দেশের বাজারে বিওয়াইডি গাড়ির দাম কত
দেশের বাজারে বিওয়াইডি গাড়ির দাম কত এ বিষয়ে আজকের আর্টিকেল লেখা শুরু করলাম। এছাড়াও আরো লেখা হবে ইলেকট্রিক কার বাংলাদেশ বাংলাদেশের প্রথম ইলেকট্রিক গাড়ির নাম ২০২৪ সালে যেসব ইলেকট্রিক গাড়ি আসছে। পরিবেশ দূষণের কারণে বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের পরিমাণ বেড়ে গেছে।
এছাড়াও দূষিত বায়ুর প্রথম শ্রেণীর দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ একটি। যার কারনে দূষণ রোধ করার জন্য ইলেকট্রিক গাড়ি ব্যবহার করা প্রয়োজন। গাড়ির ব্যাপারে জানতে আমাদের সঙ্গে থাকুন
ভূমিকা
সুপ্রিয় পাঠক বৃন্দ আজকের আর্টিকেল দেশের বাজারে বিওয়াইডি গাড়ির দাম কত। বাংলাদেশের পরিবেশ দূষণ রোধ করার জন্য পেট্রোল ডিজেল ও সিএনজি চালিত গাড়ির পরিবর্তে ইলেকট্রিক গাড়ি ব্যবহার করা প্রয়োজন। ইলেকট্রিক গাড়ি ব্যবহারের ফলে বায়ু দূষণের পরিমাণ কমবে।
আর ও পড়ুনঃথ্যালাসেমিয়া রোগ প্রতিকারের ঘরোয়া উপায়
পেট্রোল ডিজেল ও সিএনজির উপর নির্ভরশীলতা অনুরূপভাবে কমে আসবে। যার কারণে বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বে ইলেকট্রিক গাড়ির চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। বাংলাদেশেও ইলেকট্রিক গাড়ির চাহিদা বেড়ে গেছে।
যার জন্য বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ১২১ একর জমি নিয়ে ইলেকট্রিক গাড়ির কারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। যেখানে বিনিয়োগ করা হবে ১৪৪০ কোটি টাকা। এই কারখানাটি চালু হলে মধ্যবিত্তদের হাতের নাগালে ইলেকট্রিক গাড়ি গুলো চলে আসবে।
ইলেকট্রিক কার বাংলাদেশ
আজকের আর্টিকেল দেশের বাজারে বিওয়াইডি গাড়ির দাম কত। দেশে জ্বালানি তেলের দাম এবং সিএনজির দামের কারণে ইলেকট্রিক গাড়ির চাহিদা বেড়ে গেছে। এছাড়াও বায়ু দূষণ রোধে আমাদেরকে ব্যাটারি চালিত গাড়ি ব্যবহার করা অত্যন্ত প্রয়োজন। প্রতিবেশী ভারতের মত আমাদের দেশেও ইলেকট্রিক গাড়ি উৎপাদনের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মিরসরাই বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরীতে ১২১ একর জমির উপর ইলেকট্রিক গাড়ির কারখানা গড়ে তোলার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ। এ কারখানায় বিনিয়োগ করা হবে ১৪৪০ কোটি টাকা। উদ্যোক্তাগণ এবং বাংলাদেশের দশটি ব্যাংক মিলে এ কারখানায় বিনিয়োগ করা হবে।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের চাইতে বাংলাদেশে ব্যাটারি চালিত গাড়ির সংখ্যার দিক দিয়ে পিছিয়ে আছে। এই কারণে বাংলাদেশে ব্যাটারী চালিত গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য কোমর বেঁধে নেমেছেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো। শুধু চাহিদার কথা বিবেচনা নয়।
