কন্ঠস্বর সুন্দর করার ১৫টি ঘরোয়া উপায়

প্রিয় পাঠকগন কন্ঠস্বর সুন্দর করার ১৫টি ঘরোয়া উপায় বিষয়ে আজকের আর্টিকেল লেখা শুরু করা হলো। আরো লেখা হয়েছে মোটা কন্ঠ চিকন করার উপায়। মেয়েদের গলার কন্ঠ সুন্দর করার উপায়। গলা ভাঙ্গা দূর করার উপায়। ঠান্ডা লেগে গলা বসে গেলে কি করতে হবে। এগুলো বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ বক্তব্য রাখা, গান গাওয়া, কবিতা আবৃত্তি, ইত্যাদি পরিচালনার জন্য ভালো কণ্ঠের প্রয়োজন হয়। এজন্য কণ্ঠস্বর সুন্দর করার বিষয়টি জানার জন্য আজকের আর্টিকেল ভিজিট করুন।

ভূমিকা

আজকের আর্টিকেল কন্ঠস্বর সুন্দর করার ১৫টি ঘরোয়া উপায়। সুন্দর কন্ঠ আল্লাহর দান। এরপরেও যাদের কন্ঠ সুন্দর নয় কিছু অনুশীলণের মাধ্যমে সেগুলো কন্ঠ সুন্দর করা যায়। ঠান্ডা ও বিভিন্ন কারণে গলা বসে যেতে পারে। কন্ঠের যত্ন ও চিকিৎসার ফলে গলা বসে যাওয়া সমস্যা দূর করা সম্ভব হয়।
এরপরেও বিভিন্ন কারণে গলা ভেঙ্গে যায়। এক থেকে দুই সপ্তাহ সঠিক যত্নের কারণে গলা ভাঙ্গা দূর করা যায়। কন্ঠের কোন সমস্যা হলে তাড়াতাড়ি চিকিৎসা না করলে কণ্ঠনালির ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। এই জন্য কন্ঠ সুন্দর করার ব্যাপারে জানতে আজকের আর্টিকেল ভালোভাবে পড়ুন।

মোটা কন্ঠ চিকন করার উপায়

অনেকের কণ্ঠস্বর মোটা বা অন্যরকম হতে পারে। মোটা কণ্ঠস্বর কে চিকন করার চেষ্টা করতে হবে। আজকের আর্টিকেল কন্ঠস্বর সুন্দর করার ১৫টি ঘরোয়া উপায়। মোটা কন্ঠ চিকন করার উপায় গুলো বর্ণনা করা হলো।

উচ্চারণ ও মুখের স্থানঃ কণ্ঠস্বর মোটা থেকে চিকন করার জন্য মুখের উচ্চারণের স্থান ও মুখের স্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মোটা স্বর থেকে চিকন স্বর করতে হলে ভালোভাবে শ্বাস পাঠানো, উচ্চারণ ও সঠিক স্থানে চিকন করে উচ্চারণ করার চেষ্টা করতে হবে। ফাপানো শ্বাসে উচ্চারণ করার মাধ্যমে মোটা শ্বাস চিকন করা যায়।

স্বরের নির্দেশাবলী ঠিক করাঃ কণ্ঠস্বর সুস্পষ্ট ও চিকন করার জন্য নির্দেশাবলির মধ্যে উচ্চারণের বিন্যাস ঠিকমতো হতে হবে। অনুসরণ করে মোটা কন্ঠ থেকে আস্তে আস্তে চিকন করার চেষ্টা করতে হবে। কয়েকদিন চেষ্টা করলে মোটা কন্ঠ চিকন হয়ে যাবে।

নিয়মিত স্বরের ব্যায়াম করাঃগলার কণ্ঠস্বর সুন্দর করার জন্য প্রতিদিন সকালে মৃদুভাবে গুনগুন বা ঘুঘু পাখির মতো আওয়াজ করে ওয়ার্ম আপ করার প্র্যাকটিস করা যেতে পারে। 

