যুবসমাজে মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার ও তার কুফল
সুপ্রিয় পাঠক বন্ধুগণ যুবসমাজে মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার ও তার কুফল বিষয়ে আজকের আর্টিকেল লেখা শুরু করলাম। মোবাইল ফোন আমাদের ব্যবহার করা প্রয়োজন। তবে মোবাইল ফোনে যেন আসক্তি না হয় সে ব্যাপারে লক্ষ্য রাখতে হবে।
মোবাইল ফোনের ব্যবহারে কোন অপব্যবহার করা। মোবাইল ফোনের ব্যবহার সম্পর্কে জানতে আজকের আর্টিকেল ভিজিট করুন।
ভূমিকা
আজকের আর্টিকেল যুবসমাজে মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার ও তার কুফল।মোবাইল ফোন বর্তমানে আমাদের কাছে একটি অপরিহার্য ইলেকট্রিক যন্ত্র। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দেশ-বিদেশ অবস্থানরত সবার সঙ্গে খুব তাড়াতাড়ি যোগাযোগ রক্ষা করা সম্ভব। মোবাইলে ফোন ব্যবহার করার জন্য বেতার তরঙ্গ এর সঙ্গে কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
আর ও পড়ুনঃ জেনে নিন ক্যাপসিকাম এর অপকারিতা
মোমোবাইল ফোন দ্বারা যোগাযোগ রক্ষা বিভিন্ন জায়গায় এসএমএস পাঠানো মাল্টিমিডিয়ার কাজ ইমেইল ও ইন্টারনেট সেবা সহ বিভিন্ন প্রকার সেবা পাওয়া যায়। বিশেষ করে বিভিন্ন অফিস-আদালতের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা অফিস আদালতের কাজ করা ও অর্থনৈতিক লেনদেনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মোবাইলের ব্যবহার সম্পর্কে জানতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।।
মোবাইল আসক্তি কমানোর উপায়
আজকের আর্টিকেল যুবসমাজে মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার ও তার কুফল। বর্তমানে মুঠোফোন সবারই নৃত্য সংগী। মোবাইল ফোন ছাড়া চলাফেরার সবার জন্য অনেক কষ্টকর হয়েছে। এছাড়া পরস্পর যোগাযোগের কারণে মোবাইল ফোন অত্যন্ত জরুরী। অপরদিকে মোবাইলে ফোনের অপব্যবহারের কারণে আস্তে আস্তে মোবাইলে ফোনের প্রতি আসক্তি বেড়ে যাচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক বলেছেন কিছু পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করা গেলে মোবাইল ফোনের আসক্তি কমানোর সম্ভব। মোবাইল ফোনের আসক্তির কারণে মানসিক বিষন্নতা ও বিভিন্ন রকম স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি হচ্ছে। যার কারণে কিছু কৌশল অবলম্বন করলে মোবাইল ফোনের আসক্তি থেকে দূরে থাকা সম্ভব।
এক দশক ধরে মোবাইল ফোনের অপব্যবহারের কারণে মোবাইল ফোনের প্রতি সবারই আসক্তি বেড়ে যাচ্ছে। গবেষকগণেরা কিছু কৌশল ব্যবহার করে মোবাইল ফোনের আসক্তি কমাতে পেরেছেন বলে ধারণা করা হয়। মোবাইল ফোনের আসক্তি কমানোর উপায় গুলো আলোচনা করা হলো।
নোটিফিকেশন নিয়ন্ত্রণ করাঃ মোবাইল ফোনের এমন কিছু নোটিফিকেশন রয়েছে যেগুলো কোন কাজে লাগে না। এগুলোর মধ্যে শব্দ ব্যানার ভাইব্রেশন ইত্যাদি যেগুলো মোবাইল ফোন থেকে বাদ দেওয়া যেতে পারে।
