মুগ ডাউলের স্প্রাউট খাওয়ার উপকারিতা

সুপ্রিয় পাঠক বন্ধুগণ মুগ ডালের স্প্রাউট খাওয়ার উপকারিতা বিষয়ে আজকের আর্টিকেল লেখা শুরু করলাম। স্প্রাউট হল মুগ ডাল অঙ্কুরিত করে খাওয়ার উপযোগী করা।
স্প্রাউট আমাদের দেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী। যাকে বলা হয় সুপার ফুড। স্প্রাউট সম্পর্কে জানতে আজকের সঙ্গে থাকুন।

ভূমিকা

আজকের আর্টিকেল মুগ ডাউলের স্প্রাউট খাওয়ার উপকারিতা। মুগ ডাউল ভিজিয়ে অঙ্কুরিত করার প্রক্রিয়াকেই স্প্রাউট বলা হয়। পূর্ব ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় মুগ ডাউল উৎপন্ন করে স্প্রাউট তৈরি করে খাওয়া হয়। পূর্ব ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় এই খাবার অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং পুষ্টিকর। এছাড়াও চাইনিজদের কাছে ইহা জনপ্রিয় খাবার।
স্প্রাউট কাঁচা অবস্থায়, সুপ করে, ও বিভিন্ন সবজি হিসাবে রান্না করে খাওয়া যায়। যে খাবার অত্যন্ত পুষ্টিকর যাকে সুপারফুট বলা হয়। আমাদের দেশে মুগ ডাল থেকে স্প্রাউট তৈরি করে বিভিন্ন উন্নত ধরনের রেস্টুরেন্টে বিভিন্ন ধরনের খাবার তৈরি করা হয়। স্প্রাউট সম্পর্কে জানতে আজকের আর্টিকেলের সঙ্গে থাকুন।

কাঁচা মুগ ডালের স্প্রাউট কীভাবে প্রস্তুত করবেন

আজকের আর্টিকেল মুগ ডাউলের স্প্রাউট খাওয়ার উপকারিতা। পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ খাবার এবং ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী খাবার মুগ ডাউলের স্প্রাউট খুব সহজে তৈরি করা যায়। এছাড়া যাদের গ্যাস্ট্রিক রয়েছে পেট পরিষ্কার হয় না এই খাবার খেলে পেট পরিষ্কার হবে এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কমে যাবে।

এছাড়া স্প্রাউট খাওয়ার মাধ্যমে শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ অর্থাৎ টক্সিন বাহির হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড সাইন্টিষ্ট গনের মতে এক কাপ মুগ ডালের স্পাউটে মাত্র ৩১ ক্যালরি আছে। এটাতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ম্যাঙ্গানিজ, ম্যাগনেসিয়াম, ফলেট, ফসফরাস এবং প্রোটিনের মত প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান।

গবেষক গনের মতে এতে রয়েছে উচ্চ পরিমানে প্রয়োজনীয় অ্যামিনো এসিড। যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ও রক্ত সঞ্চালন নিয়ন্ত্রণ করে। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ১০০ ভাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে বলে ডায়াবেটিস রোগীরা এটা খেলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি হয় না।স্প্রাউট তৈরি করতে সাধারণত মুগ ডাউল নেওয়া হয়।

প্রথমে মুগ ডাউল ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। এরপরে মুগ ডাউল হালকা পানি দিয়ে ৬ থেকে ৮ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। ৬ থেকে ৮ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখার পরে পানি ফেলে দিলে দেখা যাবে বীজগুলো ফেটে গেছে। এ অবস্থায় বীজগুলো একটি তাওয়ালের উপরে বিছিয়ে দিতে হবে ও বিজের উপর তাওয়াল দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।