দেশের দূষণমুক্ত পরিবেশ রক্ষার জন্য ব্যাটারী চালিত গাড়ি ব্যবহার করা প্রয়োজন। আমাদের দেশের জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যা অনেক বেশি। যার কারণে প্রতিবছরই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয় আমাদের এই দেশ বাংলাদেশ।
গ্লোবাল ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স ২০২১ সাল এর রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে সপ্তম স্থানে রয়েছে। এছাড়াও আমাদের দেশে কার্বন এমিশনের বৃদ্ধির কারণে অত্যন্ত দুশ্চিন্তার কারণ হয়েছে। এজন্য প্রাকৃতিক দূষণ ঠেকাতে ইলেকট্রিক গাড়ি এর দিকে বেশি নজর দেওয়া প্রয়োজন।
আমরা যার যার জায়গা থেকে পেট্রোল অথবা সিএনজি চালিত গাড়ির পরিবর্তে ইলেকট্রিক গাড়ি ব্যবহারের জোর দিই তাহলে দেশে দূষণের হাত থেকে অনেকটাই রক্ষা পাবো।
দেশের বাজারে বিওয়াইডি গাড়ির দাম কত
চীনের সেনজেনভিত্তিক বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিল্ড ইয়োর ড্রিমস বা বিওয়াইডির বিদ্যুৎ চালিত গাড়ি বিওয়াইডি সিল গাড়ি গত মার্চ মাসে দেশের বাজারে সিজি রানার বাংলাদেশ লিমিটেড আমদানি করেছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি সেডান মডেলের প্রিমিয়াম বিওয়াইডি সিলের দুটি সংস্করন চালু করেছে।
আর ও পড়ুনঃমুগ ডাউলের স্প্রাউট খাওয়ার উপকারিতা
গত ৬ এপ্রিল ২০২৪ সালে বিওয়াইডি সিলের দুটি মডেলের গাড়ির মূল্য নির্ধারণ করেছে এই প্রতিষ্ঠান। বিওয়াইডি এক্সটেন্ডেড রেঞ্জের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা। বিওয়াইডি পারফরম্যান্স মডেলের গাড়ির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৯ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা।
বিওয়াইডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এর দাম নির্ধারণের তথ্য জানানো হয়েছে। যারা এ গাড়িটি ক্রয় করতে ইচ্ছুক তারা এই গাড়ির জন্য অর্ডার করতে পারেন। এছাড়াও গাড়ি ক্রয়ের পূর্বে পরীক্ষামূলক এই গাড়ি চালানোর ব্যবস্থা রয়েছে। আজকের আর্টিকেল দেশের বাজারে বিওয়াইডি গাড়ির দাম কত।
টেস্ট ড্রাইভ করতে এই প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এক লক্ষ টাকা থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা এর মধ্যে বিওয়াইডি গাড়ির দুটি মডেলের যেকোনো একটি অর্ডার করা যাবে। এছাড়াও যাহারা ৫০ভাগ মূল্য অগ্রিম দিয়ে অর্ডার করতে চান তাদের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশনের জন্য বিশেষ সুবিধা থাকবে।
এছাড়াও ৫০ ভাগ অগ্রিম দিয়ে অর্ডার করা প্রথম পাঁচজন ক্রেতার নিবন্ধন ফি দিতে হবে না। বিওয়াইডি গাড়ির আগ্রহী ক্রেতাগণ রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় বিওয়াইডি পরিবেশক সিজি রানার বাংলাদেশ লিমিটেড এর নিজস্ব বিক্রয় কেন্দ্রে যেয়ে গাড়ি কেনার অর্ডার করতে পারবেন।
দেশে এখনো চার্জিং স্টেশনের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠেনি। যার কারণে প্রথমে ঢাকা শহরের বাহিরে চার্জিং নিয়ে একটু ভোগান্তি পড়তে হবে। বর্তমানে দেশে তিনটি ইভি চার্জিং স্টেশন রয়েছে যেগুলো সবটি রাজধানী ঢাকাতে রয়েছে।
