জীবনদক্ষতা অর্জনের কার্যকর ১২টি উপায়

সুপ্রিয় বন্ধুগণ জীবনদক্ষতা অর্জনের কার্যকর ১২টি উপায় বিষয়ে আজকের আর্টিকেল লেখা শুরু করলাম। বিশ্বায়ন চ্যালেঞ্জের মুখে টিকে থাকতে হলে অবশ্যই সকল কাজের ব্যাপারে দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
সঠিক দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনে বিভিন্নভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে। ব্যাপারে জানতে আজকের আর্টিকেলের সঙ্গে থাকুন।

ভূমিকা

আজকের আর্টিকেল জীবনদক্ষতা অর্জনের কার্যকর ১২টি উপায় জীবন দক্ষতা হল অভিযোজন ও ইতিবাচক আচরণের দক্ষতা অর্জন যা মানুষের চাহিদা ও চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা সম্ভব হয়। আমাদের চলার পথে যা কিছু সামনে পাওয়া যাবে সেই বিষয়ে অত্যন্ত দক্ষতা অর্জন করা জরুরী।
বিশেষ করে শিক্ষার্থীগণ শিক্ষা জীবন শেষ করে অর্থনৈতিক উপার্জনে আসলে অবশ্যই সার্বিক দিক দিয়ে অত্যন্ত দক্ষতা অর্জন করতে হবে। বর্তমানে ডিজিটাল যুগে বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তির উপর ভালো দক্ষতা থাকা প্রয়োজন। কি করে চাকুরির ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির দক্ষতা সম্পন্ন জনশক্তিদেরকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রত্যেককে ডিজিটাল দক্ষতা অর্জন করতে হবে

আজকের আর্টিকেল জীবনদক্ষতা অর্জনের কার্যকর ১২টি উপায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা লাভ করার পাশাপাশি ডিজিটাল দক্ষতা অর্জন করা প্রয়োজন। বর্তমানের সকল কাজ করার সময় ডিজিটাল বিষয়টি ভালোভাবে জানা থাকতে হবে। ডিজিটাল দক্ষতা অর্জন করতে না পারলে কোন জায়গায় স্বাবলম্বী হওয়া কষ্টকর। 

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে কর্মসংস্থানের জন্য অবশ্যই ডিজিটাল দক্ষতা থাকতে হবে। মেধাব বিকাশের কেন্দ্র ভূমি বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল দক্ষতা অর্জনের বিষয়ে উদ্যোগী ভূমিকা রাখতে হবে। শিক্ষা লাভ করার পাশাপাশি প্রচলিত শিক্ষা ডিজিটাল শিক্ষায় রূপান্তরিত না হলে আমাদেরকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।

দেশের প্রতিটি অঞ্চলে ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে ওঠায় ইন্টারনেটের চাহিদা দ্বিগুণ বেড়ে গেছে যা আমাদের মাঝে সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। তবে স্থান ভেদে দুই এক জায়গায় ইন্টারনেটের গতি অনেক কম হতে পারে। উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বর্তমানে দেশের মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে।

আগামী দিন আশা করা যায় মেধাবীরাই হবে সবচেয়ে ধনী। এছাড়া মেধাবীর দ্বারা উদ্ভাবিত বিভিন্ন কোম্পানি অত্যন্ত শক্তিশালী কোম্পানিতে রূপান্তরিত হবে। যার কারণে দেশের আপামরার জনসাধারণের কে শিক্ষার পাশাপাশি ডিজিটাল দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

জীবনদক্ষতা অর্জনের কার্যকর ১২টি উপায়

আমাদের জীবনের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জীবন দক্ষতা গুলো আমাদের ভালোভাবে জানতে হবে। আমাদের প্রাত্যাহিক জীবনের সঙ্গে জীবন দক্ষতা গুলো প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। এজন্য জীবন দক্ষতা বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতে হবে। জীবনদক্ষতা অর্জনের কার্যকর ১২টি উপায় আলোচনা করা হলো।

