জেনে নিন রূপচর্চায় তুলসী পাতার উপকারিতা

প্রিয় পাঠক আসুন জেনে নিই রূপচর্চায় তুলসী পাতার উপকারিতা। তুলসী পাতার গুনাগুন অনেক। হাতের কাছে তুলসী গাছ দুটি পাতা চিবিয়ে খান অনেক শারীরিক উপকার পাবেন। এছাড়া তুলসী পাতার খাওয়ার নিয়ম ও তুলসী পাতা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে আজকে আলোকপাত করা হবে।
বাড়ির বারান্দার পাশে চারটি কাজ লাগিয়ে রাখবেন। দেখবেন আপনার বাড়ি উপকারী বাড়ি হিসেবে পরিগণিত হবে। তাই আসুন তুলসী গাছ সম্পর্কে জেনে নিই।

ভূমিকা

তুলসী সুগন্ধ জাতীয় একটি উদ্ভিদ। এ উদ্ভিদ হিন্দুদের কাছে পবিত্র উদ্ভিদ হিসেবে পরিচিত।। তুলসী পাতার প্রচুর ওষধী গুনাগুন রয়েছে। সাধারণত সর্দি-কাশির জন্য মধু ও তুলসী পাতার জুড়ি নাই। শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের সর্দি কাশির জন্য অত্যন্ত উপকারী গাছ। বুকে কফ বসে গেলে সকালবেলা এক গ্লাস পানিতে তুলসী পাতা আদা ও চা পাতা দিন।
উক্ত পানি ভালো করে ফুটিয়ে খেলে বুকের কফ বাহির হয়ে যায়। মাথা ব্যথা কমাতে তুলসী পাতার চা খাওয়া অত্যন্ত কার্যকর। তুলসী পাতা পানিতে দিয়ে পানি ফোটানোর পরে উক্ত পানি ঠান্ডা হয়ে গেলে গড়গড়া কুলি করলে গলা ব্যাথা ভালো হয়ে যায়। প্রিয় পাঠক রূপচর্চায় তুলসী পাতার উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়।

কাশির জন্য তুলসী পাতা খাওয়ার নিয়ম

কাশির জন্য তুলসীর পাতা অনেক উপকারী হঠাৎ সর্দি কাশি হওয়ার জন্য শরীরে চরম অসুস্থি হয়। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন সাধারণত হঠাৎ সর্দি কাশির জন্য ওষুধ না ব্যবহার করে বিভিন্ন টোটকা ব্যবহার করাই ভালো। তাতে স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকার। শিশুদের জন্য ওষুধের বিকল্প অনেক ভালো। আসুন জেনে নিয়ে সর্দি কাশির জন্য কিভাবে তুলসী পাতা খাবেন।

তুলসী পাতা দিয়ে চা বানিয়ে খেতে পারেন। তুলসী পাতা সহ পানি ফোটান। উক্ত পানিতে মধু ও লেবু মিশিয়ে পান করুন। তুলসী পাতা নিয়ে চিবিয়ে খেতে পারেন।

এক কাপ পানি নিয়ে তাতে চার-পাঁচটি তুলসী পাতা এক টুকরা আদা নিয়ে ভালো করে ফুটাতে হবে পানি অর্ধেক হয়ে গেলে চুলা থেকে নামিয়ে নিন। এই পানি কুসুম কুসুম গরম অবস্থায় খেয়ে নিন। গলার সর্দি-কাশি ও খুসখুসে ভাব দূর হবে। এক চামচ তুলসি পাতার রস নিন তার সঙ্গে মধু ও আদার রস মিশ্রিত করুন। অতঃপর উক্ত মিশ্রণ পান করুন।

এক গ্লাস পানিতে তুলসী পাতা ও চা পাতা নিয়ে ফুটিয়ে নিন। উক্ত ফোটানো পানিতে লেবু ও মধু মিশ্রিত করুন। অতঃপর কুসুম কুসুম গরম অবস্থায় খেয়ে নিন। সর্দি কাশি ভালো হয়ে যাবে। শিশুদের ঠান্ডা লাগলে তুলসী পাতার রসে মধু দিয়ে শিশুদের খাওয়ান ঠান্ডা জনিত সমস্যা ভালো হবে।

জেনে নিন রূপচর্চায় তুলসী পাতার উপকারিতা

রূপচর্চায় তুলসী পাতার উপকারিতা অনেক। তুলসী পাতা ব্যাবহারের মাধ্যমে ত্বকের বিভিন্ন রকম সমস্যা দুর হয়। ত্বকের উজ্জলতা বৃদ্ধি হয়ে ত্বক মোলায়েম ও উজ্জল হয়। জেনে নিন রূপচর্চায় তুলসী পাতার উপকারিতার বিবরণ দেওয়া হল। 

