতে হয়। আবেদনপত্র ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যাওয়ার পরে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের প্রধান নায়েক উক্ত কাগজপত্র যাচাই করে খসড়া খারিজ খতিয়ান তৈরি করে সার্ভেয়ার বরাবর প্রেরণ করবেন।
আর ও পড়ুনঃ কেন কাদবেন ও কান্নার ১০টি উপকারিতা
আরবিহার যাচাই করে কানুন গোর গাছের প্রেরণ করবেন। সহকারী কমিশনার ভূমি অফিসের কানুন যাচাই করে সহকারী কমিশনার ভূমির কাছে প্রেরণ করবেন। কমিশনার ভূমির স্বাক্ষরের পরে উক্ত নামজারীর হারেজ খতিয়ান ও ডিসিআর সংগ্রহের জন্য মোবাইলের মাধ্যমে এসএমএস পাঠানো হবে।
নামজারি করতে কতদিন সময় লাগে জানা প্রয়োজন। এগুলো প্রক্রিয়া শেষ করতে সর্বোচ্চ ২৮ দিন সময় লাগে। তবে নামজারি নিষ্পত্তি হওয়ার সময় কোন সমস্যা না থাকলে ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে হয়।
নামজারি করার নিয়ম ২০২৪
আপনি অনলাইনে নামজারি করার জন্য নিয়ম খুজতেছেন। হলে আজকের এই পোস্ট থেকে এই নিয়মগুলো জানতে পারবেন। অনলাইনে জমি নামজারি করতে প্রথমে আবেদন করতে হবে।
Land gov bd ওয়েবসাইটে যে আপনার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোডের মাধ্যমে আবেদন পত্র আবেদন করতে হবে। আবেদনের সময় ২০ টাকার কোড কি ও ৫০ টাকা আবেদন ফি জমা দিতে হবে। আবেদনের সময় যে সকল কাগজপত্র লাগবে।
*আবেদনকারী ছবি
*আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয় পত্র
*জমি ক্রয়ের দলিল
*ক্রয় করা জমির সর্বশেষ খতিয়ান
*ওয়ারিশ সনদপত্র যদি লাগে।
আপনি নিজেও মোবাইল অথবা কম্পিউটার থেকে আবেদন করতে পারেন। ছাড়াও কম্পিউটারের দোকানে যে আবেদন করতে পারেন। আবেদন করার পরে আবেদন মঞ্জুর হলে আপনার মোবাইলে মেসেজ ও মোবাইল কলের মাধ্যমে আবেদন মঞ্জুর এর তথ্য জানাবে।
আবেদন টি প্রথমে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের য যাবে। ইউনিয়ন ভূমি অফিস সকল তথ্য পরীক্ষা করে একটি নামধারী খতিয়ান তৈরি করে পুনরায় এসিল্যান্ড সহকারী কমিশনার ভূমির অফিসে পাঠাবেন। এরপরে শুনানের জন্য সহকারী কমিশনার ভূমির পক্ষ থেকে আপনাকে নির্ধারিত দিন জানানো হবে।
নির্ধারিত দিনে সোনালীর পরে আবেদনটি মঞ্জুর হলে আপনাকে মেসেজের মাধ্যমে নামজারি খতিয়ান ও ডিসিআর সংগ্রহের জন্য এসএমএসের মাধ্যমে খবর জানাবে। নির্দিষ্ট দিশিয়ার ফি প্রদান করে নামজারি খতিয়ান সংগ্রহ করতে পারবেন।
পৈতৃক সম্পত্তি খারিজ করার নিয়ম
আজকের আর্টিকেল নামজারি করতে কতদিন সময় লাগে। আপনার পৈত্রিক সম্পত্তি নামজারি করার জন্য বিভিন্ন সমস্যায় ভুগতেছেন। আমাদের এই আর্টিকেল ভিজিট করলে এগুলো তথ্য পুরোপুরি জানতে পারবেন।
উর্ধ্বতন মালিকের মৃত্যুর কারণে তার ওয়ারিশগণ উক্ত সম্পত্তির মালিক হন। যার কারণে নিজেদের নামে উক্ত সম্পত্তি নামধারী করতে পারবেন। পৈতৃক সম্পত্তি নামজারি করার নিয়ম হলো।
*মৃত ব্যক্তির মৃত্যুসনদপত্র গ্রহণ করতে হবে।
*মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তির ওয়ারিশগণের নাম বয়স এবং সম্পর্ক সম্পর্কিত ওয়ারিশান সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হবে।
*মৃত্যু মৃত ব্যক্তির সম্পদ থেকে তার ঋণ থাকলে সেগুলো পরিশোধ করতে হবে।
*মৃত ব্যক্তির থাকলে সেগুলো পূরণ করতে হবে।
*মৃত ব্যক্তির স্ত্রী জীবিত থাকলে তার মোহরানার টাকা পরিশোধ না করা থাকলে সেগুলো পরিশোধ করতে হবে।
*মৃত ব্যক্তির সকল ঋণ পরিশোধের পরে যে সম্পদ থাকবে সেই সম্পদ সাবরেজিস্টার অফিসে বন্টননামা দলিল হতে হবে।
*দলিল করতে না পারলে সকলের অংশ হিসেবে খারিজ করা যাবে।
এগুলো পর্যায় অতিক্রম করার পরে নিজ নামে খারেজের আবেদন করে খারিজ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী খারিজের আবেদন করতে হবে। এদের আবেদনের পরে ক্রমান্বয়ে সকল ধাপ পূরণ হওয়ার পরে সহকারি অফিসার ভূমি কর্তৃক শুনানির দিনে ধাহ্য করবে।