মনোযোগ সহকারে শোনাঃ আপনি যদি ভালো শ্রোতা হতে চান তাহলে মুখ বন্ধ করে মনোযোগ সহকারে বক্তার কথা শ্রবণ করুন। অস্ট্রেলিয়ার পিয়ানো বাদক আলো ফ্রেন্ড ব্যান্ডেল বলেছিলেন ইংরেজি শোনা ও নীরবতা পালন করা ব্যাপারে গুরুত্ব দিতে হবে।

আপনি নিজে কি বলতে যাচ্ছেন এই চিন্তা করতে যেয়ে বক্তার কথা শোনার ক্ষেত্রে মনোযোগ নষ্ট করা যাবে না। উভয়ের কথোপকথনের মাধ্যমেই আপনাকে জানাতে হবে যে আপনার গুরুত্ব অনেক কিছু।

ইচ্ছা শক্তি সংরক্ষণ করাঃ ইচ্ছা শক্তি হলো মানুষের সেরা শক্তি। আমাদের ইচ্ছা শক্তির সীমিত থাকে। প্রতিদিন যা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে তা সীমিত রাখতে হবে। সীমিত ইচ্ছা শক্তির মাধ্যমে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ তাড়াতাড়ি করা যায়।

সময় ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে করাঃ কোন কাজ করার জন্য সঠিক সময় ব্যবস্থাপনা রাখা প্রয়োজন। সঠিক সময় ব্যবস্থাপনা না করলে উক্ত কাজ পুরোপুরি করা সম্ভব হয় না। নিজের উৎপাদনশীলতা এর উপর গুরুত্ব না দিলে উৎপাদনশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পাহাড় সমপরিমাণ বিরক্ত তৈরি হয়।

সততা ভাবে চলাঃ যদি কোন কিছু বলার না থাকে তার অর্থ এই নয় যে কোন কিছু বলা উচিত নয়। বরং সততার সহিত সবকিছু বলা প্রয়োজন। সততার সহিত কোন কিছু বলা থেকে দূরে থাকা যাবে না।

বেশি বেশি বই পড়াঃ জীবন দক্ষতা অর্জনের জন্য বেশি বেশি বই পড়তে হবে। যে বইগুলো পড়া হবে সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ দুই একটি বিষয় ভালোভাবে আন্তঃস্থ করতে হবে। এছাড়াও বেশি সংখ্যক বই পড়তে পারেন। বই পড়ার মাধ্যমে বিভিন্ন রকম জ্ঞান সংগ্রহ করা যায়।

বই পড়ার পূর্বে সূচিপত্র গুলো ভালো করে পড়ার পরে বই পড়া শুরু করুন। এছাড়া বই পড়ার সময় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি ২/৩ বার পড়া প্রয়োজন। যার দ্বারা গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো মনে রাখা সম্ভব হয়।

নতুন ভাষা শিখাঃ গবেষণায় দেখা গেছে কোন কিছুর স্মরণ রাখার জন্য বিষয়টি বারবার চর্চা করা প্রয়োজন। একটি নতুন শব্দ বারবার চর্চা করলে সেগুলো দীর্ঘদিন ধরে মনে থাকে। এছাড়াও নতুন নতুন ভাষা চর্চা করা প্রয়োজন।

সৃজনশীল চিন্তাঃ কোন কিছু বারবার মনে রাখার জন্য সৃজনশীল ভাবে চিন্তা করা প্রয়োজন। ২০১১ সালে একটি গবেষণায় দেখা গেছে মানুষ তখনই বেশি সৃজনশীল হন যখন উক্ত কাজে মনোযোগের ক্ষেত্রে অনিয়া থাকে না। তবে ইতিহাসে দেখা গেছে অনেক সৃজনশীল লোকদের ব্যাপারে যে তারা বড় আবিষ্কার করেছেন সেগুলো ব্যক্তি অলস সময় বেশি কাটান।