হঠাৎ করে যদি মুখে লাল রঙ্গের পিম্পল ফুলে ওঠে। তুলসী পাতা বেটে তার সঙ্গে চন্দন বাটা অথবা নিমপাতা বাটা অথবা গোলাপ জলের পানির সঙ্গে মিশ্রিত করে পিম্পলে লাগাইয়া দিন। খুব তাড়াতাড়ি সেরে যাবে।

অনেক সময় পিম্পলের দাগ থেকে যায়। সেই ক্ষেত্রে তুলসী পাতার পেস্টের সঙ্গে বেসন মিশ্রিত করে পুরো মুখে লাগিয়ে দিন। ১০ মিনিট পরে মুখমণ্ডল ধুয়ে ফেলুন। পিম্পলের দাগ দূর হয়ে যাবে।

অনেক সময় মুখে ছোপ ছোপ দাগ হয়। এক্ষেত্রে তুলসী পাতা বেটে নিয়ে তার সঙ্গে ডিমের সাদা অংশ মিশ্রিত করুন। অতঃপর মিশ্রণটি পুরো মুখমন্ডলে লাগিয়ে দিন। ২০ মিনিট অপেক্ষা করার পরে মুখমন্ডল ধুয়ে ফেলুন। মুখ মণ্ডলে দাগ দূর হয়ে যাবে। মুখমন্ডল নরম ও উজ্জ্বল হবে।

চুলের তেল দেওয়ার আগে তুলসী পাতার রস মাথার ত্বক ও চুলে ব্যবহার করুন। মাথার খুশকি চুলকানি চুল পড়া চুলের মাথাভাঙ্গা দূর হয়ে যাবে। এছাড়া শুকনো তুলসী পাতা আমলকির গুঁড়া সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। সকালে উক্ত পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। তাহলে চুলের অকাল পক্কতা দূর হবে।

ব্রণ কমাতে তুলসী পাতার ফেসপ্যাক এর বিকল্প নাই। ১০-১২ টি তুলসী পাতা আট দশটি নিমপাতা আধা চামচ চন্দন গুঁড়া ও গোলাপজল লাগবে। তুলসী পাতা ও নিমপাতা ভালো করে পেস্ট করে নিতে হবে। এর সঙ্গে চন্দন গুড়া ও গোলাপজল মিশ্রিত করে ঘন প্যাক তৈরি করতে হবে। এই প্যাকটি সমস্ত মুখে ভালো করে লাগান।

 অতঃপর ২০ মিনিট পরে মুখ ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহের দুইবার ব্যবহার করলে মুখে ব্রণ থাকবে না। মুখমণ্ডল মসৃণ ও উজ্জ্বল হবে। শীতকালে যারা মুখের শুষ্কতার সমস্যায় ভুগেন তাদের জন্য তুলসী পাতার প্যাক অনেক উপকারী। ১০-১২ টি তুলসী পাতা পেস্ট করে নিন। পেস্ট সঙ্গে টক দই মিশ্রিত করুন। 

অতঃপর মিশ্রিত প্যাক সমস্ত মুখমন্ডলে ভালো করে লাগান। ২০ মিনিট পরে মুখমন্ডল ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। মুখমণ্ডলের শুষ্কতা দূর হবে। মুখমণ্ডলের ত্বক নরম ও উজ্জ্বল হবে। আশা করি এগুলো প্যাক তৈরি করে মুখ মন্ডলে ব্যবহার অথবা চুলে ব্যবহার করে আপনারা উপকৃত হবেন।

খালি পেটে তুলসী পাতা খাওয়ার উপকারিতা

জেনে নিন রূপচর্চায় তুলসী পাতার উপকারিতা। সকালে খালি পেটে তুলসী পাতা খেলে শারীরিক অনেক সমস্যা দূর হয়। সাধারণত প্রত্যেক বাড়িতে তুলসী পাতা থাকে। খালি পেটে তুলসী পাতা খেলে সর্দি কাশির মত সকল সমস্যা দূর হয়। তুলসীর পাতায় অনেক পুষ্টি উপাদান রয়েছে।
যার কারণে সকালে খালি পেটে তুলসী পাতা খেলে শরীরের ইউমিনিটি শক্তি বাড়ে। শরীর সুস্থ থাকে। সকালে খালি পেটে তুলসী পাতা খেলে মানসিক চাপ কমায়। এছাড়াও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে তুলসী পাতলা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তুলসী পাতায় পর্যাপ্ত এন্টিঅক্সিডেন্ট আছে যা শরীরের ফ্রি র্যাডিকেলের মাত্রা এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

