কারাগারে আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী

সুপ্রিয় পাঠক বন্ধুগন কারাগারে আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী বিষয়ে আজকের আর্টিকেল লেখা শুরু করলাম। আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী ছিলেন একজন ইসলামি গবেষক, রাজনীতিবিদ ও সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি বাংলাদেশের ইসলামী সংগঠন,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমীর।
আন্তর্জাতিক ভাবে আলোচিত ইসলামি স্কলার গনের মধ্যে তিনি একজন। তিনি কোরআনের তাফসীর কারক হিসেবে অত্যাধিক জনপ্রিয়। তিনি দুনিয়ার সার্থের উর্ধে উঠে ফ্যাসিষ্ট সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। সারাজিবন আধিপত্য বাদিদের বিরুদ্ধে অবস্থান তাঁকে অনন্ন উজ্জলতায় ভূষিত করেছে।

ভুমিকা

পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানীর সাঈদখালি গ্রামে ২ই ফেব্রুুয়ারী ১৯৪০ সালে এক মহান ইসলামী গবেষকের জন্ম হয়। তিনি হলেন আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী। তাঁর পিতার নাম মাওলানা ইউসুফ সাঈদী, মাতার নাম গুলনাহার বেগম। কারাগারে আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী জানা দরকার।
আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী ১৯৬০ সালে পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের বাদুরা গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মরহুম মুন্সি ইউনূসের তৃতীয় কন্যা শেখ সালেহা বেগমকে বিয়ে করেন। তার মোট চারটি ছেলে সন্তান যথাক্রমে মরহুম রফিক সাইদী, শামীম সা্ঈদী, মাসুদ সাঈদী এবং নাসিম সাঈদী। মাওলানা রফিক সাঈদী আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী জীবিত অবস্থায় মারা যান।

আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর পরিবার

আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর পরিবারের সদস্যগনের নামের তালিকা:-

১. মিসেস সালেহা সাঈদী ( জীবন সংগিনী)
২. মরহুম মাওলানা রাফিক বিন সাঈদী ( বড় পুত্র)
৩. শামিম বিন সাঈদী (মেজ পুত্র)
৪. মাসুদ বিন সাঈদী (সেজ পুত্র)
৫. নাসিম বিন সাঈদী (ছোট পুত্র)
৬. সাইয়েদা সুমাইয়া ফারজিয়া (বড় পুত্রবধু)
৭. সুলতানা পারভিন হিরা (মেজ পুত্রবধূ)
৮. মাওলানা সাইয়েদা মারজানা যাবিন জাফরি (সেজ পুত্রবধূ)
৯. সাজেদা রেজাঈ ফাতেমা (ছোট পুত্রবধূ)
১০. তাসনুভা তামান্না সাঈদী (নাতনী)
১১. ইশরাত লুবায়না সাঈদী (নাতনী)
১২. মাহদী হোসাইন সাঈদী (নাতী)
১৩. মুনাওয়ার হাসনাইন সাঈদী ( নাতী)
১৪. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ সাঈদী ( নাতী)
১৫. মাহির মানাযির সাঈদী (নাতী)
১৬. ইউসুফ নাযিল সাঈদী (নাতী)

আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর শিক্ষা জীবন

আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর পিতার প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসায় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন। ১৯৫৭ সালে তিনি ছারছীনা দারুস সুন্নাহ আলিয়া মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করেন। বারুইপাড়া সিদ্দিকিয়া মাদ্রাসা থেকে আলিম পাশ করেন। পরে খুলনা আলিয়া মাদ্রাসায় পড়েন এবং ১৯৬২ সালে ছারছিনা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে কামিল পাশ করেন।
পরবর্তিতে ভাষা, ধর্ম, বিজ্ঞান , রাজনীতি, অর্থনীতি, পররাষ্ট্র নীতি, বিভিন্ন তত্তের উপর দীর্ঘ ৫ বছর লেখাপড়া করেন। আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী বাংলা উর্দু আরবি পাঞ্জাবি ইংরেজি ও ফারসি ভাষায় বক্তব্য রাখতে পারেন। কারাগারে আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী এর যাবতীয় তথ্য জানা দরকার।

আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর দায়ী ইলাল্লা

তিনি ১৯৬৭ সাল থেকে কোরআনের তাফসীরের মাধ্যমে দাওয়াতি কাজ শুরু করেন। তিনি অর্ধশতের ও বেশী দেশের মানুষের কাছে ইসলামের সুমহান আদর্শের দাওয়াত দেন। তিনি ৫০ বছর ধরে কোরআনের তাফসীরের মাধ্যমে দাওয়াত দেন।

চট্টগ্রাম প্যারেডগ্রাউন্ড ময়দানে প্রতি বৎসর ৫ দিন করে ২৯ বছর তাফসির মাহফিল করেন। যেখানে পবিত্র কাবা শরীফের সম্মানিত ইমাম দু’বার প্রধান অতিথি ছিলেন। খুলনা সার্কিট হাউজ সহ শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রতি বছর ২ দিন করে ৩৮ বছর কোরআনের তাফসীর পেশ করেন।

সিলেট সরকারী আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে বছরে ৩ দিন করে ৩৩ বছর তাফসীর মাহফিল করেন। রাজশাহী সরকারী মাদ্রাসা মাঠে বছরে ৩ দিন করে ৩৫ বছর তাফসীর মাহফিল করেন। বগুড়া শহরে বছরে ২দিন করে ২৫ বছর তাফসীর মাহফিল করেন।

ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে ময়দান ও পল্টন ময়দানে বছরে ৩ দিন করে ৩৪ বছর তাফসীর মাহফিল করেন। কুমিল্লা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে বছরে তিন করে ৩১ বছর তাফসীর মাহফিল করেন। এছাড়া আরো শত শত তাফসীর মাহফিল করেছেন।

আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর রাজনৈতিক জীবন

১৯৭৯ সালে সমর্থক হিসেবে আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী বাংলাদেশ জামায়াত-ই- ইসলামীতে যোগদেন। তিনি ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রুকন শফত গ্রহন করেন।

১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ জামায়াত-ই- ইসলামীর মজলিসে শুরার সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ জামায়াত-ই- ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য হন। ২০০০ সাল থেকে আমৃত্যু বাংলাদেশ জামায়াত-ই- ইসলামীর নায়েবে আমীর ছিলেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী

১৯৭৬ সালে সৌদি বাদশার রাজকীয় আমন্ত্রণে হজ পালন করেন। ১৯৯০ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর রমজানে মক্কা মদিনায় অবস্থান কররেন। ১৯৮২ সালে ইমাম খুমিনির আমন্ত্রণে ইরানের প্রথম বিপ্লব বার্ষিকী উদযাপনে ইরান সফর করেন।

১৯৯১ সালে সৌদি বাদশার আমন্ত্রণে ইরাক ও কুয়েত মীমাংসা বৈঠকে যোগদান করেন। ১৯৯১ সালে ইসলামি সার্কেল অফ নর্থ আমেরিকা তাকে আল্লামা উপাধি দেন। ১৯৯৩ সালে নিউইয়র্কে আমেরিকান মুসলিম ডে প্যারেড সম্মেলনে আল্লামা সাঈদীকে গ্রান্ড মারশাল পদক দেয়া হয়।

২০০০ সালের ৮ ই ডিসেম্বর আরব আমিরাতে ৫০.০০০ লোকের সামনে তাফসীর পেশ করেন লন্ডনে মুসলিম সেন্টার উদ্বোধনীতে কাবা শরীফের ইমাম শায়খ আব্দুর রহমান আস সুদাইসির সাথে মাওলানা আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী উপস্থিত ছিলেন। আল্লামা সাঈদীর কাছে দেশ এবং বিদেশের ১০০০ এরও বেশি অমুসলিম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

দেশ-বিদেশে সেমিনারে অংশগ্রহণ

বাংলাদেশে সেমিনারে অংশগ্রহন করেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও ময়মনসিংহ বিশ্ববিদ্যালয়।