তবে খুব তাড়াতাড়ি সারাদেশ বৈদ্যুতিক গাড়ি নেটওয়ার্ক তৈরির জন্য দেশে ইভি ব্যবসায়ীরা চার্জিং নেটওয়ার্ক তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছেন।
বাংলাদেশের প্রথম ইলেকট্রিক গাড়ির নাম
বাংলাদেশের প্রথম ইলেকট্রিক গাড়ি হল পালকি মোটরস লিমিটেড তৈরি করেছে যা খুব তাড়াতাড়ি অর্ডার নেওয়া শুরু হবে। প্রথম পালকি মটরস ইলেকট্রিক গাড়ি বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গী করতে চায়। পালকি গাড়ি তৈরি করা হয়েছে সাধারণত মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত লোকদের জন্য।
সহজে পালকি ইলেকট্রিক গাড়ি ক্রয় করে ব্যবহারের মাধ্যমে প্রাকৃতিক দূষণ রোধ করতে পারবেন। পালকি গাড়িটি সন্তান অথবা প্রিয় জনকে উপহার দিতে পারবেন কারণ এই ইলেকট্রিক গাড়িটির সবার পছন্দ। এছাড়াও এই ইলেকট্রিক গাড়িটির ব্যবহার করা সবার জন্য আরামদায়ক।
কাছাকাছি অফিস করা অথবা বিভিন্ন ব্যবসায়িক কাজে পালকি গাড়ি ব্যবহারের জুড়ি নেই। প্রথম ইলেকট্রিক পালকি গাড়ির মডেলের নাম সিটিবয়। এই গাড়িটি দেখতে অনেক ছোট কিন্তু ভিতরে জায়গা অনেক বেশি। গাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত সুবিধা গুলো পাবেন।
*প্রতি কিলোমিটারে খরচ মাত্র ৩৫ পয়সা পয়সা। কারণে অনেক কম খরচে যাতায়াত করতে পারবেন।
*গরমে স্বস্তি দেওয়ার জন্য এয়ারকন্ডিশন ব্যবস্থা রয়েছে। এটা মাস্ট একটা ফিচার। যার কারণে গরমের মধ্যেও চলাফেরা সমস্যা হবে না।
*এক চার্জে ১৫০ কিলোমিটার চলবে। এছাড়াও ৮ঘন্টায় ফুল চার্জ করা যাবে। যদি কাছের অফিস হয় এবং প্রতিদিন ২০ কিলোমিটার করে চালানো গেলে ৫ দিন এক চার্জে চালানো যাবে।
*মোট সিট ডাইভার সহ চারটি। এছাড়াও নিজে গাড়ি চালালে আরেক জনকে সামনে বসানো যাবে।
*পিছনে BBQ করার সরঞ্জাম নিয়ে পিকনিকে যাওয়া যাবে।
*গাড়ির স্পিড থাকবে ঘন্টায় ৫০ কিলোমিটার যার কারণে চলাফেরায় কোন রিস্ক থাকবেনা।
*এই গাড়িটি ক্রয় করলে বি আর টি এ থেকে রেজিস্ট্রেশন করতে সহায়তা করা হবে। রেজিস্ট্রেশনের দায়িত্ব পালকি কোম্পানি নিবে।
পালকি গাড়ি কেনার প্রথম শর্ত হলো টেস্ট ড্রাইভ করতে হবে। টেস্ট ড্রাইভ এর মাধ্যমে আপনি যদি সিদ্ধান্ত নেন পালকি গাড়ি নিবেন তাহলে অর্ডার করতে পারেন। আর যদি পছন্দ না হয় তাহলে এ গাড়ি ক্রয় থেকে বিরত থাকবেন। তোল এই গাড়ির ড্রাইভ করে আপনি নিজস্ব মতামতের সিদ্ধান্ত ভিত্তিতে ক্রয় করবেন।
২০২৪ সালে যেসব ইলেকট্রিক গাড়ি আসছে
দেশের বাজারে আস্তে আস্তে ইলেকট্রিক গাড়ির চাহিদা বাড়তেছে। তার কারণে আস্তে আস্তে বিভিন্ন অটোমোবাইলস কোম্পানিগুলো বিভিন্ন মানসম্মত গাড়ি আমদানি করতেছে। পেট্রোল ডিজেল ও সিএনজির চাহিদা কমাতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে ইলেকট্রিক গাড়ি গুলোর কদর বাড়তেছে।
আর ও পড়ুনঃকোন ভিটামিনের অভাবে ভালবাসা রোগ হয়