ফলে অক্সিডেটিভ স্টেস হ্রাস পায় এবং কোষ ভালো থাকে। সকালে খালি পেটে তুলসী পাতা খান। পেটের হজম শক্তি বৃদ্ধি করে শরীরের অ্যাসিডিটি বা পেট ফাঁপা সমস্যা দূর করে। পাচনতন্ত্র সুস্থ থাকে। তুলসী পাতায় অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান রয়েছে। যা মুখের ভিতর নানা রকম সংক্রামক সমস্যা দূর করে।

তুলসী পাতা পানির সঙ্গে মিশিয়ে জাল করে উক্ত পানি দিয়ে গড়গড়া করলে দাঁতের মাড়ি সুস্থ থাকে ও মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়ে যায়। তুলসীর পাতা পানিসঙ্গে গরম করে খেলে শ্বাসযন্ত্র সুস্থ থাকে এবং সুরক্ষিত থাকে।

তুলসী পাতার ক্ষতিকর দিক

তুলসী পাতা আমাদের জন্য অনেক উপকার হলেও কিছু কিছু ক্ষতির দিক রয়েছে। তুলসী পাতার ক্ষতিকর দিক আলোকপাত করা হলো।

*বেশি পরিমাণ তুলসী পাতা সেবন করলে শ্বাসকষ্ট মূত্র ও কাশির সঙ্গে রক্ত বাহির হতে পারে।
*ডায়াবেটিস রোগীদের বেশি তুলসী পাতা ব্যবহার করলে হাইপোগ্লাইসিমিয়া হতে পারে।
*গর্ভাবস্থায় বেশি তুলসী পাতা সেবন করলে গর্ভপাত হওয়ার সংকা থাকে।
*গর্ভাবস্থায় তুলসী পাতা খেলে জরায়ুতে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি হয় যার কারণে জরায়ুর সংকোচন হতে পারে।
*২০১০ সালে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ আয়ুর্বেদ রিসার্চ এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে বেশি তুলসী পাতা গ্রহণ করলে শুক্রানুর স্থিতিশীলতা কমতে পারে।
*যারা হৃদরোগের ওষুধ খান তাদের জন্য তুলসীপাতা খাওয়া সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
*কাঁচা তুলসী পাতা খেলে দাঁত কালো হয়ে যায়।
*তুলসী পাতায় ইউজেনল যোগ পাওয়া যায় যা যা লিভারের বিষাক্ততা থেকে দূর করে তবে বেশি পরিমাণ তুলসী পাতা খেলে লিভারের ক্ষতি হয়।
*বেশি পরিমাণ তুলসী পাতা খেলে রক্তের শর্করা পরিমাণ কমায়।
*বেশি তুলসী পাতা খেলে বমি বমি ভাব হতে পারে।

তুলসী পাতার উপকারিতা

তুলসীর পাতার অনেক উপকারিতা রয়েছে এটা সবাই জানে। তুলসীর পাতা বিভিন্ন রকম ভাবে খেলে বিভিন্ন উপকার পাওয়া যায়। রূপচর্চায় তুলসী পাতার উপকারিতা অনেক। তুলসী পাতা ক্যান্সার ডায়াবেটিস হৃদরোগ ইত্যাদির জন্য কার্যকর। আসুন তুলসী পাতার উপকারী দিক জেনে নি।
সর্দি কাশি নিরাময়ঃ সর্দি কাশি নিরাময়ে তুলসী পাতা ওষুধ হিসেবে খাওয়া হয়। তুলসী পাতার পর্যাপ্ত ভিটামিন সি রয়েছে। যার কারণে নিয়মিত তুলসী পাতা খেলে রোগ প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পালন করে। প্রতিদিন সকালে তুলসী পাতা আদা ও চা পাতা ভালোভাবে ফুটিয়ে তাতে মধু ও লেবু মিশিয়ে দিন। অতঃপর খেয়ে নিন দ্রুত উপশম হবে।

গলা ব্যথায় তুলসী পাতাঃ তুলসী পাতার মাধ্যমে গলা ব্যথা ভালো হয়। শ্বাসযন্ত্রের সমস্যাতেও তুলসী পাতা অনেক উপকারী। তুলসী পাতা দিয়ে পানি ফুটিয়ে নিতে হবে। অতঃপর সেই পানি কুসুম কুসুম গরম হলে গড়গড়া করতে হবে। তাহলে গলা ব্যথা নিরাময় হবে। এসব রাগ করো না সমস্যা বা অন্য ভাইরাসের সমস্যা হলে নিয়মিত তুলসী পাতা খাওয়ার অভ্যাস করা যেতে পারে।

