নিম পাতা দিয়ে গোসল করার উপকারিতা
সুপ্রিয় পাঠক বন্ধুগণ নিম পাতা দিয়ে গোসল করার উপকারিতা বিষয়ে আজকের আর্টিকেল লেখা শুরু করলাম। নিম পাতা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় ভূমিকা রাখে। যার কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিম গাছকে ২১ শতকের বৃক্ষ বলে ঘোষণা করেছেন।
নিম পাতায় বিভিন্ন ওষুধি গুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। নিম পাতা সম্পর্কে জানতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।
ভূমিকা
আজকের আর্টিকেল নিম পাতা দিয়ে গোসল করার উপকারিতা। নিম বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদ। সাধারণত একটি নিম গাছ ৪০ থেকে ৫০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। নিম পাতা বিভিন্ন ওষুধি কাজে ব্যবহার হয়। বিশেষ করে নিমপাতা দিয়ে প্রায় ২২ টি রোগের সরাসরি চিকিৎসা করা হয়ে থাকে। এছাড়া নিম পাতা ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রসাধনী তৈরি করা হয়।
আরও পড়ুনঃ ধনে পাতায় কি কি ভিটামিন আছে
নিম গাছের কাঠ অত্যন্ত শক্ত এবং পোকায় খেতে পারে না। যার কারণে নিম কাঠ দিয়ে বাড়ির বিভিন্ন আসবাবপত্র তৈরি করা যায়। নিম কাঠের খাট স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। এছাড়া বাড়িতে নিম গাছ লাগিয়ে রাখলে বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা পাওয়া যায়। যার কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিম গাছকে একুশ শতকের বৃক্ষ বলে ঘোষণা করেছেন।
খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে কি হয়
আজকের আর্টিকেল নিম পাতা দিয়ে গোসল করার উপকারিতা। খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে দুর্দান্ত স্বাস্থ্য উপকারিতা পাওয়া যায়। নিম পাতার রসে পর্যাপ্ত অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিভাইরাল, অ্যান্টিফাঙ্গাল, অ্যান্টিইনফ্লামেটরি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, উপাদান বিদ্যমান।
উপাদানগুলো আমাদের শরীরের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে আমাদের শরীরের বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে। খালি পেটে নিমপাতার রস খেলে কি হয় তা বিস্তারিত জেনে নিন।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করেঃ নিম পাতায় পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান বিদ্যমান। এছাড়াও নিমপাতায় পর্যাপ্ত ভিটামিন সি রয়েছে। এগুলো উপাদান শরীরের অ্যান্টিবডিকে উন্নত করে।
যার কারণে বিভিন্ন রোগের আক্রান্ত হতে শরীর রক্ষা পায়। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন সংক্রামন থেকে এগুলো উপাদান শরীরকে রক্ষা করে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করেঃ নিম পাতায় অ্যান্টিডায়াবেটিস উপাদান রয়েছে যা রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিমপাতার রস একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। প্রতিদিন খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে রক্তের শর্করা মাত্রা নিয়ন্ত্রণ থাকে।