সময় নির্ধারণ করাঃ মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোন অ্যাপ কতক্ষণ ব্যবহার করবেন তার একটা সময় নির্ধারণ করতে হবে। এভাবে কম সময় নির্ধারণ করার ফলে মোবাইলের আসক্তি কমানোর সম্ভব হয়।
ঘুমের সময় মুঠোফোন দূরে রাখাঃ ঘুমের সময় নির্ধারণ করা দর প্রয়োজন। বিশেষ করে রাত দশটার মধ্যে ঘুমিয়েপড়া প্রয়োজন। ঠিক ঘুমিয়ে পড়ার পূর্বেই মোবাইল ফোনটা একটু দূরে রেখে দিতে হবে। এছাড়া ঘুমের সময় মোবাইল ফোন সাইলেন্ট করে রাখা যেতে পারে। মোবাইল ফোন দূরে রাখার ফলে ঘুমের ব্যাঘাত হতে বাঁচা যায়।
মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে পরিবর্তন করাঃ মুঠো ফোনের ডিসপ্লে তে সাদাকালো পর্দা থাকলে মোবাইলে প্রতি আকর্ষণ কমে যায়। যার কারনে মোবাইলের ডিসপ্লেটি সাদা কালো রাখা প্রয়োজন। যার ফলে মোবাইল আসক্তির পরিমাণ আস্তে আস্তে কমানো সম্ভব হয়।
কিছু অ্যাপ লুকিয়ে রাখাঃ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কিছু অ্যাপ লুকিয়ে রাখার ফলে মোবাইলের আসক্তি কমানো সম্ভব হয়। এক্ষেত্রে যাহারা ইমেইল টিক টক ইনস্টাগ্রাম ফেইসবুক এর মতো অ্যাপ সব সময় ব্যবহার করেন তারা এগুলো অ্যাপ লুকিয়ে রাখলে মোবাইল ফোনের ব্যবহার কমানো যাবে। এগুলো অ্যাপ সাধারণত অন্য ফোল্ডারে রাখলে মোবাইলের আসক্তি কমানো সম্ভব হবে।
মোবাইল ফোন থেকে দূরত্ব বজায় রাখাঃ নিজেকে মোবাইল ফোন থেকে দূরত্বে রাখলে মোবাইল ফোনের ব্যবহার কমানো যাবে। সাধারণত দৃষ্টিশক্তির বাহিরে মোবাইল ফোন রাখলে মোবাইলে ফোনের আসক্তি থেকে একটু দূরে থাকা যায়। প্রয়োজনবোধে মোবাইল ফোন সাইলেন্ট করে পর্দার অপর পাশে রেখে দিতে পারেন।
জটিল আনলক পদ্ধতি ব্যবহারঃ জটিল আনলক পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে মোবাইল ফোনের আসক্তি কমানো যায়। এক্ষেত্রে জটিল আনলক পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে বারবার আনলক হয়ে গেলে মোবাইল ফোন খুলতে ঝামেলা মনে হবে যার কারণে মোবাইল ব্যবহার কমে যাবে।
মোবাইল ফোনের উজ্জ্বলতা কমানোঃ মোবাইল ফোনের উজ্জ্বলতা কমিয়ে রাখা যেতে পারে। ফোনের উজ্জ্বলতা কমলে আলোগুলো চোখে একটু কম পড়ে। যার কারণে মোবাইল ফোন থেকে চোখের ক্ষতি পরিমাণ কমে যায়। এছাড়া মোবাইল ফোনের উজ্জ্বলতা না থাকলে মোবাইল ফোনের ব্যবহারের আগ্রহ কমে যাবে।
মোবাইল ফোনের কাজ কম্পিউটারে করাঃ মোবাইল ফোনের কাজ কম্পিউটারে করলে মোবাইলে প্রতি আসক্তি আস্তে আস্তে কমে যাবে। যার কারণে যেগুলো কাজ কম্পিউটারের সম্ভব সেগুলো কাজ মোবাইল ফোনে করবেন না।
মোবাইল ফোন রেখে বাইরে যাওয়াঃ বাহিরে যাওয়ার সময় মোবাইল ফোন দরকার না হলে বাসায় রেখে যেতে পারেন। বাসায় মোবাইল ফোন রেখে দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকলে মোবাইলে আসক্তি আস্তে আস্তে কমে যাবে। সাধারণ তোকে কেনাকাটা বা বিভিন্ন রকম ব্যায়াম করার সময় মোবাইল ফোন বাসায় রেখে যেতে পারেন।