যেকোনো ধ্যান আসনে মেরুদণ্ড সোজা করে দুই হাত হাঁটুর উপর রেখে নাক দিয়ে বুক ভরে পর্যাপ্ত নিঃশ্বাস গ্রহণ করুন। এরপরে ১০ সেকেন্ড দম বন্ধ করে রাখুন। আস্তে আস্তে দম ছেড়ে দিন। পেটের পেশি আস্তে আস্তে যেন ভেতরের দিকে বসে যায়। 

যে সময় নিঃশ্বাস গ্রহণ করবেন তার চাইতে বেশি সময় ধরে নিঃশ্বাস ত্যাগ করুন। এভাবে ২৫ বার করুন। এভাবে ব্যায়াম করার মাধ্যমে কন্ঠ সুন্দর করা যেতে পারে। 

মেরুদন্ড সোজা করে বসুন। বৃদ্ধাঙ্গুলী দ্বারা ডাননাক বন্ধ করে বাম নাক দিয়ে নিঃশ্বাস গ্রহণ করুন। এইবার বাম নাক বন্ধ করে ডান নাক দিয়ে আস্তে আস্তে বিশ্বাস ছাড়ুন। এভাবে ১৫ বার করুন। 

একটি ধ্যান আসনে মেরুদণ্ড সোজা করে দুই হাটুর উপর হাত রেখে সোজা হয়ে বসুন। এবার যতদূর সম্ভব শ্বাস গ্রহণ করুন এবং নিঃশ্বাস ছাড়ুন। নিঃশ্বাস ছাড়ার সময় নাক দিয়ে শব্দ করুন।

মেরুদন্ড সোজা করে ধ্যান আসনে বসুন। মুখ থেকে জিহবা বাহির করে যতদূর সম্ভব আ আওয়াজ করতে থাকুন। এতে স্বর সুন্দর হবে।

কন্ঠস্বর সুন্দর করার ১৫টি ঘরোয়া উপায়

মনের ভাব প্রকাশ করার মাধ্যম হচ্ছে কন্ঠ। মানুষের একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম কথা বলা। কথা বলার স্বর এক জনের একক রকমের হয়। কন্ঠ ভালো না হলে সঠিকভাবে যত্নের মাধ্যমে কন্ঠ ভালো করা সম্ভব। কন্ঠস্বর সুন্দর করার ১৫টি ঘরোয়া উপায় আলোচনা করা হলো।
অযথা চেঁচামেচি না করাঃ অযথা উচ্চস্বরে কথাবার্তা বললে ভোকাল কর্ডে মাইক্রো হেমারেজের সমস্যা হয়। যার কারণে শ্রেণীকক্ষ সভা সমাবেশ অথবা ছেলেমেয়েদের সঙ্গে কথা বলার সময় আস্তে এবং সুমধুর ভাবে কথা বলতে হবে। নিজের অজান্তেই জোরে কথা বলে নিজের স্বর নষ্ট করা হয়। ক্ষেত্রে জোরে কথা বলতে হলে সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা যেতে পারে।

ধূমপান থেকে বিরত থাকাঃ ধূমপান করলে সরাসরি গলায় আক্রান্ত হয়ে কন্ঠ কে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং জটিল করে তোলে। গবেষণায় দেখা গেছে ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ কণ্ঠনালীর ক্যান্সার ধূমপানের মাধ্যমে হয়ে থাকে। যার কারণে কন্ঠ ভালো রাখতে ধূমপান থেকে বিরত থাকার প্রয়োজন।

অত্যধিক ঠান্ডা পরিহার করাঃ অনেক সময় বাহিরে থেকে এসে গরমের জন্য ঠান্ডা পানি খেতে হয়। যাদের ঠান্ডায় এলার্জির মত সমস্যা আছে তাদের ক্ষেত্রে এই ঠান্ডা পানি খাওয়া অত্যন্ত ক্ষতিকর। অনেক সময় পর্যাপ্ত ঘামের জন্য শরীরে ঠান্ডা লেগে কণ্ঠস্বর নষ্ট হয়ে যায়। এইজন্য সর্বদা ঠান্ডা থেকে দূরে থাকা প্রয়োজন।