যার কারণে দেশে বিভিন্ন রকম ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানি করা হচ্ছে। আজকের আর্টিকেল দেশের বাজারে বিওয়াইডি গাড়ির দাম কত। ২০২৪ সালে যেসব ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানি হচ্ছে তার বিবরণ।
টাটা ইলেকট্রিক কারঃ ভারতীয় মোটরযান নির্মাতা এবং অন্যতম কোম্পানি টাটা ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানিতে সাফল্য অর্জন করেছে। আমাদের বাজারে এ পর্যন্ত এই কোম্পানি বেশ কয়েকটি মডেলের সাশ্রয় দামে ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানি করেছে।
সামনে আরো ভালো ভালো মডেলের গাড়ি টাটা কোম্পানি আমদানি করবে বলে প্রতিশ্রুত বদ্ধ। এ ছাড়া টাটা কোম্পানির গাড়ির মূল্য থাকবে সাধ্যের মধ্যেই।
কার্ভ ইভিঃ ইতিমধ্যে আমাদের প্রতীক্ষিত এই গাড়িটি টাটা মোটরযান বিভিন্নভাবে পরীক্ষা শুরু করেছে। বিশ্বের বড় বড় মোটরযান কোম্পানিকে টেক্কা দিতে আধুনিক ডিজাইনের অভিযাত সম্পন্ন ইলেকট্রিক গাড়ি কার্ভ ইভি।
এই ইলেকট্রিক গাড়ি ফুল চার্জের ৪০০ কিলো মিটার থেকে ৫০০ কিলোমিটার চলবে। টাটা কার্ভ ইভি ব্যাটারির পাশাপাশি পেট্রোল ইঞ্জিন থাকবে। খুব তাড়াতাড়ি আমাদের মাঝে এ গাড়ি আমদানি হবে।
মাহিন্দ্রাএক্স ইউভি ই৮ঃ মাহিন্দ্রা কোম্পানির এই গাড়িটি বাজারে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রাফ অ্যান্ড টাফ লুকের সঙ্গে প্রিমিয়াম ফিচার্স এবং ডিজাইন রাখা হচ্ছে এই গাড়িতে। এক্স ইউ ভির দুনিয়ায় মাহিন্দ্রার জনপ্রিয়তা কে এগিয়ে নিয়ে যেতে চলেছে এই গাড়ি। ফুল চার্জে এ গাড়ি ৪৫০ কিলোমিটার চলবে। গাড়িটি ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসের দিকে বাংলাদেশের লঞ্চ হতে পারে।
সিয়েরা ইভিঃ টাটা মোটরসের আরেকটি ইলেকট্রিক গাড়ি হল সিয়েরা ইভি। টাটা মোটরযানের এই গাড়িটি ইলেকট্রিক গাড়ির বাজারে বড় চমক নিয়ে হাজির হচ্ছে। হ্যারিয়ার ও সাফারির মত একটা লোক এবং শক্তিশালী ব্যাটারি প্যাক নিয়ে আসতেছে চার চাকার এই গাড়িটি।
এছাড়াও খুব তাড়াতাড়ি আমাদের মাঝে আসতেছে মারুতি ইভিএক্স, কিয়া ইভি৯ ইলেকট্রিক গাড়ি, হোন্ডা টয়োটা ও আরো বিভিন্ন মডেলের ইলেকট্রিক গাড়ি বাজারে আসবে।
লেখক এর মন্তব্য
প্রিয় পাঠক বৃন্দ দেশের বাজারে বিওয়াইডি গাড়ির দাম কত এ বিষয়ে আজকের আর্টিকেল লেখা হয়েছে। আপনারা জানতে পারবেন বাংলাদেশের প্রথম ইলেকট্রিক গাড়ির নাম। ২০২৪ সালে যে সব ইলেকট্রিক গাড়ি আসছে। বায়ু দূষণের কারণে ইলেকট্রিক গাড়ির চাহিদা দিন দিন আমাদের দেশে বেড়ে যাচ্ছে।
ইলেকট্রিক গাড়ি সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য জানতে আজকের আর্টিকেলটি ভিজিট করুন। আশা করি আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যাপারে যাবতীয় তথ্য জানতে পারবেন এবং উপকৃত হবেন। ভালো লাগলে বন্ধুদের মাঝে লাইক কমেন্ট ও শেয়ার করবেন।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url