সিদ্ধান্ত গ্রহণঃ সর্বোপরি কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন যে আস্তে আস্তে মোবাইলের আসক্তি কমিয়ে দিবেন। কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারলে মোবাইলের আসক্তি কমানো সম্ভব। এছাড়া মোবাইলের আসক্তি কমিয়ে নিজের শারীরিক উন্নতি ঘটানো প্রয়োজন।
যুবসমাজে মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার ও তার কুফল
মোবাইল ফোন বর্তমান শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়। বর্তমানে মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করার মাধ্যমে চ্যাটিং অডিও ভিডিও সহ বিভিন্ন রকম সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান। এছাড়াও মোবাইল ফোনের মূল্য সাধ্যের মধ্যে রয়েছে যার জন্য সবাই মোবাইল ফোন কিনতে পারে। মোবাইলে ফোনে এখন আকাশ সংস্কৃতি ইন্টারনেট ভিডিওর মত প্রযুক্তি বিদ্যমান।
আর ও পড়ুনঃ এইচ এমপি ভাইরাস প্রতিরোধের উপায়
বিভিন্ন রকম সুবিধা ও প্রযুক্তি নির্ভর হওয়ায় আস্তে আস্তে মোবাইল ফোনের প্রতি যুবক সমাজদের মাঝে ব্যবহার বাড়ছে। এছাড়াও অধিকাংশ যুবকদের কাছে মোবাইল ফোন অনেক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রূপান্তরিত হয়েছে। যুবক বয়সে বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় পুড়ুয়া ছাত্র ছাত্রী সহ সাধারণ যুবকগন এর মাঝে মোবাইল ফোন নিয়ে আসক্তির মধ্যে ঝুকে পড়েছে।
যার কারনে যুবসমাজে কারণে-অকারণে সব সময় মোবাইল ব্যবহার করার ফলে বিভিন্ন কাজ এমন বসে না এবং তার সঙ্গে ঘুমের পরিমাণ অনেক কমে যায়। অধিকাংশ যুবকদের মাঝে দেখা গেছে মোবাইল ফোনের অপব্যবহার। যুবসমাজের মাঝে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, সহ বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে বিভিন্ন অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়েছে।
খুব স্বল্প সময়ে কোন সিদ্ধান্ত না নিলে যুব সমাজের মাঝে মোবাইল ফোন মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়বে। মোবাইল ফোনে আসক্তির কারণে যুব সমাজ এর লোকেরা আস্তে আস্তে বেকার হয়ে পড়তেছে। এছাড়াও মোবাইল ফোন এর অপব্যবহার এর মাধ্যমে যেনা, ব্যাভিচার, ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি, খুন, সহ বিভিন্ন অপকর্মে কিছু কিছু যুবসমাজ ঝুঁকে পড়েছে।
এছাড়াও অত্যাধিক মোবাইল ফোন ব্যবহার করার কারণে বিভিন্ন রকম শারীরিক সমস্যা দেখা যাচ্ছে। যুবসমাজে মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার ও তার কুফল আলোচনা করা হলো।