পর্যাপ্ত পানি পান করাঃ শরীরে পানির অভাব হলে গলার কণ্ঠস্বর বসে যায়। যার কারণে পর্যাপ্ত পানি পান করা প্রয়োজন। কন্ঠস্বর সুস্থ রাখতে প্রতিদিন দুই থেকে তিন লিটার পানি পান করা প্রয়োজন। এছাড়াও কফি চা কোমল পানীয় শরীরে কোষে পানি শূন্যতা কমায় এজন্য এগুলো অল্প পরিমাণ পান করা যেতে পারে।

খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর রাখাঃ দৈনন্দিন জীবনযাপনের জন্য খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে অত্যাধিক ঝাল ও মসলা জাতীয় খাবার থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। মসলা ও ঝাল খাওয়ার মাধ্যমে এসিডিটি বাড়ায় যার জন্য গলার স্বর বসে পড়ে।

বিশ্রাম দেওয়া প্রয়োজনঃ সবসময় অতিরিক্ত কথা না বলে মাঝে মাঝে কণ্ঠস্বরকে বিশ্রাম দেওয়া প্রয়োজন। এছাড়াও শরীরেও বিশ্রাম দেওয়া প্রয়োজন। পরিশ্রম ও শরীরের ক্লান্তির জন্য কণ্ঠস্বর বসে যেতে পারে।

গলা ভেঙ্গে গেলে অবহেলা না করাঃ কোন কারনে গলা ভেঙ্গে গেলে কোন রকম অবহেলা করবেন না। চিকিৎসা করে গলা ভাঙ্গা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া প্রয়োজন। তবে একবার গলা ভেঙ্গে গেলে পাচ থেকে সাত দিন ভালো হতে সময় লাগে। এই সময় অত্যন্ত ভালোভাবে বিশ্রাম গ্রহণ করা প্রয়োজন।

গরম পানি দিয়ে গড়গড়া করাঃ সকালে ঘুম থেকে উঠে অথবা ঘুমানোর আগে গরম পানিতে গড়গড়া করা যেতে পারে। পানিতে গড়গড়া করার মাধ্যমে মুখ ও কণ্ঠস্বর থেকে খারাপ ব্যাকটেরিয়া দূরীভূত হয়। এছাড়াও কন্ঠ অত্যন্ত শক্তিশালী হয়। এইজন্য নিয়মিত গরম পানিতে গড়গড়া করা প্রয়োজন।

ষষ্ঠীমধুঃ ষষ্ঠী মধু গলা ও কন্ঠের জন্য অত্যন্ত উপকারী। বিশেষ করে যারা সংবাদ পাঠক, গায়ক, অথবা বক্তা, তাদের জন্য নিয়মিত ষষ্ঠী মধু খাওয়া অত্যন্ত জরুরী। ষষ্ঠীর মধু খেলে কণ্ঠ দৃঢ় ও পরিষ্কার হয়।

রোজ সকালে রেওয়াজ পালন করাঃ কন্ঠকে সুন্দর করার জন্য প্রতিদিন সময় ও পরিশ্রম দুইটি ব্যয় করা প্রয়োজন। যারা সংগীতশিল্পী অথবা সংবাদ পাঠক প্রতিদিন ভালোভাবে কন্ঠ ব্যবহার করার জন্য রেওয়াজের মধ্যে রাখতে পারেন।

শরীর ঘেমে না যাওয়াঃ শরীর পর্যাপ্ত ঘেমে গেলে ঘাম থেকে ঠান্ডা লেগে গলা বসে যেতে পারে। এইজন্য শরীর যেন বেশি নাঘামে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। বিভিন্ন রকম কাজকর্ম করা অবস্থায় শরীর ঘেমে গেলে খুব তাড়াতাড়ি তোয়ালে দিয়ে গোটা শরীর মুছে ফেলতে হবে।

কন্ঠ নকল করে কথা না বলাঃ কন্ঠ নকল করে কথা বললে অথবা মোটা করে কথা বললে নিজস্ব কন্ঠ নষ্ট হয়ে যায়। নিজের কন্ঠ একটি প্রাকৃতিক দান। যতদূর সম্ভব নিজের কন্ঠকে নিয়মিত চর্চা করে সুন্দর করে কথা বলা প্রয়োজন।