নিয়মিত নিম পাতার রস খাওয়ার মাধ্যমে শরীরের প্রয়োজনীয় ইনসুলিনের উৎপাদনের ভারসামতা রক্ষা করে। যিনারা ডায়াবেটিস রোগী তাদের জন্য প্রতিদিন সকালে খালি পেটে নিম পাতার রস খাওয়া প্রয়োজন।
ত্বক গঠনে ভূমিকা রাখেঃ নিম পাতার রসে পর্যাপ্ত অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও এন্টিফাঙ্গাল উপাদান রয়েছে। এছাড়া নিম পাতার রসে পর্যাপ্ত ভিটামিন সি রয়েছে। এগুলো উপাদান ত্বক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে ত্বকে চুলকানি, ব্রণ, ফুসকুড়ি, ও ছত্রাকের, বিভিন্ন সমস্যা হলে নিম পাতার রস ব্যবহারের মাধ্যমে এগুলোর রোগ নিরাময় করা যায়।
নিয়মিত খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে ত্বকের এগুলো সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। এছাড়া নিম পাতার রস খাওয়ার মাধ্যমে ত্বকের মৃত কোষ অপসারিত হয়ে নতুন কোষ তৈরি হয়। যার কারণে নিম পাতার রস খাওয়ার মাধ্যমে শরীরের ত্বক মোলায়েম, উজ্জ্বল, হয় এবং ত্বকের শুষ্কতা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
হজম শক্তি বৃদ্ধি করেঃ নিম পাতায় থাকা অ্যান্টিফাংগাল, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, উপাদান গুলো হজম শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে নিমপাতা রস খেলে পেট ফাঁপা, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্যতা, ও ডায়রিয়া, এর মত সমস্যা থেকে দূরে থাকা যায়।
এছাড়া পাকস্থলীর কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত খালি পেটে নিম পাতার রস খাওয়া যেতে পারে।
রক্ত পরিষ্কার করেঃ শরীরের রক্ত পরিষ্কার করতে নিয়মিত খালি পেটে নিম পাতার রস খাওয়া যেতে পারে। নিম পাতায় উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, গুলো শরীরের রক্ত পরিষ্কার করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত খালি পেটে নিম পাতার রস খাওয়ার মাধ্যমে শরীর থেকে টক্সিন অপসারিত হয়। এছাড়াও নিয়মিত নিম পাতার রস খাওয়ার মাধ্যমে শরীরের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত হয়।
চুলের স্বাস্থ্য উন্নতিতে ভূমিকা রাখেঃ নিয়মিত খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। নিম পাতায় থাকা অ্যান্টি ব্যাকটেরয়াল ও এন্টিফাঙ্গাল উপাদান গুলো মাথার বিভিন্ন সমস্যা যেমন চুল পড়া, খুকশি, ও উকুনের, সমস্যা দূর করে। এছাড়া নিয়মিত খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে মাথার ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখে যার কারণে চুল সুন্দর কালো ও সিল্কি হয়।
প্রতিদিন নিয়মিত ১০ থেকে ১৫ টি পাতা ভালো করে পিষে সেখান থেকে রস বের করে মধু ও লেবুর রসের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এভাবে নিয়মিত নিম পাতার রস খাওয়ার মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়ারজনিত বিভিন্ন সমস্যা শরীরে বাসা বাধতে পারেনা। যার কারণে হাতের কাছে থাকা সহজলভ্য নিম পাতার রস প্রতিদিন খালি পেটে খাওয়া প্রয়োজন।
নিম পাতা দিয়ে গোসল করার উপকারিতা
তীব্র গরমে শরীর জ্বালাপোড়া করে। এছাড়া অন্যান্য সময় শরীরের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হয়। বিশেষ করে চুলকানি, এলার্জি, ও ত্বকে বিভিন্ন রকম ফুসকুড়ি, হতে পারে। সাধারণত নিম পাতা দিয়ে গোসল করলে এগুলো সমস্যা দূর হয়।