ব্যাকপেইন সমস্যা তৈরিঃ অত্যাধিক মোবাইল ফোন ব্যবহার করার কারণে যুব সমাজের মাঝে মাঝে মেরুদন্ডসহ নানা রকম ব্যথা বেড়ে যাচ্ছে। ২০১৫ সালের তথ্য অনুযায়ী মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে ব্যাক পেইন বৃদ্ধির পরিমাণ ১৪ থেকে২৪ বছর বয়সীদের মাঝে প্রায় ৪৫ ভাগ।
সাধারণত মোবাইল ফোন দেখার সময় মোবাইল ফোনের দিকে দীর্ঘক্ষন তাকিয়ে থাকতে হয় এবং মেরুদণ্ড পাকা করে মোবাইল ফোন দেখতে হয় যার কারণে ব্যাক পেইন এর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে মোবাইল ফোন ব্যবহারের সময় মেরুদণ্ড পাকায় যে কাজ করা হয় তাতে মেরুদন্ডের উপর প্রায় ৫০ পাউন্ড এর সমান চাপ পড়ে।
দৃষ্টিশক্তি এর সমস্যা তৈরিঃ অতিরিক্ত মোবাইল ফোনের ব্যবহারের কারণে দৃষ্টিশক্তি আস্তে আস্তে লোক পাচ্ছে। স্মার্টফোনের আলো চোখে লাগার কারণে মোবাইল ফোনের অতি বেগুনি রশ্মির দ্বারা চোখের রেটিনা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চিকিৎসকদের ভাষায় এই সমস্যাকে ম্যাকুলার ডিজেনারেশন বলা হয়। এই সমস্যা হওয়ার পরে আস্তে আস্তে অন্ধত্বের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
মোবাইল ফোনের ব্যবহারকারী ২০০০ মানুষের মধ্যে জরিপ করে দেখা গেছে প্রায় ৫৫ ভাগ মানুষের মধ্যে চোখের বিভিন্ন রকম সমস্যা হচ্ছে। তবে মোবাইল ফোন ব্যবহার করার সময় ২০-২০-২০ পদ্ধতি অবলম্বন করা প্রয়োজন। অর্থাৎ ২০ মিনিট স্মার্টফোন ব্যবহারের পরে ২০ সেকেন্ড ধরে ২০ ফুট দূরের দিকে তাকানো প্রয়োজন।
স্নায়ুর বিভিন্ন রকম সমস্যাঃ অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের ফলে স্নায়ুর বিভিন্ন রকম সমস্যা হয়। বিশেষ করে মোবাইল ফোন ব্যবহারের সময় আমাদের মেরুদন্ড ও মস্তিষ্কের উপর চাপ পড়ে স্নায়ু সংকুচিত হয়ে যায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যার কারণে তীব্র মাথাব্যথা ও মেরুদন্ডের ব্যথা তৈরি হয়।
মানসিক উদ্বিগ্ন ও হতাশা তৈরি হয়ঃ অত্যাধিক মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে মানসিকভাবে উদ্বিগ্ন ও হতাশা তৈরি হয়। মোবাইল ফোন ব্যবহারের ফলে এমন কিছু ভিডিও দেখা হয় যা পরবর্তীতে উদ্বিগ্ন করে। বিশেষ করে ফোনে গেম খেলার কারণে সামাজিকভাবে বিভিন্ন মানুষ উদ্বিগ্ন হতাশা তৈরি হচ্ছে এবং বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
মানসিক চাপ বৃদ্ধিঃ অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে মানসিক চাপ পড়ে। সময় দেখা যায় মোবাইল ফোনের ভিডিও ব্যবহারের ফলে উচ্চাকাঙ্ক্ষা তৈরি হয় যেটা পাওয়া সম্ভব হয় না। যার কারণে মানসিক চাপ বৃদ্ধি হয় ও মনের অবস্থা খারাপ হয়।
ঘুম কম হওয়ার উপর প্রভাব পড়েঃ স্মার্ট ফোন ও বিছানায় নিয়ে ব্যবহারের কারণে ঘুমের পরিমাণ কমে যায়। ২০১৩ সালের একটি জরিপ অনুযায়ী দেখা গেছে ঘুমানোর সময় কাছে মোবাইল রাখার লোকদের পরিমাণ ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী প্রায় ৬৩ ভাগ ও ৩০ থেকে ৬৪ বছরের মানুষের পরিমাণ ৩০ ভাগ।