এরপর তাওয়াল একটু চাপা দিয়ে রাখতে হবে। একদিন পরে দেখা যাবে ছোট ছোট অঙ্কুর হয়েছে। হালকা পানি দিয়ে দ্বিতীয় দিন রেখে দিয়ে পরে দেখা যাবে অংকুর আরো একটু বড় হয়েছে। এভাবে তিন থেকে চার দিন রেখে দিতে হবে। চার দিনের বেশি রাখলে স্পাউটের খাদ্য উপাদান কমে যাবে। চারদিন রাখার পরে স্প্রাউট গুলো তাওয়াল থেকে ভালো করে তুলে নিতে হবে।

স্প্রাউট শিকর সহ তুলে একটি পাত্রে রেখে ফ্রিজ জাত করে তিন থেকে চারদিন খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া বাণিজ্যিকভাবে বেশি করে মুগডাল ভিজিয়ে অনুরূপভাবে স্পাউট করা যেতে পারে। বাণিজ্যিকভাবে মুগ ডালের স্পাউট তৈরি করার ক্ষেত্রে প্লাস্টিকের ডিভাইস পাওয়া যায়। ডিভাইস দিয়ে ৫ থেকে ৭ কেজি পর্যন্ত স্প্রাউট তৈরি করা যায়।

এক্ষেত্রে মুগ ডাউল ৬ থেকে ৮ ঘন্টা ভিজিয়ে প্লাস্টিকের ডিভাইসে ছড়িয়ে দিতে হবে। প্লাস্টিকের ডিভাইসে মুগ ডাউল রাখার পরে উপরে তাওয়াল দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। পূর্বের মতই দেখা যাবে প্রথম দিন একটু বড় হয়েছে। দ্বিতীয় দিন আর একটু বড় হয়েছে।

তৃতীয় দিন আর একটু বড় হয়েছে। চতুর্থ দিন খাওয়ার উপযোগী হয়েছে। ডিভাইস থেকে স্পাউট গুলো তুলে শিকড় সহ খাওয়ার জন্য ব্যবহার করা যাবে। স্প্রাউট তৈরি করা অনেক সহজ কিন্তু উপকারিতা অনেক বেশি।

মুগ ডাউলের স্প্রাউট খাওয়ার উপকারিতা

আমাদের পেট খারাপ হলে সাধারণত আমরা মুগ ডাউলের খিচুড়ি খাই। মুগ ডাউলের স্প্রাউট আমাদের পেটের জন্য অনেক ভালো। মুগ ডাউলের স্প্রাউটে থাকে পর্যাপ্ত ফাইবার, কপার, ফোলেট, রিবোফ্লোবিন, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন বি৬ থায়ামিনের মত উপাদান যা আমাদের শরীরে কাজে লাগে।
মুগ ডাউলের স্প্রাউটে ক্যালোরি কম কিন্তু প্রচুর ফাইবার থাকে। এছাড়া পর্যাপ্ত এন্টি অক্সিজেন থাকে যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। মুগ ডালের স্প্রাউট খাওয়ার উপকারিতা আলোচনা করা হলো।

হার্টের স্বাস্থ্য ভালো থাকেঃ মুগ ডালের স্প্রাউটে ফাইটোক্যমিক্যাল গুলো হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। স্প্রাউট খেলে রক্তের শর্করার মাত্রার নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া স্প্রাউটে পর্যাপ্ত পটাশিয়াম ও ভিটামিন সি রয়েছে। স্প্রাউটে থাকা পটাশিয়াম রক্তনালিকাগুলো প্রসারিত করে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে।

যার কারণে হার্টের ব্লক হওয়ার সমস্যা থেকে বাঁচা যায়। এছাড়া স্প্রাউটে পর্যাপ্ত এন্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা হার্টের ক্ষতিকর বস্তুকে অপসারিত করে। যার কারণে হার্টের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।

মানসিকভাবে উদ্যমি করে তোলেঃ অঙ্কুরিত মুগ ডাল শারীরিক শক্তি বৃদ্ধির ভালো উৎস। যার শারীরিক ক্রিয়াকলাপে পর্যাপ্ত শক্তি যোগায়। নিয়মিত স্প্রাউট খেলে শরীর থেকে টক্সিন বাহির হয়। এ ছাড়া স্পাউট খাওয়ার মাধ্যমে পেট পরিষ্কার হয়। যার কারনে নিয়মিত স্প্রাউট খাওয়ার ফলে শরীর উদ্যমী হয়।