জনসম্মুখের কথা বলাঃ বেশি মানুষের সমাগম হলে সেখানে কথা বলতে হবে তাহলে কথা বলার ভীতি কেটে যায়। কোন কিছু অধিকার আদায় করার জন্য জনসম্মুখে কথা বলার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। জনসম্মুখে অভ্যাস তৈরি করতে না পারলে জীবন দক্ষতা অর্জন করা কষ্ট করা হয়। যেকোনো লোক জনসম্মুখে কথা বলতে পারেন তাদেরকে সবাই গুরুত্ব দেয়।

আলোচনার ভিত্তিতে সমঝোতাঃ একটি গবেষণায় দেখা গেছে কোন ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে আপনি তাকে কি দিচ্ছেন অথবা সে কি হারাচ্ছে এ বিষয়ে উভয়ের মধ্যে সমঝোতা হতে হবে।

সমঝোতার ক্ষেত্রে আমি এই গাড়ির দাম ৯০০০ ডলার নিব এই কথা বলার চাইতে ৯০০০ ডলারে আমি এই গাড়ি দেব এভাবে কথা বললে অনেক ভালো হয়। কথা বলার সময় পরস্পর পরস্পরকে বিশ্বাস রাখতে হবে।

মানসিক চাপ মোকাবেলা করাঃ অর্থনীতির সংকটকালীন সময়ে সংকটের সঙ্গে মানিয়ে চলতে হবে। গোল্ড মেন সেক্স তার কর্মীদেরকে অর্থনীতি সংকটের সময় মানিয়ে চলার জন্য পরামর্শ দিয়েছিলেন। কোন কিছু ক্ষতি হওয়ার সময়ই মানসিকভাবে চাপ মোকাবেলা করে উক্ত ক্ষতি থেকে পুষিয়ে ওঠার জন্য বিভিন্ন দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

ভালো বন্ধু তৈরি করাঃ প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় ভালো বন্ধু তৈরি করা অনেক কষ্টকর। সেই ক্ষেত্রে লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে বন্ধু তৈরি করে চলাফেরা করতে পারলে যে কোন কাজ করার সহজ হয়। বিশেষ করে কাউকেও সঙ্গে নিয়ে গান গাইলে অথবা বিভিন্ন অনুষ্ঠান করলে তাদের সঙ্গে সহজে বন্ধুত্ব সৃষ্টি করা যায়।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে একসঙ্গে গান গাওয়ার কারণে বহু ভালো বন্ধু তৈরি হয়েছে।

সাহায্য প্রার্থনা করাঃ জীবন দক্ষতা অর্জনের জন্য মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা প্রয়োজন। সাহায্য প্রার্থনা করার কারণে মানুষ ছোট হয় না বরং অনেক বড় মনের হয় এবং প্রত্যেক কাজে সক্ষম হওয়ার জন্য মানসিকভাবে তৈরি হয়।

কোন কিছু ব্যাপারে অন্যদের কাছে পরামর্শ ও সহায়তা চাওয়া প্রয়োজন। একজন লোক অপরের পরামর্শ ও সহায়তা চাওয়ার কারণে ছয় মাসে শূন্য থেকে বিশেষজ্ঞ হয়েছেন।

বিদেশি ভাষা চর্চার অর্থনৈতিক গুরুত্ব

আজকের আর্টিকেল জীবনদক্ষতা অর্জনের কার্যকর ১২টি উপায় বিশ্বের সঙ্গে কূটনৈতিক সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখতে হলে বিদেশী ভাষা জানা প্রয়োজন। পরস্পর যোগাযোগ আগের মাধ্যম হলো একমাত্র ভাষা। কাজ করার জন্য বিদেশে গমন অথবা বিদেশে শিক্ষা লাভ করার জন্য যেতে হলে অবশ্যই সে দেশের ভাষা সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
ব্রিটিশ কাউন্সিলের ২০১৭ সালের বিশ্বের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ভাষা হল যথাক্রমে ইংরেজী, চাইনিজ, স্প্যানিশ, আরবি, ফ্রেঞ্চ, জাপানিজ, হিন্দি, জার্মান, রাশিয়ান, পর্তুগিজ, ডাচ, পর্তুগিজ ও ইতালিয়ান। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে ভক্তরা কোন পন্য ক্রয় করতে হলে সেই পণ্য সম্পর্কে জানার জন্য ওই দেশের ভাষা জানতে হবে।