বিশেষ করে ঘুমের সময় মোবাইল ফোন কাছে রাখলে মোবাইল ফোন দেখার সময় মোবাইল ফোনে নীল আলো চোখে পড়লে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে।
ব্যাকটেরিয়ার আশ্রয়স্থলঃ সাধারণত মোবাইলে পর্যাপ্ত ব্যাকটেরিয়া থাকে। আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অফ অরিজনা এর একটি গবেষণায় দেখা গেছে টয়লেটের সিটের উপরিভাগে যে পরিমাণ ব্যাকটেরিয়া থাকে তার চাইতে ১০ গুণ বেশি মোবাইল ফোনের মধ্যে ব্যাকটেরিয়া থাকে।
নিয়মিত টয়লেট পুরিস্কার হয়ে করে থাকলেও মোবাইল ফোন পরিষ্কার করা হয় না যার কারণে মোবাইল ফোন থেকে ব্যাকটেরিয়া বেশি আক্রান্ত করতে পারে।
শ্রবণ শক্তির সমস্যা হয়ঃ স্মার্টফোন ব্যবহার করার সময় হেডফোন ব্যবহার করা হয় যার দ্বারা শ্রবণ শক্তির ক্ষতি হয়। গবেষণায় দেখা গেছে ৮৫ ডেসিবল এর বেশি শব্দ হলে আমাদের শ্রবণ শক্তির ক্ষতি হয়।
অথচ মোবাইল ফোনের হেডফোন ব্যবহার করায় সর্বোচ্চ ১০৫ ডিসিবল ভলিউম থাকে যা আমাদের শ্রবণশক্তির উপর সরাসরি প্রভাব পড়ে। যার কারণে হেডফোন দিয়ে মোবাইল ব্যবহার পরিমান আস্তে আস্তে কমিয়ে ফেলা প্রয়োজন।
মোবাইল আসক্তির কারণ
আজকের আর্টিকেল যুবসমাজে মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার ও তার কুফল। বর্তমানে মোবাইল ফোন এর ব্যবহার বেড়েছে সবার মাঝে আসক্তি কাজ করছে। কিছু গবেষকগণ স্মার্টফোনের মনস্তাত্ত্বিক ও আচরণগত নির্ভয়ে দিক দিয়ে বিভিন্ন রূপরেখা প্রণয়ন করেছেন। অন্যান্য গবেষকরা বলেছেন স্মার্টফোন ব্যবহারের ফলে আচরণগত আসক্তি তৈরি হচ্ছে।
মোবাইল ফোন এর আসক্তি তৈরি হওয়ায় উল্লেখযোগ্য সমস্যা গুলো হচ্ছে মোবাইলে যোগাযোগ ব্যস্ততা, অতিরিক্ত অর্থব্যায়, অতিরিক্ত সময় ব্যয়, বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে মোবাইল চালানো, ও শারীরিকভাবে অনুপযুক্ত পরিস্থিতিতে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা। ২০১০ সালের পর থেকে স্মার্টফোন ব্যবহার উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
জরিপে দেখা গেছে ২০১৯ সালে বিশ্বকাপে মোট জনসংখ্যার ৪১.৫ ভাগ মোবাইল ব্যবহার করে। বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তি থাকার কারণে চীনের মত এশিয়ান দেশগুলোতে স্মার্টফোন ব্যবহার এর পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে এভাবে মোবাইল ফোনের পরিমাণ বেড়ে গেলে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় ৪৯.৮ ভাগ মানুষ মায়োপিয়াতে আক্রান্ত হবে।
একটি গবেষণায় দেখা গেছে করোনা ভাইরাস এর কারণে প্রায় ৬৭ ভাগ স্কুল শিক্ষার্থী মোবাইলের প্রতি আসক্তি হয়েছে। উক্ত সময় প্রায় ৭০ ভাগ শিশুরাই কোন কাজ ও খেলাধুলার সুযোগ পায়নি। যার কারণে বিভিন্ন রকম মানসিক রোগে ভুগতেছে।