আরও পড়ুনঃ শ্বেতী রোগ থেকে মুক্তির ঘরোয়া উপায়
এছাড়াও নিমপাতা দিয়ে গোসল করার মাধ্যমে দুর্দান্ত শারীরিক উপকারিতা পাওয়া যায়। নিম পাতা দিয়ে গোসল করার উপকারিতা গুলো আলোচনা করা হলো।
শরীরের ঘামের গন্ধ হয় নাঃ গরমের সময় শরীর ঘেমে একাকার হয়ে যায়। সাধারণত শরীর ঘামার পরে শরীরে এক ধরনের গন্ধ তৈরি হয়। নিম পাতা দিয়ে গোসল করার মাধ্যমে শরীরের এগুলো গন্ধ দূর হয়। এছাড়া অতিরিক্ত ঘামের কারণে অনেকের শরীর দুর্বল হয়।
এক্ষেত্রে কয়েকটি নিমপাতা পানিতে ফুটিয়ে নিয়ে সেই পানি সঙ্গে ঠান্ডা পানির সঙ্গে মিশ্রিত করে গোসল করার ফলে শরীরের অতিরিক্ত ঘাম থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এছাড়া নিম পাতা দিয়ে গোসল করার মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
ত্বকের কালো দাগ দূর হয়ঃ গরমের দিন ত্বক রুক্ষ হয়। এছাড়া শীতের সময় অনেকের ত্বক শুষ্ক হয়। গরমের সময় সূর্যের রশ্মি শরীরে পড়ার কারণে শরীরের ত্বক কালো হয়। এগুলো সমস্যা দূর করতে নিয়মিত নিম পাতা দিয়ে গোসল করা যেতে পারে।
নিম পাতা পানিতে ফুটিয়ে সে রস ঠান্ডা পানিতে মিশিয়ে, অথবা নিম পাতার রস ঠান্ডা পানিতে মিশিয়ে গোসল করার ফলে শরীরের বিভিন্ন ত্বকের বিভিন্ন সংক্রমণ হতে রক্ষা পাওয়া যায়। সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত ত্বক মেরামতে নিয়মিত নিম পাতা দিয়ে গোসল করা যেতে পারে।
এলার্জি দূর করতে সহায়তা করেঃ গরমের সময় অনেকের এলার্জি সমস্যা বৃদ্ধি হয়। শরীরের এলার্জি সমস্যা নিরাময় করতে নিয়মিত নিমপাতা মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল করা যেতে পারে। নিম পাতায় থাকা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান শরীরের ত্বকের বিভিন্ন সংক্রমণ সমস্যা দূর করে।
এছাড়া ত্বকের চুলকানি, ফুসকুড়ি, ব্রণ, ইত্যাদি সমস্যা দূর করতে নিয়মিত কিছুদিন নিমপাতা দিয়ে গোসল করা প্রয়োজন। নিম পাতা দিয়ে গোসল করার ফলে শরীরে ত্বকের বিভিন্ন সংক্রমণ প্রতিরোধ করে মোলায়েম ও উজ্জ্বল ত্বক গঠনে সহায়তা করে।
খুশকি সমস্যা দূর করেঃ নিম পাতা দিয়ে গোসল করার মাধ্যমে মাথার খুশকি দূর হয়। অনেক সময় মাথায় বিভিন্ন ধুলাবালি লেগে খুশকি তৈরি হয়। নিম পাতা দিয়ে গোসল করার মাধ্যমে মাথার ত্বক পরিষ্কার হয় এবং সংক্রমণ থেকে রক্ষা পায়। যার কারণে মাথার চুল স্বাস্থ্যবান ও সিল্কি হয়। এছাড়াও মাথার বিভিন্ন সংক্রমণ দূর করতে নিম পাতার রস মাথায় ব্যবহার করা যায়।
প্রতিদিন নিম পাতার রস, আপনাকে দেবে কার্যকরী ক্ষমতা
আজকের আর্টিকেল নিমপাতা দিয়ে গোসল করার উপকারিতা। নিমপাতা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঔষধি গাছ যার ডাল, পাতা, ফুল, ফল, বীজ, সবকিছুতেই ওষুধই গুনাগুন রয়েছে। এছাড়াও বলা হয় বাড়ির সুস্থতা রাখতে বাড়ির সাথে নিম গাছ লাগানো প্রয়োজন। এছাড়াও নিম গাছের কাঠ দিয়ে তৈরি আসবাবপত্র তৈরি করলে বিভিন্ন শারীরিক উপকারিতা পাওয়া যায়।