আমেরিকায় সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন- ইউনিভার্সিটি অব হাভার্ড, ইউনিভার্সিটি অফ হিউস্টন, পেন্সিলভেনিয়া ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি, বষ্টন ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অফ সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা, মিশিগান ইউনিভার্সিটি।

ইংল্যান্ডের সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন- অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি. বারমিংহাম ইউনিভার্সিটি ।

আরবে সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন- উম্মুল কুরা ইউনিভার্সিটি, কিং আব্দুল আজিজ ইউনিভার্সিটি, তাইয়েবা ইউনিভার্সিটি, বাদশাহ সৌদ ইউনিভার্সিটি, মদীনা ইসলামী ইউনিভার্সিটি, দার আল হেকমাহ ইউনিভার্সিটি।

মালয়েশিয়ায় সেমিনারে অংশ গ্রহণ করেন- আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অফ মালোই, আব্দুর রহমান ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি, জোহর বাহরু।

মিশরে সেমিনার অংশগ্রহণ করেন আল-আযহার ইউনিভার্সিটি, কায়রো ইউনিভার্সিটি, আলেকজান্দ্রিয়া ইউনিভার্সিটি । ক্যানাডায় সেমিনারের অংশগ্রহণ করেন- টরন্টো ইউনিভার্সিটি অফ ওটোয়া, ম্যাক গিল ইউনিভার্সিটি।

সমাজসেবায় আল্লামা সাঈদী

রাবেতা আলম আল ইসলামী উপদেষ্টা, বাংলাদেশ সৌদি আরব মৈত্রী সমিতির উপদেষ্টা, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শরিয়াহ কাউন্সিল ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা এর এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান।

বাংলাদেশের মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদ এর চেয়ারম্যান, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম এর ট্রাষ্টি বোর্ড সদস্য, দারুল কুরআন সিদ্দিকীয়া কামিল মাদরাসা, খুলনা এর প্রতিষ্ঠাতা,।

তিনি চেয়ারম্যন যে সব প্রতিষ্ঠানে তা হলোঃজামেয়া ই কাসেমিয়া, নরসিংদী,তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা, টংগীতা’লিমুল কুরআন ফাউন্ডেশনজামেয়া দ্বীনিয়া, টংগী, ইসলামিক কলেজ লন্ডন, দারুল হানান শিশু সদন, পিরোজপুর, তাফহীমুল কুরআন মাদরাসা, টাংগাইল।


তিনি যে সকল প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা তা হলোঃনিউইয়র্ক ইসলামিক স্কুল, আমেরিকা, আইটি এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ, পিরোজপুর, তাফহীমুল কুরআন দাখিল মাদরাসা, পিরোজপুর,তাফহীমুল কুরআন কিন্ডার গার্টেন স্কুল, পিরোজপুর দারুল কুরআন মহিলা দাখিল মাদরাসা, পিরোজপুর, এসডি মদিনাতুল উলুম দাখিল মাদরাসা, পিরোজপুর। তিনি আরও অনেক প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত আছেন ।

আল্লামা সাঈদীর রচিত গ্রন্থের নাম

কারাগারে আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী আল্লামা সাঈদী দীর্ঘদিন থাকেন। দেশ বিদেশে তাফসীর মাহফিলের পাশাপাশি প্রচুর লেখা লেখি করতেন। তিনি পবিত্র কোরআনের তাফসীর ‘তাফসীরে সাঈদী’ নামে ইতিমধ্যেই ৫ খন্ডপ্রৈকাশ করেছেন। তাফসীরের বাকি কাজ চলমান আছে।

এছাড়া তিনি অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন যাহা নিচে বর্নণানকরা হলো- আল কুরআনের দৃষ্টিতে মহাকাশ ও বিজ্ঞান। কুরআনুল কারীম (সহজবোধ্য বঙ্গানুবাদ)। আল কুরআনের দৃষ্টিতে ইবাদাতের সঠিক অর্থ ।আল কুরআনের মানদন্ডে সফলতা ও ব্যর্থতা । কোরআন দিয়ে কোরআন বুঝুন ।