ধুলাবালি থেকে দূরে থাকাঃ ধোয়া ও ধুলোবালি থেকে দূরে থাকতে হবে। প্রয়োজন বোধে মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে। ধুলাবালি ও ধোয়া শরীরে যাওয়ার মাধ্যমে কণ্ঠ ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।

মুখ ও কন্ঠ সুস্থ রাখাঃ মুখ ও কন্ঠ কোনরকম রোগে আক্রান্ত হলে অথবা ইনফেকশন হলে খুব তাড়াতাড়ি সেগুলো চিকিৎসা করে সারিয়ে তোলা প্রয়োজন। কন্ঠে ইনফেকশন বা কোন অসুখ হলে কন্ঠের বিকৃতি ঘটে।

পেটের যত্ন নেওয়াঃ পেটের রোগের সঙ্গে কণ্ঠস্বরের যোগাযোগ আছে। এক্ষেত্রে যেগুলো খাবারে এসিডিটি হয় সেগুলো বর্জন করা প্রয়োজন। সঠিকভাবে পেটের যত্ন নিলে পেটের সমস্যা হয় না যার কারণে কণ্ঠস্বরের ও সমস্যা হয় না।

মেয়েদের গলার কন্ঠ সুন্দর করার উপায়

মেয়েদের কণ্ঠস্বর সুন্দর করার জন্য চেষ্টা করা প্রয়োজন। কণ্ঠস্বর আল্লাহর দান তারপরেও বারবার অনুশীলনের মাধ্যমে কণ্ঠস্বর সুন্দর করা যায়। আজকের আর্টিকেল কন্ঠস্বর সুন্দর করার ১৫টি ঘরোয়া উপায়। মেয়েদের গলার কন্ঠ সুন্দর করার উপায় আলোচনা করা হলো।

*পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি খেতে হবে। এক্ষেত্রে অ্যালকোহল, চা ও কফি জাতীয় পানীয় খাওয়ার মাধ্যমে শরীরে পানি শূন্যতা তৈরি হয়। যার কারণে পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে।
*ধূমপান পরিহার করতে হবে। ধুমপানের মাধ্যমে গলার অনেক ক্ষতি হয় এমনকি ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়াও ধূমপানের মাধ্যমে স্বর তন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
*স্বরের উপর অত্যাচার অথবা অপব্যবহার করা যাবে না। কোলাহলপূর্ণ অবস্থায় চেচামাচি বা উচ্চস্বরে কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে। কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে উচ্চস্বরে চেচামেচি বা কথা বললে শ্বরতন্ত্রের ক্ষতি হয়।
*প্রতিদিন কিভাবে কথা বলেন তার দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। ভুল ভাবে কথা বলার কারণে স্বর তন্ত্রের ক্ষতি হয়। সঠিকভাবে উচ্চারণে বাংলা ইংরেজি বা অন্য ভাষায় যুক্ত করলে ও পরে কথা বললে ব্রেনের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।
*গলার কণ্ঠস্বর সুন্দর করার জন্য প্রতিদিন সকালে মৃদুভাবে গুনগুন বা ঘুঘু পাখির মতো আওয়াজ করে ওয়ারম আপ করার প্র্যাকটিস করা যেতে পারে।
*যেকোনো ধ্যান আসনে মেরুদণ্ড সোজা করে দুই হাত হাঁটুর উপর রেখে নাক দিয়ে বুক ভরে পর্যাপ্ত নিঃশ্বাস গ্রহণ করুন। এরপরে ১০ সেকেন্ড দুম দম বন্ধ করে রাখুন। আস্তে আস্তে দম ছেড়ে দিন। পেটের পেশি আস্তে আস্তে যেন ভেতরের দিকে বসে যায়।
*যে সময় স্বাশ গ্রহণ করবেন তার চাইতে বেশি সময় ধরে নিঃশ্বাস ত্যাগ করুন। এভাবে ২৫ বার করুন। এভাবে ব্যায়াম করার মাধ্যমে কন্ঠ সুন্দর করা যেতে পারে।
*মেরুদন্ড সোজা করে বসুন। বৃদ্ধাঙ্গুলী দ্বারা ডাননাক বন্ধ করে বাম নাক দিয়ে নিঃশ্বাস গ্রহণ করুন। এইবার বাম নাক বন্ধ করে ডান নাক দিয়ে আস্তে আস্তে বিশ্বাস ছাড়ুন। এভাবে ১৫ বার করুন।
*একটি ধ্যান আসনে মেরুদণ্ড সোজা করে দুই হাটুর উপর হাত রেখে সোজা হয়ে বসুন। এবার যতদূর সম্ভব শ্বাস গ্রহণ করুন এবং নিঃশ্বাস ছাড়ুন। নিঃশ্বাস ছাড়ার সময় নাক দিয়ে শব্দ করুন।
*মেরুদন্ড সোজা করে ধ্যান আসনে বসুন। মুখ থেকে জিহবা বাহির করে যতদূর সম্ভব আ আওয়াজ করতে থাকুন। এতে স্বর সুন্দর হবে।