নিম পাতার গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিভাইরাল, অ্যান্টিফাঙ্গাল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ও অ্যান্টিইনফ্লামেটরি, উপাদান রয়েছে। নিম পাতায় পর্যাপ্ত ভিটামিন সি রয়েছে। নানান রকম রোগের চিকিৎসায় নিম পাতা ব্যবহার করা হয়। এছাড়া নিম পাতা রোগ প্রতিরোধি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
বিভিন্ন রকম গবেষণায় দেখা গেছে যে নিম পাতার রসে এস মিটানস, এ ফ্যাকালিস এবং এস ও অরিয়াসের মত উপাদান রয়েছে যা খারাপ ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে ভূমিকা পালন করে। অনেকেই উচ্চ রক্তচাপে ভোগেন। নিয়মিত নিম পাতা ব্যবহারের মাধ্যমে রক্ত পরিষ্কার হয় যার কারণে উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
প্রতিদিন খালি পেটে এক কাপ পানিতে মধু ও নিম পাতার রস মিশিয়ে খেতে পারলে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি হয়। এছাড়া শরীরের হরমোন নিয়ন্ত্রিত হয়। নিয়মিত নিম পাতার রস খেলে হজমশক্তি বৃদ্ধি হয় এবং পাকস্থলির কার্যকরী ক্ষমতা বৃদ্ধি হয়। কোষ্ঠকাঠিন্যতা থেকে দূরে থাকা যায়। যাদের গ্যাস্ট্রিক রয়েছে নিয়মিত নিমপাতা খাওয়ার ফলে গ্যাস্ট্রিক সমস্যা দূর হয়।
নিম পাতায় থাকা অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান পাকস্থলী সংক্রান্ত যাবতীয় সমস্যার সমাধান করে। যে ব্যক্তির রক্তের কোলেস্টেরলে ভোগেন নিয়মিত নিম পাতা খাওয়ার ফলে সমস্যা দূর হয়। এছাড়া আর নিমপাতা খাওয়ার ফলে শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল অপসারিত হয়ে শরীরের ওজন কমাতে সহায়তা করে।
এক্ষেত্রে প্রতিদিন পানি ফুটিয়ে সেখানে কিছু নিম পাতা ব্যবহার করে উক্ত নিম পাতার পানি খেতে পারেন। এছাড়া নিম পাতার রস এক চামচ করে প্রতিদিন চার মাস সেবন করলে ডায়াবেটিস সমস্যা দূর হয় এবং রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ থাকে। নিম পাতার পানি খাওয়ার মাধ্যমে ইনসুলিন গ্রহণের প্রবণতা ৩০ থেকে ৬০ ভাগ পর্যন্ত কমে যায়।
যাদের জন্ডিস হয় প্রতিদিন নিম পাতার রস ২৫ থেকে ৩০ ভাগ মধুর সাথে মিশিয়ে খেলে জন্ডিসের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এক কথাই বলা যায় নিম পাতার রস আমাদের দেহের অধিকাংশ রোগ নিরাময়ে ভূমিকা রাখে।
নিম পাতার রসের ওষুধি গুনাগুন অনেক বেশি। যার কারনে বাড়ির পাশে একটি নিম গাছ লাগিয়ে রাখলে অনেক ভালো হয়। প্রিয় পাঠক আসুন আমরা প্রত্যেকের বাড়িতে একটি করে নিমগাছ লাগিয়ে রাখি।
নিম পাতার দুর্দান্ত স্বাস্থ্য উপকারিতা
আজকের আর্টিকেল নিম পাতা দিয়ে গোসল করার উপকারিতা। নিম পাতা ঔষধি গুনসম্পন্ন উদ্ভিদ। নিম পাতা দ্বারা চিকিৎসা প্রাচীনকাল থেকে হয়ে আসতেছে। নিম গাছের শিকড়, সাল, পাতা, ফল, ও বীজ, বিভিন্ন ঔষধি কাজে ব্যবহার হয়। এছাড়া বাড়ির পাশের নিম গাছ লাগিয়ে রাখলে বাড়িতে রোগ আক্রান্তের পরিমাণ কম হয়। নিম পাতার উপকারিতা গুলো আলোচনা করা হলো।
আরও পড়ুনঃ শিশুর ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার
ত্বকের ব্রণ ও ফুসকুড়ি দূর করেঃ নিম পাতা ব্যবহার করার ফলে ত্বকের ব্রণ ও ফুসকুড়ি দূর হয়। নিম পাতায় অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুন রয়েছে যা ব্রণ ও ফুসকুড়ি নিরাময় করে। এক্ষেত্রে নিমপাতা ব্যবহার করার ফলে ত্বক থেকে ব্যাকটেরিয়া দূর করে ত্বকের ছিদ্রগুলো পরিষ্কার রাখে।