বিশেষ করে কেনাকাটার ক্ষেত্রে অধিকাংশ জায়গায় ইংরেজি ভাষা ব্যবহার করতে হয়। বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা গেছে চীনের মান্দারিন ভাষায় কথা বলা মানুষের সংখ্যা প্রায় ১০০ কোটির ঊর্ধ্বে। চীন আগামী দিনে সুপার পাওয়ার হওয়ার জন্য বিভিন্ন রকম কাজ করে যাচ্ছে। এই জন্য ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোতে ইংরেজীর পাশাপাশি চিনা ভাষা শেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী চীনের সঙ্গে আড্ডা আমদানি ও রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ১৪ভাগ। জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। এছাড়াও জাপানের দক্ষ শ্রমিক ও শিক্ষা লাভ করার জন্য জনশক্তি পাঠানো হচ্ছে। যার কারনে জাপানিজ ভাষায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

বিশেষ করে জাপানিজ ভাষা শিক্ষা লাভ করার মাধ্যমে জাপান থেকে বিভিন্ন রকম সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করা যেতে পারে। জাপানের যেতে হলে অবশ্যই জাপানি ভাষা জানতে হবে। বিদেশী ভাষার ব্যাপারে দক্ষতা অর্জন করার জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনের সারাদেশে প্রায় ২৭ টি ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র রয়েছে যেখান থেকে ২৭টি ভাষা ব্যাপার দক্ষতা অর্জন করা যাবে। 

এছাড়াও ভাষা শিখার পরে সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। বিশেষ করে ইংরেজি ভাষায় অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে চাকুরীর জন্য অথবা শিক্ষা লাভের জন্য জনশক্তি পাঠাতে হলে অবশ্যই সে দেশের ভাষা সম্পর্কে জানতে হবে। যার কারণে ইংরেজি ভাষার ব্যাপারে দক্ষতা অর্জন করা আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরী। 

এছাড়াও অন্যান্য ভাষা গুলো ভালো করে জানতে হবে। আমরা বিদেশী ভাষার ব্যাপারে দক্ষতা অর্জন করার মাধ্যমে উক্ত দেশ থেকে আমরা অর্থনৈতিক চাহিদা পূরণ করতে পারি। যার কারণে বিদেশি ভাষা চর্চার অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম।

ফ্রিল্যান্সিংয়ে যে ৭ দক্ষতা কাজে লাগবে

আজকের আর্টিকেল জীবনদক্ষতা অর্জনের কার্যকর ১২টি উপায় করনা মহামারীর পর থেকে ফ্রিল্যান্সিং পেশা অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আস্তে আস্তে এ পেশা জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা ফ্রিল্যান্সিং পেশার দিকে ঝুঁকে পড়েছে। ফ্রিল্যান্সিং পেশা থেকে ভালো কাজ করার জন্য ফ্রিল্যান্সিং দক্ষতা কাজে লাগাতে হবে।
ফ্রিল্যান্সিং এর সকল দক্ষতা গুলো আয়ত্তে করতে পারলে অনেক ভালো করা যাবে। ফ্রিল্যান্সিং এর ৭ দক্ষতার বিষয়ে আলোচনা করা হলো।

ওয়েব ডেভেলপমেন্টঃ আইতি প্রফেশনাল হতে অথবা কোন ফার্মের মালিক হয়ে কাজ করতে ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কাজ সম্পর্কে ভালো অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ওয়েব ডেভেলপমেন্ট জানতে হলে জাভাস্ক্রিপ্ট, এইচটিএমএল, সিএসএস, ইত্যাদি সম্পর্কে ভালো জানতে হবে। এগুলো বিষয়ে সহজে অনলাইন থেকে কোর্স পাওয়া যায় যা দেখে শিখে নিতে হবে।