প্রতিটা কাজে স্মার্টনেস আসে। এছাড়া স্প্রাউট খাওয়ার ফলে গ্যাস্ট্রিকের মত সমস্যা থাকে না। নিয়মিত স্প্রাউট খেলে রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে। যার কারণে মন ও মেজাজ অনেক ভালো থাকে।

ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকেঃ স্প্রাউট খাওয়ার বড় উপকারিতা হলো প্রাউড খাওয়ার উপকারিতা সরাসরি ত্বক ও চুলে পৌছাতে পারে। স্পাউটে পর্যাপ্ত ভিটামিন সি ফাইবার ও পটাশিয়াম রয়েছে। ভিটামিন সি শরীর থেকে টক্সিন বাহির করে চুল ও ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

এছাড়া স্ক্রা উঠে থাকা এন্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে মোলায়েম রাখে ও চুলের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। যার কারনে নিয়মিত স্প্রাউট আমাদের জন্য খাওয়া প্রয়োজন।

পেশির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করেঃ মুগ ডালের স্কাউট এ পর্যাপ্ত ম্যাগনেসিয়াম ও ফসফরাস রয়েছে যা পেশির স্বাস্থ্য ভালো রাখে। যার কারণে নিয়মিত মুগ ডাউলের স্প্রাউট খেলে গায়ের ব্যথা কমে যায়। মুগ ডালের স্পাউটে থাকা ভিটামিন কে শরীরের পেশিকে শক্তিশালী করে। যার কারণে পেশিকে শক্তিশালী করতে নিয়মিত মুগ ডাউল এর স্প্রাউট খাওয়া প্রয়োজন।

হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং ক্ষয় রোধ করেঃ নিয়মিত মুগ ডাউলের স্প্রাউট খাওয়ার মাধ্যমে রক্ত জমাট বাধার ঝুঁকি কমে এবং হাড়ের টিস্যু শক্তিশালী করে হাড়ের ক্ষয় রোধ করে। মুগ ডাউলের স্প্রাউটে পর্যাপ্ত ভিটামিন কে, ম্যাগনেসিয়াম, ও ফসফরাস, রয়েছে। যা হাড় গঠনের সরাসরি ভূমিকা রাখে।

এছাড়া নিয়মিত মুগ ডাউলের স্প্রাউট খাওয়ার মাধ্যমে হাড়ের জয়েন্ট শক্তিশালী হয়। নিয়মিত স্প্রাউট খেলে হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধি হয় এবং বিভিন্ন রকমের রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

পেট পরিষ্কার রাখেঃ পেটের বিভিন্ন রকম সমস্যা ও বদহজম জাতীয় সমস্যা থাকলে নিয়মিত স্প্রাউট খান। নিয়মিত মুহূর্ত খাওয়ার মাধ্যমে পেট পরিষ্কার হয়। কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে তা দূর হয়। এছাড়া এক কাপ স্প্রাউট খাওয়ার মাধ্যমে পেট পরিষ্কার হয় ও পেট থেকে যাবতীয় অপদ্রব্য তাড়াতাড়ি অপসারিত হয়। গ্যাস্ট্রিক আলচার এর সমস্যা থাকে না।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখেঃ যেগুলো ব্যক্তি ওজন কমানোর জন্য বিভিন্ন ডায়েট মেন্টন করেন তারা নিয়মিত মুগডালের স্প্রাউট খেতে পারেন। মুখ ডাউলের স্প্রাউট খাওয়ার ফলে দীর্ঘক্ষণ ধরে পেট ভর্তি থাকে। এছাড়া আমেরিকান জার্নাল অফ কেমিক্যাল নিউট্রিশন এ প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে মুগ ডাউলের স্প্রাউটে পর্যাপ্ত ফাইবার থাকে।