নিম পাতা পেস্ট করে ত্বকে ভালো করে লাগিয়ে ২০ থেকে ২৫ মিনিট অপেক্ষা করার পরে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এভাবে এক সপ্তাহ ব্যবহার করলেই উপকারিতা পাওয়া যায়।
ত্বকের সংক্রমণ দূর করেঃ নিম পাতায় অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিইনফ্লামেটরি, উপাদান রয়েছে। যার কারণে নিম পাতা ব্যবহারের ফলে ত্বকের বিভিন্ন রকম সংক্রমণ যেমন দাঁদ, চুলকানি, ও বিভিন্ন ইনফেকশন থেকে দূরে থাকা যায়। নিম পাতা ফুটিয়ে সেই পানিতে গোসল করার ফলে ত্বকের সংক্রমণ থেকে দূরে থাকা যায়।
ত্বকের উজ্জ্বলতার বৃদ্ধি করেঃ নিয়মিত নিম পাতা ত্বকে ব্যবহার করার ফলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি হয়। সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির দ্বারা ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হলে নিয়মিত নিম পাতা ব্যবহারের ফলে ত্বক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা হয়। এছাড়া ত্বকে কালো পোড়ার দাগ থাকলে নিমপাতা ব্যবহারের ফলে তা দূর হয়। এক্ষেত্রে নিম পাতা পেস্ট করে তার সঙ্গে মধু মিশিয়ে মাস্ক তৈরি করতে হবে।
উক্ত পেস্ট ত্বকে ভালো করে ব্যবহার করে ২০ থেকে ৩০ মিনিট পরে ধুয়ে ফেলতে হবে। এভাবে ব্যবহারের ফলে ত্বকের ক্ষতিকর দিক থেকে রক্ষা করে ত্বক উজ্জ্বল হবে।
মাথার খুশকি দূর করেঃ নিম পাতা ব্যবহারের ফলে মাথার খুশকি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। নিম পাতায় অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল ও এন্টি ফাঙ্গাল উপাদান রয়েছে যা চুলের খুশকি দূর করতে সহায়তা করে। এক্ষেত্রে নিয়ম হল নিম পাতা পানিতে ফুটিয়ে সেই পানি ঠান্ডা করে মাথা ধুয়ে ফেলতে হবে। এভাবে এক মাস ব্যবহার করলে মাথার খুশকি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
নিম পাতা চুল পড়া বন্ধ করেঃ নিম পাতা ব্যবহারের ফলে মাথার ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি হয়। যার কারণে মাথার চুল পড়া কমায়। এক্ষেত্রে নিয়ম হলো নিয়মিত এক মাস ধরে নিমের তেল মাথায় ব্যবহার করতে হবে। ব্যবহারের ফলে চুল পড়ার পরিমাণ আস্তে আস্তে কমে যায়।
চুলের উজ্জলতা বৃদ্ধি করেঃ নিম পাতা ব্যবহারের ফলে চুলের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে এবং চুল সিল্কি ও কালো হয়। এক্ষেত্রে নিয়ম হলো নিম পাতা পেস্ট করে বাটারের সাথে মিশিয়ে মাথায় ব্যবহার করতে হবে এবং ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে। এভাবে একমাস ব্যবহার করলে চুল উজ্জ্বল, সিলকি, ও কালো হয়।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করেঃ নিয়মিত নিম পাতা ব্যবহারের ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। নিম পাতা ব্যবহারের ফলে শরীরের এন্টি বডি গুলো উন্নত হয়। যার কারণে বিভিন্ন রোগে আক্রান্তের হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। এক্ষেত্রে প্রতিদিন খালি পেটে নিমের পাতার রস খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি হয়।
ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ করেঃ নিম পাতা ব্যবহারের ফলে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের বাহক মশা নিরাময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এক্ষেত্রে নিম পাতা পুড়িয়ে ধোঁয়া ব্যবহারের ফলে মশা মরে যায়। তার কারণে মশা থেকে এবং মশাবাহিত রোগ ম্যালেরিয়া থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করেঃ নিম পাতায় অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল গুন রয়েছে। যার কারণে নিম পাতা ব্যবহারের ফলে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া সংক্রান্ত রোগ প্রতিরোধ করে। এক্ষেত্রে নিম পাতা পানির সহযোগে ফুটিয়ে সেই পানি পান করতে হবে। এছাড়া নিয়মিত নিম পাতার রস খাওয়া যেতে পারে।
পাকস্থলী স্বাস্থ্যকর রাখেঃ নিম পাতা ব্যবহারের ফলে পাকস্থলীর অম্লতা কমিয়ে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করে। নিম পাতা অন্ত্রের বিভিন্ন রকম ক্ষতিকর জিবানু দূর করে অন্ত্র স্বাস্থ্যকর রাখে। কোষ্ঠকাঠিন্যতা দূর করে।
অন্ত্র থেকে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দূর করে উপকারী ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করে। এক্ষেত্রে খালি পেটে নিম পাতার রস খাওয়া যেতে পারে। খালি পেটে তিন থেকে চারটি নিমপাতা চিবিয়ে খেতে পারেন।
নিম পাতা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করেঃ নিম পাতা ব্যবহার করার ফলে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ হয় এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে। এছাড়া ডায়াবেটিস জনিত সংক্রমণ এবং প্রদাহ কমাতে নিমপাতা ব্যবহার করা যায়। এক্ষেত্রে নিয়ম হলো প্রতিদিন সকালে খালি পেটে নিমপাতার রস খেতে হবে।
নিম পাতা ফুটিয়ে উক্ত পানি নিয়মিত পান করতে পারেন। এছাড়া এক চামচ করে নিমপাতার রস নিয়মিত চার মাস খালি পেটে সেবন করলে ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
নিম পাতা ওজন কমাতে সহায়তা করেঃ নিম পাতা ব্যবহারের ফলে শরীর থেকে টক্সিন ও ক্ষতিকর কোলেস্টেরল অপসারিত করে মেটাবলিজম শক্তি বৃদ্ধি করে। যার কারণে নিয়মিত সকালে খালি পেটে নিমপাতার পানি পান করতে হবে। নিম পাতার পানি খালি পেটে খাওয়ার ফলে তার ডিটক্সিফায়ার হিসেবে কাজ করে শরীরকে দূষিত পদার্থ থেকে রক্ষা করে।
নিম পাতা বিভিন্ন সংক্রমণ ও ক্ষত প্রতিরোধ করেঃ শরীরের কোথাও ক্ষত হলে নিমপাতা ব্যবহারের ফলে সে ক্ষত ভালো করা যায়। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন সংক্রামন, পোড়া, কেটে যাওয়া, ঘা, ভালো করতে নিমপাতা ব্যবহার করা যায়। নিম পাতা পেস্ট করে ক্ষত অথবা পোড়া ও কেটে যাওয়ার জায়গায় ব্যবহার করতে হবে। এক সপ্তাহ ব্যবহার করলে এগুলো সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
নিম পাতার রস খাওয়ার নিয়ম
আজকের আর্টিকেল নিম পাতা দিয়ে গোসল করার উপকারিতা। স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্য নিম পাতা বিভিন্নভাবে খাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে নিমপাতা ডাল থেকে ছরিয়ে নিয়ে ভালো করে পেস্ট করতে হবে এরপর ছোট ছোট বড়ি বানিয়ে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। বড়ি শুকিয়ে নিয়ে কাচের পাত্রে রেখে সংরক্ষণ করা যায়।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এগুলো বড়ি প্রতিদিন খালি পেটে খাওয়া যেতে পারে। নিম পাতা পেস্ট করে রস বাহির করে প্রতিদিন এক চামচ রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এভাবে খেলে রক্ত পরিষ্কার হবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। প্রতিদিন সকালে নিমপাতা পানি দিয়ে ফুটিয়ে সেই পানি খালি পেটে খাওয়া যেতে পারে।