ই-কমার্স বৈশ্বিক পরিসরে যেভাবে জুড়ে রয়েছে নিজের ব্যান্ড বা প্রতিষ্ঠানের কাজ জোরদার করতে ডেভেলপিং সম্পর্কে ভালো জ্ঞান থাকা জরুরী। ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর মাধ্যমে কাস্টমারদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা অনলাইনে পণ্য বিক্রয় করার ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যায়।

গ্রাফিক্স ডিজাইনঃ প্রতিটা পণ্য অথবা নিজস্ব প্রতিষ্ঠান সবার সামনে তুলে ধরতে হয়। আর এগুলো বিষয়ে তুলে ধরার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের লোগো ছবি পোস্টার ইত্যাদি তৈরি করতে হয়। গ্রাফি ক্স ডিজাইন এগুলো বিভিন্নভাবে সৌন্দর্য করে তোলেন। এক্ষেত্রে ওয়েবসাইটের ডিজাইন কেমন হবে সে বিষয়ে ডেভেলপারদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন।

মার্কেটিং এ অংশগ্রহণ করতে হলে গ্রাফিক্স ডিজাইন সম্পর্কে অবশ্যই বিস্তারিত জানতে হবে। এছাড়াও অনেক প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য ডিজাইনার নিয়োগ দিয়ে থাকেন। নিজস্ব সৃজনশীলতা বিভিন্ন ধরনের ছবি আঁকার প্রতি আগ্রহটা এবং ওয়েবসাইটের বিভিন্ন ডিজাইনের কাজ করার আগ্রহ থাকলে গ্রাফিক্স ডিজাইন আপনার জন্য অনেক সম্ভাবনাময় হতে পারে।

ভিডিও তৈরি করাঃ ডিজিটাল মার্কেটিং এর মধ্যে কার্যকর উপকরণের অন্যতম হলো ভিডিও কনটেন্ট তৈরি। ভিডিও কনটেন্ট তৈরির অভিজ্ঞতা থাকলে বিভিন্ন ধরনের কাজের সুযোগ রয়েছে। ফ্রিল্যান্সিং এর ক্ষেত্রে ভিডিও তৈরি করা কাজের জন্য অনেক অফার থাকে।

সাধারণত ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম টিক টক এর মত সামাজিক মাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও পোস্ট করে নিয়োগ দাতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যেতে পারে। এছাড়া নিজস্ব কনটেন্টে ভিডিও তৈরি করে অনেক আয় করা সম্ভব। যার কারনে ভিডিও তৈরি করার যাবতীয় দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

কনটেন্ট রাইটিং দক্ষতা অর্জনঃ সবসময়ই ভালো মানের ওয়েবসাইটে ভালো মানের লেখা প্রয়োজন। ওয়েবসাইটে লেখার মধ্যে রয়েছে ব্লক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট বিজ্ঞাপন ও অন্যান্য লেখালেখি। লেখালেখির আগ্রহ থাকলে ডিজিটাল মার্কেটিং এ ভালো কনটেন্ট রাইটিং এর মাধ্যমে ভালো অর্থ উপার্জন করা সম্ভব। আধুনিক ডিজিটাল মার্কেটিং এর ভালো মাধ্যম হলো কনটেন্ট রাইটিং।

ভালো কিওয়ার্ড, এসইও, অপটিমাইজেশনের, মাধ্যমে কন্টেন্ট রাইটিং করে অনেকের মন কাড়া যায়। কনটেন্ট রাইটিং করে সেগুলো অনেক ওয়েবসাইট এর মালিকের কাছে বিক্রয় করা যায় অথবা নিজের ওয়েবসাইটে ব্যবহার করে অর্থ উপার্জন করা যায়। এইজন্য কনটেন্ট রাইটিং ব্যাপারে ভালো দক্ষতা অর্জন করা প্রয়োজন।

কাস্টমার সার্ভিসঃ সব সময় অ দেনলাইন অথবা অফলাইনে কাস্টমারদের সাথে দীর্ঘ মেয়াদী সম্পর্ক রাখা একটি ভালো চর্চা। পুরাতন কাস্টমারদের কে ধরে রাখা এবং নতুন নতুন কাস্টমার তৈরি করা সফল ফিলান্সারদের ভালো গুণ। কাস্টমারদেরকে সেবা দেওয়া, ছোটখাটো প্রতিষ্ঠানের কাজ করে দেওয়া, মাঝারি ও প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডে নিয়োগের ব্যাপারে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