আর এই মোবাইল আসক্তি হওয়ার কারণ হলো প্রায় ২৫ ভাগ শিক্ষার্থী অনলাইনে ক্লাস করে, ৪০ ভাগ শিক্ষার্থী কার্টুন ও নানা ধরনের নাটক দেখে ,২৭ ভাগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে, এবং ১৭ ভাগ গেমে আসক্ত হয়। সাধারণত ছাত্র-ছাত্রীরা খেলার সুযোগ না পাওয়ার কারণে মোবাইলের দিকে ঝুঁকে পড়েছে।
এছাড়াও পারিবারিক অসচেতনতার কারণে মোবাইলের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ছে। বিশেষ করে বাচ্চারা খেতে না চাইলে মোবাইল ফোন তাদেরকে দিয়ে খাওয়ানোর চেষ্টা করা হয়। শিশু ছেলেপেলে খেলাধুলার দিকে না নিয়ে যেয়ে বরং তাদেরকে মোবাইল দেওয়া হয়। ছাত্র-ছাত্রীদের খেলার মাঠ না থাকায় সার্বক্ষণিক ভাষায় অবস্থান করে।
যার কারণে বাসায় থেকে বাহির হতে পারে না বলে মোবাইল ফোনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। আস্তে আস্তে মোবাইল ফোনে ব্যস্ত হয়ে পড়ার কারণে মোবাইলে ফোনের আসক্তি তৈরি হয়। যার কারণে অভিভাবক মহলে অত্যাধিক সচেতনতা অর্জন করতে হবে। সন্তানদেরকে ২৫ যত্নবান হতে হবে এবং আস্তে আস্তে মোবাইল ফোন এর ব্যবহার কমিয়ে আনার চেষ্টা করতে হবে।
আইফোন কে আবিষ্কার করেন
আজকের আর্টিকেল যুবসমাজে মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার ও তার কুফল। ২০০৭ সালের ৯ই জানুয়ারি স্টিভ জবস এবং তার দল মিলে আইফোন আবিষ্কার করেন। ২০০৫ সাল থেকে আইফোন আবিষ্কার করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। দুই বছর কঠোর পরিশ্রমের পরে ২০০৭ সালে পরিপূর্ণ আইফোন আবিষ্কার করেন।
২৯ শে জুন ২০০৭ সালে আইফোন বাজারজাত করা হয়। আইফোনের আবিষ্কারক স্টিভ জবস একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ব্যবসায়ী ও ডিজাইনার। বর্তমান আইফোনের মালিক স্টিভ জবস। স্টিভ জবস এর মৃত্যুর পরে এই কোম্পানির পুরোপুরি কালের দায়িত্ব পাবেন স্টিভ কুক।
লেখকদের মন্তব্য
সুপ্রিয় পাঠক বন্ধুগণ যুবসমাজে মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার ও তার কুফল বিষয়ে আজকের আর্টিকেল লেখা হল। মোবাইল ফোন আমাদের যোগাযোগ মাধ্যমে অত্যন্ত বেশি গুরুত্ব বহন করে। মোবাইল ফোন ছাড়া যোগাযোগ রক্ষা করা অনেক কষ্টকর হয়ে পড়ে। এরপরেও মোবাইল ফোনের দ্বারা আমরা বিভিন্ন রকম উপকার পাই।
এছাড়া মোবাইল ফোনে আসক্তি হলে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। মোবাইল ফোনের ব্যবহারের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে আজকের আর্টিকেলে আলোচনা করা হয়েছে। আশা করি আজকের আর্টিকেল আপনাদের ভালো লাগবে এবং উপকৃত হবেন। ভালো লাগলে বন্ধুদের মাঝে লাইক কমেন্ট ও শেয়ার করবেন।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url