গলা ভাঙ্গা দূর করার উপায়

গলা ভেঙ্গে গেলে কথা বলা অনেক কষ্টকর হয়। যার কারণে গলাভাঙ্গা দূর করার জন্য কিছু নিয়ম আছে যা পালন করা আমাদের প্রয়োজন। গলাভাঙ্গা দূর করার উপায় আলোচনা করা হলো।
*সাধারণত লবন পানি দিয়ে গলা গড়গড়া করা উপকারী পদ্ধতি। দিনে সর্বনিম্ন চারবার লবণ পানি দিয়ে গড়গড়া করতে হবে। ভালো আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে গরম পানির বাষ্প টানা। ফুটন্ত পানির বাষ্প প্রতিদিন সর্বনিম্ন ১০ মিনিট মুখ ও গলা দিয়ে টানা হয় তাহলে উপকার পাওয়া যাবে।
*গলা ভাঙ্গার কারণে আদা চা এবং গরম লেবু চা অনেক উপকারী। ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসকারী উপাদান রয়েছে শুকনো আদায়, গলা বসে যাওয়ার স্বরকে আবার স্বাভাবিক করে তোলে।
*গরম পানিতে মধু মিশিয়ে অনেকে পান করেন গলা ঠিক করতে। মধু গলা ব্যথায় আরাম ও রোগ প্রতিরোধে আরাম দিয়ে থাকে।
*যারা জোরে কথা বলে, তাদের সর্বদা কন্ঠ ব্যবহার করতে হয়। যেমন সঙ্গীতশিল্পী ও রাজনীতিবিদ। তাদের কিছু দিন কন্ঠের বিরতি নেবেন। আর এই বিরতির ফলে শ্বাসনালীতে প্রদাহ কমে আসে।

ঠান্ডা লেগে গলা বসে গেলে কি করতে হবে

গলার স্বর বসে গেলে বা পরিবর্তন নিয়ে প্রায় মানুষ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে থাকেন। শীতকালে এই সমস্যা অনেকের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায়। আমাদের স্বর তন্ত্রের গঠন প্রকৃতি এবং কার্যপ্রণালী বেশ জটিল। ল্যারিংস বা স্বর তন্ত্রের মাঝ বরাবর থাকেন ভোকাল কোড,এর আবার দুটি অংশ আছে।

এই ভোকাল কার্ডের সমন্বিত নড়াচড়া ও সে সঙ্গে জিব্বা, এবং মুখের মাংসপেশি, খাদ্যনালির অংশ হিসেবে আরো অনেক সহযোগিতায় আমরা কথা বলার কাজ করি। এই সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহনূর শারমিন।

ল্যারিংস ভোকাল কার্ডের গুরুত্ব অনেক বেশি। উঁচু গলায় কথা বললে গলার স্বর পরিবর্তন হতে পারে। আবার ঠান্ডা লাগার কারণে গলার স্বর পরিবর্তন হয়। এজন্যই শীতের স্বর তন্ত্রের প্রদাহ ও ল্যারিনজাইটিসের কারণে গলার স্বর বসে যাওয়ায় সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা দেয়। তার সাথে কফ ও ঠান্ডা এবং গলা ব্যাথা থাকতে পারে।