যা অন্ত্রের সকল খারাপ বস্তু অপসারিত হয় ফলে ভালো বিপাকক্রিয়া হয়। যার কারণে শরীরের ওজন কমে যায়।

রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করেঃ অঙ্কুরিত মুগ ডাউলের স্প্রাউটে গ্লাইসোমিক ইনডেক্স অনেক কম। এছাড়া এ খাবারে ফাইবারে পরিমাণ অনেক বেশি। জার্নাল অফ নিউট্রিশন এন্ড মেটাবলিজম এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে নিয়মিত মুগ ডাউলের স্প্রাউট খেলে শরীরের বিপাক ক্রিয়া অনেক বেড়ে যায় এবং টাইপ২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখতে সহায়তা করে।

মুগ ডাউলের স্প্রাউট খাওয়ার নিয়ম

আজকের আর্টিকেল মুখ প্রাউড খাওয়ার উপকারিতা। মুগ ডাউলের স্প্রাউট বিভিন্নভাবে খাওয়া যায়। সরাসরি কাঁচা স্প্রাউট ছোট ছোট করে কেটে লবন মরিচ দিয়ে খাওয়া যায়। এছাড়া মুগ ডাউলের স্প্রাউট সুপ তৈরি করে খাওয়া যায়। সরাসরি হালকা সিদ্ধ করে স্প্রাউট খাওয়া যেতে পারে। অনেকেই সবজি হিসাবে স্প্রাউট ব্যবহার করে খান।
পোলা তৈরি করার সময় স্প্রাউট গুলো ছোট ছোট করে কেটে পোলাতে ব্যবহার করে খেতে অনেক মজা। এছাড়াও স্প্রাউট ছোট ছোট করে কেটে সালাতের মতো কেটে নিয়ে লবণ মরিচ দিয়ে মাখিয়ে খাওয়া যায়। তবে যেভাবে খান না কেন স্প্রাউট নিয়মিত খেলে শারীরিক দিক দিয়ে অনেক উপকারিতা রয়েছে।

এছাড়া যারা ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত নিয়মিত স্প্রাউট খেতে পারেন। নিয়মিত স্প্রাউট খাওয়ার ফলে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ থাকে। একটি পাত্রে মুগ ডালের স্প্রাউট গুলো ছোট ছোট করে কেটে তার সঙ্গে শসা ও টমেটো দিয়ে মিশ্রিত করে খেতে অনেক সুস্বাদু।

স্প্রাউট খাওয়ার মাধ্যমে আমাদের শরীর সরাসরি বিভিন্ন রকম পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করতে পারে। তাই আসুন একটু কষ্ট করে হলেও নিয়মিত স্প্রাউট খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলি।

লেখক এর মন্তব্য

সুপ্রিয় পাঠক বৃন্দ মুগ ডালের স্প্রাউট খাওয়ার উপকারিতা বিষয়ে আজকের আর্টিকেল লেখা হল। মুগ ডালের স্প্রাউট নিয়মিত খেলে শরীরের উল্লেখযোগ্য বিভিন্ন রকম উপকারিতা পাওয়া যায়। বিশেষ করে স্প্রাউট খাওয়ার ফলে যাদের অনেক বেশি ওজন দীর্ঘক্ষণ ধরে খুদা লাগার প্রবণতা কমে যায়।যার ফলে কম খেতে হয়।

এছাড়াও যারা ডায়াবেটিস রোগী নিয়মিত স্প্রাউট খাওয়ার মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ থাকে। এইজন্য স্প্রাউট সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য জানা প্রয়োজন। আশা করি আজকের এই আর্টিকেল থেকে স্প্রাউট সম্পর্কে অনেক ভালো কিছু জানতে পারবেন। আজকের আর্টিকেল ভালো লাগলে বন্ধুদের মাঝে লাইক কমেন্ট ও শেয়ার করবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url