আল্লাহ মৃতদেহ নিয়ে কী করবেন। ঈমানের অগ্নিপরীক্ষা ।কাদিয়ানীরা কেনো মুসলিম নয়। খোলা চিঠি । চরিত্র গঠনে নামাযের অবদান।জান্নাত লাভের সহজ আমল। তাফসীরে সাঈদী (আমপারা)। তাফসীরে সাঈদী (সূরা বাকারাহ)। তাফসীরে সাঈদী (সূরা ফাতিহা)। তাফসীরে সাঈদী (সূরা আছর)।তাফসীরে সাঈদী (সূরা লুকমান)।

দেখে এলাম অবিশ্বাসীদের করুন পরিণতি।বর্তমান বিশ্বে ইসলামী পুনর্জাগরণের সম্ভাবনা। নন্দিত জাতি নিন্দিত গন্তব্যে। নীল দরিয়ার দেশে।পবিত্র কুরআনের বিজ্ঞানময় মু’জিযা।নিজ পরিবারবর্গের প্রতি আমার অসিয়্যত।বিষয়ভিত্তিক তাফসীরুল কুরআন (১ম খন্ড)।বিষয়ভিত্তিক তাফসীরুল কুরআন (২য় খন্ড)।

মহিলা সমাবেশে প্রশ্নের জবাবে (১ম খন্ড)। মহিলা সমাবেশে প্রশ্নের জবাবে (২য় খন্ড)। মানবতার মুক্তি সনদ মহাগ্রন্থ আল কুরআন। রাসূল (সাঃ) এর মোনাজাত।সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে ইসলাম।আল্লামা সাঈদী রচনাবলী ১। আল্লামা সাঈদী রচনাবলী ২। আল্লামা সাঈদী রচনাবলী ৩। সীরাতে সাইয়্যেদুল মুরসালীন ১।সীরাতে সাইয়্যেদুল মুরসালীন ২। আমি কেন জামায়াতে ইসলামী করি?। ইসলামী রাজনীতি কী ও কেন?।

তাফসীরে আয়াতুল কুরসী।সুন্নাতে রাসূল (সাঃ) এর অনুসরণের সঠিক পদ্ধতি।ঈমানী জিন্দেগীর সাফল্য ও ব্যর্থতার মানচিত্র।আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তার দাবি ।শাহাদাতই জান্নাত লাভের সর্বোত্তম পথ । দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ধৈর্যের অপরিহার্যত। জিহাদ ঈমানের অপরিহার্য দাবি।

দ্বীনে হকের প্রতি দাওয়াত না দেয়ার পরিণতি। হাদীসের আলোকে সমাজ জীবন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সম্মানীত আলেম সমাজের দায়িত্ব ও কর্তব্য। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার মূলনীতি। ইসলাম একটি পুর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। ইসলাম-ই ঐক্য ও শান্তির পথ।ইসলামের রাজনৈতিক বিধান।

ইসলামে ভূমি, কৃষি ও শিল্প আইন। আল্লাহ তা’য়ালার শেখানো দোয়া। নারী অধিকারের সনদ।শিশুর প্রশিক্ষণ পদ্ধতি। শিশু-কিশোরদের প্রশ্নের জবাবে। বিশ্বনবীর অমীয় বাণী ।জিয়ারতে বায়তুল্লাহ। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবি ও আমাদের সংবিধান।

ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবি ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবি : আমাদের করণীয়। বিশ্ব সভ্যতায় নারীর মর্যাদা। ইসলামী ও জাতীয়তাবাদী শক্তির নেপথ্যে।তা’লিমুল কুরআন ১। তা’লিমুল কুরআন ২।জীবন্ত ঈমানের স্বাদ।বেহেশতের চাবি।পরকালের সাথী। নাজাতের পথ।যুগের দর্পন।বিশ্ব সভ্যতার মুক্তি কোন পথ।

আখিরাতের জীবন চিত্র।মানবতা বিদ্ধংসী দু’টি মতবাদ। ধর্মনিরপেক্ষতা বনাম ধর্মহীনতা: একটি পর্যালোচনা। সৎ মানুষের সন্ধানে ।রিয়াদুল মু’মিনীন। কুসংস্কারের সংস্কার করবে কে?। আল্লাহ কোথায় আছেন?