ঠান্ডা ধুলাবালি এড়িয়ে চলা।কুসুম গরম পানি দিয়ে গড়গড়া করা, আদা, লবণ ইত্যাদি খেলে কণ্ঠস্বর আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে আসে। তা ছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এন্টিহিস্টামিন বা এন্টিবায়োটিক ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে। ব্যক্তিগত কারণে যারা বেশি কথা বলেন।

যেমন শিক্ষক, চিকিৎসক,গায়ক ও ক্যানভাসার ইত্যাদি এদের ক্ষেত্রে গলার স্বরে সমস্যা দেখা দেয়। তাই ক্রমাগত কথা বলার কারণে স্বর তন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হয়ে থাকে, যাকে বলা হয় ক্রনিক ল্যারিনজাইটিস। আবার কোন কোন ভোকাল কর্ডে পলিপ, নডিউল এবং টিউমার হতে পারে।

এই সময়ে প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন কোন ব্যথা বা অসুবিধা থাকে না, শুধু গলার স্বর বসে যায়। যা সময়ের সঙ্গে বেড়ে যেতে পারে, এবং শ্বাসকষ্ট হতে পারে। আবার অন্য কোন কারণে গলার স্বর পরিবর্তন হতে পারে। বিশেষ করে স্বরযন্ত্র বা শ্বাসনালীর ক্যান্সার জাতীয় সমস্যা হলে গলার স্বর বসে যায়।

যদি গলার স্বরের সমস্যা চার থেকে ছয় সপ্তাহের বেশি থাকে, সঙ্গে কাশি, কফ বা গলা দিয়ে রক্ত পড়ার সমস্যা থাকে,ওজন কমার লক্ষণ দেখা দেয়, শ্বাসকষ্ট থাকে ধূমপানের ইতিহাস থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। আরো কিছু কারনে গলার স্বর পরিবর্তন হতে পারে।

যেমন থাইরয়েড হরমোনের অভাবে ও হাইপোথাইরয়েডিজম কারণে গলার স্বর ফ্যাসফেসে হতে পারে, অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা থাকলে গলার স্বর পরিবর্তন হয়। গলার স্বর ভেঙ্গে যাওয়ার সমস্যা কে আমরা অধিকাংশ সময় খুব একটা গুরুত্ব দেই না, কিন্তু এর পেছনে মারাত্মক কোন কারণ থাকা অসম্ভব নয়।

এজন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সঠিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কারণ গুলোর সমস্যার সমাধান বের করে সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরী। আমার স্বরযন্ত্রের যত্ন নেওয়া দরকার।

উঁচু গলায় কথা কম বলা, ধূমপান ও মদ পান না করা, পান সুপারি বা জর্দা কম খাওয়া, অতিরিক্ত গরম বা ঝাল খাবার না খাওয়া এবং শীতের শুল্ক আবহাওয়ায় ঠান্ডা বা ধুলাবালি থেকে বাঁচতে, কোভিড ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে অবশ্যই, আমাদের মাক্স ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরী।

লেখকের মন্তব্য

প্রিয় পাঠক বন্ধুগণ কন্ঠস্বর সুন্দর করার ১৫টি ঘরোয়া উপায় বিষয়ে আজকের আর্টিকেল লেখা হল। কণ্ঠস্বর সুন্দর করা এবং সুন্দর করে কথা বলা এক ধরনের সৌন্দর্য। যার কারনে যাদের কণ্ঠস্বর সুন্দর নয় বিভিন্ন নিয়মে অনুশীলনের মাধ্যমে সেগুলো কণ্ঠস্বর সুন্দর করা যায়।

কণ্ঠস্বর সুন্দর করা ব্যাপারে আজকের আর্টিকেল লেখা হইছে। আজকের আর্টিকেল বিস্তারিত জানার জন্য ভিজিট করুন। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে এবং উপকৃত হবেন। কোন কিছু জানার থাকলে কমেন্টে জানাবেন। ভালো লাগলে বন্ধুদের মাঝে লাইক কমেন্ট ও শেয়ার করবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url