অনলাইন এর মাধ্যমে কাস্টমার সার্ভিস প্রদান করে নিয়মিত অর্থ উপার্জন করা সম্ভব। এক্ষেত্রে ঘরে বসে কাস্টমারদেরকে সার্ভিস দেওয়া যায়। যার কারণে কাস্টমার সার্ভিস ব্যাপারে ভালো দক্ষতা অর্জন করা প্রয়োজন।

ডেটা এন্ট্রি ব্যাপারে দক্ষতা অর্জনঃ ডেটা এন্ট্রি ব্যাপারে ভালো দক্ষতা অর্জন করলে ফ্রিল্যান্সিং জগতে স্থায়ী কাজ পাওয়া যায়। ফ্রিল্যান্সিংজগতের স্থায়ী কাজ পেলে অনেক বেশি অর্থ উপার্জন করা সম্ভব হয়। মনোযোগ সহকারে ডেটা এন্ট্রি এর কাজ করলে ডেটা এন্ট্রি ব্যাপারে ভালো দক্ষতা অর্জন করা যায়। অনেক বড় পরিমান তথ্য হুবহু স্থানান্তর করতে ডাটা এন্ট্রি ব্যবহার করতে হয়।

ডাটা এন্ট্রি ব্যবহার করতে শতভাগ নির্ভুলতা থাকা দরকার। যার কারণে মনে ভালো আত্মবিশ্বাস থাকলে ডেটা এন্ট্রির কাজ দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং জগতে দক্ষতা অর্জন করা যায়। ডেটা এন্ট্রির কাজের সাথে সাথে ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কাজে ভালো দক্ষতা অর্জন করা দরকার। যার কারণে ডেটা এন্ট্রি ব্যাপারে ভালো দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

এসইওঃ অনলাইনে ব্যবসার ক্ষেত্রে পরস্পরের মধ্যে প্রতিযোগিতা অনেক বেড়ে গেছে। যার কারণে একটি কাজ ভালো মানের করতে ভালো এসইও করা প্রয়োজন। কোন কনটেন্ট রাইটিং এর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ কিওয়ার্ড ব্যবহার করে ওয়েবসাইট রান করা যায়। কনটেন্ট রাইটিং এ ভালো এস ইউ করা থাকলে বেশি ক্লিক, ও বেশি ভিজিটর পাওয়া সম্ভব হয়।

এসইও ব্যাপারে দক্ষতা অর্জনের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে। এছাড়াও অনলাইন থেকে এসইও ব্যাপারে সার্চ দিয়ে ভালো এসইও এর দক্ষতা অর্জন করা যায়। এসইও ব্যাপারে ভালো দক্ষতা থাকলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এসইও বিভাগে জব করা সম্ভব। যার কারনে এসইও ব্যাপারে ভালো দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

লেখকের মন্তব্য

সুপ্রিয় পাঠক বন্ধুগণ জীবনদক্ষতা অর্জনের কার্যকর ১২টি উপায় বিষয়ে আজকের আর্টিকেল লেখা হল। এছাড়া আরো আলোচনা করা হয়েছে প্রত্যেকের ডিজিটাল দক্ষতা অর্জন করতে হবে। বিদেশি ভাষাচর্চার অর্থনৈতিক গুরুত্ব। আমাদেরকে শিক্ষা জীবন শেষ করে চাকুরীর ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তির ব্যাপারে ভালো দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

এছাড়া বিদেশি ভাষার দক্ষতা অর্জন করতে বিভিন্ন জায়গায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা যেতে পারে। বিভিন্ন প্রকার দক্ষতা ব্যাপারে জানতে আজকের আর্টিকেল ভিজিট করুন। আশা করি আজকের আর্টিকেল আপনাদেরকে ভালো লাগবে এবং উপকৃত হবেন। ভালো লাগলে লাইক কমেন্ট ও শেয়ার করবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url