ক্যান্সার প্রতিরোধে তুলসী পাতাঃ ক্যান্সারের মত মরণঘাতী রোগের জীবাণু তুলসী পাতা ধ্বংস করে। তুলসী পাতায় রেডিও প্রটেকটিভ উপাদান আছে যা টিউমারের কোষগুলো মেরে ফেলে। তুলসী পাতাতে রোসমারিনিক এসিড মাইরেটিনাল, লিউটিউলিন, ও এপিজেনিন নামক ফাইটোকেমিক্যাল।

উপাদান বিদ্যমান। এগুলো উপাদান ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কার্যকর। এছাড়া অগ্নাশয় টিউমার কোষ দূর করতে তুলসী পাতার জুড়ি নেই। ইহা বেস্ট ক্যান্সার নিরাময় করে।

ইউমিনিটি শক্তি বাড়ায়ঃ তুলসী পাতার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। অ্যাজমা ফুসফুস সমস্যা ব্রংকাইটিস সমস্যা দূর করতে তুলসী পাতা অনেক উপকারী। তুলসী পাতা ও এলাচ পানিতে নিয়ে পানি ফোটাতে হবে। উক্ত পানি কুসুম কুসুম গরম অবস্থায় খেতে হবে। তাহলে শরীরের বিভিন্ন রোগ নিরাময় হয়। শরীরের কোথাও ক্ষতস্থান থাকলে তুলসী পাতা বেটে লাগালে নিরাময় হয়।

ওজন কমানোই তুলসী পাতাঃ তুলসী পাতা সুগার ও কোলেস্টেরল দুটি রোধ করে। সাম্প্রতিক এক গবেষণা থেকে জানা যায় তুলসী পাতা দিয়ে তরী ২৫০ মিলিগ্রামের একটি ক্যাপসুল প্রতিদিন খাওয়ার ফলে ওবেসিটি ও লিপিড প্রোফাইল নিয়ন্ত্রণ করা যায়। যার কারণে তুলসী পাতা ব্যবহারে শরীরের ওজন কমে।

ডায়াবেটিস নিরাময়ীঃ তুলসী পাতাতে বিদ্যমান স্যাপোনিন,ত্রিতারপিনিন,ওফ্র্যাবোনয়েড, উপাদান ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সহায়তা করে। এ ছাড়া তুলসী পাতা এন্টি ডায়াবেটিস হিসেবে কাজ করে। এই জন্য ডায়াবেটিস নিরাময়ের পাতা অনেক উপকারী।

পেটের সমস্যা দূর করেঃ পেটের সমস্যা দূর করতে তুলসীপাতা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে। পেট ব্যথা অম্বল গ্যাস কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি ইত্যাদি অসুস্থতা দূর করতে তুলসী পাতা কার্যকর ভূমিকা রাখে। এছাড়া যাদের আলসার রয়েছে নিয়মিত তুলসী পাতা খেলে আলসার নিরাময় হয়। যদি কারো পেট ব্যাথা হয় তুলসী পাতা পানি সহ গরম করে খেলে পেট ব্যাথা ভালো হয়।

জ্বর ও ব্যাথা নাশক হিসেবে কাজ করেঃ তুলসী পাতায় এন্টি ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিভাইরাল বৈশিষ্ট্য রয়েছে। জ্বর ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যাথা হলে নিয়মিত তুলসী পাতা খাওয়া যেতে পারে। তুমি তো তুলসী পাতা খাওয়ার ফলে ভাইরাস জনিত বিভিন্ন জ্বর এবং শরীরের ব্যথা কমে যায়। 

এক্ষেত্রে তুলসী পাতা, এলাচ, একসঙ্গে পানির সঙ্গে মিশিয়ে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে খেলে জ্বর ও শরীরের বিভিন্ন ব্যথা নিরাময় হয়।

মানসিক চাপ কমায়ঃ নিয়মিত তুলসী পাতা খেলে মানসিক চাপ কমায়। মনকে প্রফুল্ল রাখে এবং ভালো ঘুম হয়। এইজন্য প্রতিদিন তুলসির পাতা পানি দিয়ে ফুটিয়ে খাওয়া যেতে পারে।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ থাকেঃ তুলসী পাতায় পর্যাপ্ত ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম রয়েছে। যার কারনে নিয়মিত তুলসী পাতা খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ থাকে। তুলসী পাতা খেলে তুলসী পাতার পটাশিয়াম শরীরের রক্ত নালীকে প্রশস্ত করে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। রক্তনালীতে চর্বি থাকলে তা অপসারণ করে। যার কারনে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি হয় এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ থাকে।