শুনানিতে আপনার আবেদন মঞ্জুর হলে নির্দিষ্ট ফি দিয়ে নামজারি খতিয়ান ও ডিসিআর সংগ্রহ করতে হবে।
নামজারি বাতিল করার নিয়ম
নামজারি আবেদনের কাগজপত্র গরমিল হলে অথবা কোন কাগজ না থাকলে নামজারি আবেদনপত্র বাতিল করা যাবে না। ভূমি মন্ত্রণালয় এ সম্পর্কিত পরিপত্র জারি করেছে। এক্ষেত্রে বলা হয়েছে ভূমি নামজারির ক্ষেত্রে যে সকল তথ্য লাগবে সেগুলোর সব আপলোড করে আবেদন করতে হবে।
আর ও পড়ুনঃ পেট ঠান্ডা রাখার ঘরোয়া উপায়
আবেদন করতে কোন কাগজ যদি না থাকে শুনানের সময় সেটা জানা যায় তাহলে আবেদনপত্র বাতিল হবে না। এক্ষেত্রে সরকারি কমিশনার ভূমি উক্ত নামজারি আবেদনটি পুনরায় সাত দিন সময় দিবেন। এই সময়ের মধ্যে যেগুলো কাগজপত্র নাই সেগুলো আপলোড করতে হবে।
সকল কাগজপত্র আপলোড করার পরে পুনরায় শুনানির মাধ্যমে ভূমি নামজারি সম্পূর্ণ হবে। কোন ব্যক্তি সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে না পারলে সাত দিন পরে সরকারি কমিশনার ভূমি উক্ত আবেদনপত্র বাতিল করতে পারবেন।
তবে নামজারির ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয় পত্রের নামের পার্থক্য থাকলে মুঠোফোনের নাম্বার ঠিক না থাকলে আবেদন পত্রটি বাতিল করা যাবে না।
খাস জমি নামজারি করার নিয়ম
সকল তুমি ব্যক্তি মালিকানায় থাকে না সেগুলো ভূমিকা খাস জমি বলা হয়। এগুলো জমির মালিক সরকার। যার কারণে খাস জমি কিছু নিয়ম পালনের মাধ্যমে নিজের নামে রেকর্ড করে নিতে পারেন। আর জমি রেকর্ড করতে হলে কিছু নিয়ম পালন করার প্রয়োজন।
খাস জমিয়ে রেকর্ড করার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করতে হবে। জেলা প্রশাসক কৃষি ও অকৃষি জমি ৯৯ বছরের জন্য লিস্ট দিতে পারবে। জমি নিজের নামে নামজারি করা যাবে। খাস জমি জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করতে হবে।
https://mutation.land.gov.bd এই ওয়েবসাইট ভিজিট করে খাস জমির নামজারি আবেদন করতে হবে। এইজন্য কোড কোর্ট ফি ২০ টাকা প্রসেস ফি ৫০ টাকা ডিসিআরপি ১১০০ টাকা সহ সর্বমোট ১১৭০ টাকা খরচ হবে।
পদ্ধতি অবলম্বন করে ৯৯ বছরের জন্য খাস জমি নামধারী করা যাবে। জমির নামজারি করার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে যা আলোচনা করা হলো।
*খাস জমি নামজারির আবেদন করতে হলে অবশ্যই ভূমিহীন হতে হবে অথবা দশ শতাংশ জমির কম জমে থাকতে হবে।
*কোল জমি ব্যক্তি মালিকানায় নাই এবং এক নম্বর জমি নাম জারি করা যাবে।
*জমি হলেও কারো নামে লিস্ট থাকলে সেগুলো নতুন করে নাম দাড়ি করা যাবে না।
*খাস জমির মালিক সরকার যাহা এক নম্বর খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত।
জমিগুলো জেলা প্রশাসকের অধীনে থাকে। খাস জমি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে নিজের জন্য আবেদন করতে হবে। জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ৯৯ বছরের লিজ পেলে লিস্কৃত জমি সহকারী কমিশনার ভূমির মাধ্যমে নামজারি করা যাবে।
লেখক এর মন্তব্য
নামজারি করতে কতদিন সময় লাগে এ বিষয়ে আজকের আর্টিকেল লেখা হয়েছে। আরো লেখা হইছে অনলাইনে নামজারি করতে কি কি লাগে। নামজারি করার নিয়ম ২০২৪। পৈত্রিক সম্পত্তিক নামজারি করার নিয়ম। নামজারি বাতিল করার নিয়ম।
খাস জমি নামজারি করার নিয়ম। কোন বিষয়েই গুগল সহ ভূমি সম্পর্কিত বিভিন্ন গ্রন্থ থেকে বিভিন্ন তথ্য গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয় জানতে আজকের আরডিকেল ভিজিট করুন। ভালো লাগলে লাগবে এবং উপকৃত হবেন। বন্ধুদের মাঝে লাইক কমেন্ট ও শেয়ার করবেন।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url