কারাগারে আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী

কারাগারে আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী প্রথমে ১৯৭৫ সালে কারাবরণ করেন। এর পরে কারাগারে ২০১০ সালের ২৮শে জুন আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীকে রাজধানীর শাহিন বাগের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের কারণ ছিল ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া।
পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হত্যা ধর্ষণ লুটপাত নির্যাতন ও ধর্মান্তরে বাধ্য করার মতো মানবতা অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ২৮ শে ফেব্রুয়ারি আল্লামা সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়। এ রায়ের প্রতিবাদে গোটা দেশের আপামর জনতা মাঠে নেমে আসেন।

পরবর্তীতে আপিল করলে ২০১৪ সালের ১৭ ই সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভিত্তিতে আমৃত্যু সাজা প্রদান করে প্রদান করে। দীর্ঘ ১৩ বছর জেলে থাকা অবস্থায় গোটা দেশের লোকের মাঝে সাঈদী ভালোবাসা আরও বেশি বাড়তে থাকে।

আল্লামা সাঈদীর মৃত্যু

২০২৩ সালের ১৩ই আগস্ট বিকালে হঠাৎ করে বুকের ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। উন্নত চিকিৎসার জন্য কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে শহীদ তাজ উদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। অতঃপর সেখান থেকেবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানমেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২৩ সালের ১৪ই আগস্ট রাত আটটা চল্লিশ মিনিটে তিনি মারা যান। মারা যাওয়ার সময় তাহার বয়স ছিল ৮৩ বছর ।তিনি মারা যাওয়াই দেশ এবং বিদেশের শোকের ছায়া নেমে আসে।

বাংলাদেশ আমাদের ইসলাম ঢাকা মহানগর দক্ষিণের পক্ষ থেকে ১৫ই আগস্ট বাদ জহুর বায়তুল মোকাররম মসজিদের গেটে জানাজার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকার সে জানাজা করতে না দিয়ে রাতেই পিরোজপুর আল্লামা সাঈদীর মরদেহপাঠিয়ে দেয়। 

পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পিরোজপুর শহরে আল্লামা সাঈদী ফাউন্ডেশন মাঠে রফিক সাঈদীর কবরের পাশে দাফন করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেখানেই দাফন সম্পন্ন করা হয়। সৌদি যুবরাজ বাইতুল্লাহ শরীফে মাওলানা আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর গায়েবানা জানাজার অনুমতি প্রদান করেন। 

ইতিপূর্বে সেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর যুগে বাদশা নাজারসির গায়েবানা জানাজা করা হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ জামাত ইসলামী এর প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ আবুল আলা মওদুদী (রঃ) এর গায়েবানা জানাজা করা হয়। সর্বশেষ আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর গায়েবানা জানাজা করা। 

পুলিশের বাধা নির্যাতন অপেক্ষা করেবাংলাদেশের সকল ইউনিয়ন উপজেলা এবং জেলা শহরে আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

লেখক এর মন্তব্য

আমরা দেশের আপামর জনতা আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে একমাত্র ইসলামের জন্য ভালোবাসি। আল্লাহতালা উনাকে শহীদের মৃত্যু দিন এবং জান্নাতের সুউচ্চ মাকাম দান করুন। উনি মারা যাওয়াই আপামর ইসলাম প্রিয় জনসাধারণের প্রচুর ক্ষতি হয়েছে।

কারাগারে আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী ব্যাপারে আলোচনা করা হলো। আশা করি আমার এই পোস্ট গুলির সকল তথ্য আপনাদেরকে ভালো লাগবে। ভালো লাগলে লাইক কমেন্ট ও শেয়ার করবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url