হৃদরোগ থেকে রক্ষা করেঃ নিয়মিত তুলসী পাতা খেলে রক্তের কোলেস্টরেল কমায়। নিয়মিত তুলসী পাতা খাওয়ার ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ থাকে। যার কারনে তুলসী পাতা খেলে হৃদরোগের সম্ভাবনা থাকে না। এছাড়া তুলসী পাতায় পর্যাপ্ত এন্টিঅক্সিজেন রয়েছে যা হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারীঃ তুলসী পাতায় পর্যাপ্ত ভিটামিন এ ও ভিটামিন সি রয়েছে। যার কারণে তুলসী পাতা নিয়মিত খেলে তুলসীপাতায় থাকা ভিটামিন এ শরীরের মৃত কোষগুলো অপসারিত করে নতুন কোষ তৈরি করে। এছাড়া ত্বকের ক্ষতি হাত থেকে রক্ষা করে। 

তুলসী পাতায় এন্টি মাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা ত্বকের টক্সিন অপসারিত করে। যার কারনে তুলসী পাতার ব্যবহারের মাধ্যমে ত্বক মসৃণ উজ্জ্বল হয় এবং ত্বক থেকে বয়সের ছাপ দূর হয়। ‌‌

মাথা ব্যথা দূর করেঃ তুলসী পাতা ব্যবহারের ফলে মাথাব্যথা নিরাময় হয়। এক্ষেত্রে মাথা ব্যাথা করলে তুলসী পাতা পেস্ট করে কপালে ব্যবহার করলে মাথা ব্যথা নিরাময় হয়। এছাড়া মাথাব্যথা দূর করার জন্য তুলসী পাতা পানি দিয়ে সিদ্ধ করে পানি খাওয়া যেতে পারে অথবা পানির সঙ্গে তুলসী পাতার পাউডার মিশ্রিত করে খাওয়া যেতে পারে।

কিডনির জন্য উপকারীঃ তুলসী পাতা ডিটক্সিফায়ার হিসেবে কাজ করে। তুলসী পাতা খেলে যা মূত্র বর্ধক হিসেবে কাজ করে এবং শরীর থেকে ইউরিক এসিডের মাত্রা কমায়। ইউরিক এসিড বৃদ্ধি পেলে কি দিতে পাথর হয়। এইজন্য নিয়মিত তুলসী পাতা খেলে ইউরিক এসিডের মাত্রা কমে কিডনিকে সুস্থ রাখে, কিডনিতে পাথরের হওয়ার সমস্যা থেকে দূর করে।

তুলসী পাতার ব্যবহার

*তুলসী পাতার পানি ব্যবহার করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে তুলসী পাতা পানি সহযোগে ফুটিয়ে উক্ত পানি পান করা যেতে পারে।
*তুলসী পাতা চায়ের সঙ্গে মিশিয়ে তুলসী পাতার চা খাওয়া যেতে পারে।
*তুলসী পাতা পেস্ট করে ঘি অথবা মধু মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে।
*নিয়মিত দিনে দুইবার 500 মিলিগ্রাম তুলসী পাতার নির্যাস খেতে পারেন।
*মাথাব্যথা নিরাময়ে তুলসির পাতা পেস্ট করে কপালে ব্যবহার করা যেতে পারে।
*সর্দি কাশির জন্য তুলসী পাতা পেস্ট করে মধু দিয়ে খাওয়া যেতে পারে।
*যেভাবেই ব্যবহার করুন না কেন তুলসী পাতা ব্যবহারের ফলে শরীরের বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা পাওয়া যায়।

লেখক এর মন্তব্য

জেনে নিন রূপচর্চায় তুলসী পাতার উপকারিতা। বিষয়টি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তুলসী পাতা দিয়ে ত্বকের জাদুকরী কিছু উপকারিতা লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে তুলসী পাতা দিয়ে প্যাক তৈরি করে মুখমন্ডলে ব্যবহারের ফলে মুখমন্ডলের যাবতীয় সমস্যা দূর হয়।

এছাড়াও তুলসী পাতা দিয়ে ওষুধী উপকারিতা পাওয়া যায়। তুলসী পাতা সম্পর্কে জানতে আমাদের কনটেন্টটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ুন। আশা করি ভালো লাগবে। ভালো লাগলে বন্ধুদের মাঝে লাইক কমেন্ট ও শেয়ার করবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url