প্রতিদিন সকালে তিন থেকে চারটি নিমপাতা খালি পেটে চিবিয়ে খাওয়া যেতে পারে। নিম পাতার রস চিনি অথবা মিছরির সঙ্গে মিশিয়ে খেলে কাশি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। নিম পাতা শাকের মতো করে রান্না করে খাওয়া যায়। নিম পাতার শাক খাওয়ার ফলে মুখের রুচি বৃদ্ধি হয় এবং হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি হয়। শরীরের সংক্রমণ দূর করতে নিম পাতা দিয়ে গোসল করতে পারেন।
এছাড়া বিভিন্ন ক্ষত, কেটে যাওয়া, অথবা পুড়ে যাওয়া চিকিৎসা করতে নিম পাতা বেটে উক্ত পোড়া অথবা ক্ষত জায়গায় ব্যবহার করলে সাত দিনের মধ্যে ভালো হয়। নিম পাতার রস বাটারের সঙ্গে মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বক উজ্জ্বল ও মোলায়েম হয়।
নিমের বিজ দিয়ে তেল তৈরি করলে সে তেল ব্যবহারের ফলে মাথার চুল সিল্কি, উজ্জল, ও কালো হয়। সর্বোপরি নিমের পাতার রস ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন স্বাস্থ্যের উপকারিতা গ্রহণ করা যেতে পারে।
নিম পাতার অপকারিতা
আজকের আর্টিকেল নিম পাতা দিয়ে গোসল করার উপকারিতা। নিম পাতার অনেক উপকারিতার সঙ্গে সঙ্গে কিছু অপকারিতা দিক রয়েছে। যার কারণে নিম পাতার অপকারিতা গুলো জেনে সতর্কভাবে নিমপাতা ব্যবহার করা প্রয়োজন। নিম পাতার অপকারিতা গুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলোঃ
*কোন ব্যক্তির কিডনি ও লিভারের সমস্যা থাকলে নিমপাতা ব্যবহার করতে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
*নিম পাতা ব্যবহারের সময় এলার্জি বৃদ্ধি হলে নিম পাতা ব্যবহার কমানো প্রয়োজন।
*নিম পাতা গর্ভবতী নারীদের ব্যবহার না করাই ভালো। যদি ব্যবহার করতে চান চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
*বিবাহিত নারী পুরুষ যারা সন্তান চাচ্ছেন তাদের জন্য নিম পাতার ব্যবহার না করাই ভালো।
*অতিরিক্ত নিম পাতা খেলে পেটের সমস্যা হতে পারে। এজন্য অতিরিক্ত নিমপাতা খাওয়া থেকে সতর্ক থাকতে হবে।
*নিম পাতা খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
লেখক এর মন্তব্য
সুপ্রিয় পাঠক বন্ধুগণ নিম পাতা দিয়ে গোসল করার উপকারিতা বিষয়ে আজকের আর্টিকেল লেখা হল। আজকের আর্টিকেলে খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে কি উপকার হয় সে বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। এছাড়া নিম পাতার বিভিন্ন উপকারিতা আলোচনা করা হয়েছে। নিম পাতা দিয়ে প্রায় ২২টির ও বেশি রোগের চিকিৎসা করা হয়।
যার কারণে নিমপাতা আমাদের বিভিন্ন ঔষধি ও স্বাস্থ্য উপকারিতা। নিম পাতা ব্যাপারে জানতে আজকের আর্টিকেল ভিজিট করুন। আশাকরি আপনাদের ভালো লাগবে এবং উপকৃত হবেন। কোন কিছু জানার থাকলে কমেন্ট বক্সে জানাবেন। ভালো লাগলে বন্ধুদের মাঝে লাইক কমেন্ট ও শেয়ার করবেন।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url